সংবাদ শিরোনাম :
তারানা-সাজু খাদেমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা ঈদগাঁহ থানাকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব করার দাবি উঠছে কক্সবাজারে নানা আয়োজনে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মাঝখানে জিওব্যাগ, সৌন্দর্য্য হারাচ্ছে সৈকতের কক্সবাজারে মূল্যতালিকা না টাঙ্গানো, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মজুদের দায়ে জরিমানা ভূঁইফোড় আর নামধারী কথিত সাংবাদিকদের অপকর্মের শেষ কোথায়? দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক বিশিষ্ঠ ঠিকাদার মোহাম্মদ বেলাল উদ্দীন বেলাল করোনামুক্ত সাংবাদিক নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম : বিব্রত পেশাদার সাংবাদিকরা এসপি মাসুদ হোসাইনকে জেলা কমিউনিটি পুলিশিং এর বিদায়ী সংবর্ধনা
মাদক উদ্ধারে পুলিশের অন্যতম ভূমিকা; দৌরাত্ম্য বাড়ছে ইয়াবা গডফাদারদের

মাদক উদ্ধারে পুলিশের অন্যতম ভূমিকা; দৌরাত্ম্য বাড়ছে ইয়াবা গডফাদারদের

আরিফুল্লাহ নূরী:

দেশের আলোচিত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের ইস্যু নিয়ে চলছে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দপ্তর পর্যন্ত সব জায়গায় প্রতিনিয়ত একটা বিষয় আলোচিত হচ্ছে, কেন নিহত হলো অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা ! সিনহা হত্যাকাণ্ড মামলায় বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি পরিদর্শক লিয়াকত, প্রাক্তন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। মামলার তদন্তে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন র‌্যাব।

বিজ্ঞ আদালত আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুর করলেও এখন পর্যন্ত রিমান্ডে আনা হয়নি ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও প্রাক্তন ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে। গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে প্রশাসনের অডিও বার্তা প্রকাশিত হলেও ধুম্রজাল রয়ে গেছে আরো অনেক কিছুতেই। প্রতিনিয়ত ঘোলাটে হচ্ছে সিনহা হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য। সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে সিনহা হত্যাকাণ্ডের নতুন লাইফ লাইন চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা। এদিকে পুলিশের মামলার সাক্ষীদেরও আটক করা হয়েছে। এভাবেই আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে চলছে সিনহা হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ । তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তাদের সঠিক রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকাশিত হবে আসল সত্য ঘটনা । এটাই জাতির প্রত্যাশা বর্তমান সময়ে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্নভাবে দোষী সাব্যস্ত করে যাচ্ছে একটি মহল। অপরদিকে অন্য আরেকটি মহল পুলিশ সুপারকে নির্দোশ বলে আখ্যায়িত করে যাচ্ছে। পরস্পর বিরোধী মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবিএম মাসুদ হোসেন। ১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সালের জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় অসংখ্য মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জেলা পুলিশের ভূমিকা অন্যতম।

দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকার বিশেষ অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মামলা হয়েছে ১৫১ টি, গ্রেতার ২০০ জন, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের নাম ও মাদকদ্রব্যের পরিমাণ- ইয়াবা-২,৩৩,১১৮ পিস, গুড়া ইয়াবা ৪০ গ্রাম, দেশী মদ ৩৬৯ লিটার, বিয়ার ১৭০ বোতল, ফেন্সিডিল ৬ বোতল, গাঁজা- ২৬.৮৭০ কেজি ৭৭ পুরিয়া, (একটি জিডি মূল্যে পরিত্যক্ত ইয়াবা ৪০ পিস, যার আনুমানিক মূল্য- ৭,০৫,৩০,৫০০ টাকা।
অক্টোবর মাসে মামলা হয়েছে ১১৪ টি আসামি গ্রেফতার ১৫৪ জন। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণ- ইয়াবা ৭,৬৭,১০৩ পিস, দেশী মদ ৫০০ লিটার, গাজা ৭.৭ ৫০ কেজি, একটি জিডি মূলে পরিত্যক্ত দেশী মদ ১০০ লিটার, যার আনুমানিক মূল্য ২৩,০৩, ৫৮,৪০০ টাকা।
নভেম্বর মাসে মামলা হয়েছে ১২৬ টি গ্রেফতারের সংখ্যা ১৬৭ জন। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ইয়াবা ৩,১৬,৬৯৯ পিস। দেশী মদ ৫৮৮ লিটার, বিদেশী মদ দুই বোতল, গাঁজা ২.২৫০ কেজি, ০৮ পুরিয়া। যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৪০০ টাকা।
ডিসেম্বর মাসে মামলা হয়েছে ৯৪ টি, গ্রেফতারের সংখ্যা ১২১ জন। উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ, ইয়াবা ২,২৪,৮৮৪ পিস। দেশী মদ ৩৫ লিটার, বিয়ার ২৪ ক্যান, গাঁজা ২০০ গ্রাম, যার আনুমানিক মূল্য ৬,৭৪,৮৯,৭০০ টাকা।
তারই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টায় ২০১৯ সালেও অসংখ্য মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মামলা হয়েছে ১০৬ টি, গ্রেফতার ১৪৩ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ইয়াবা ১,৬৪,০২০ পিস, দেশী মদ ১২৬ লিটার, বিদেশী মদ ১১ বোতল, গাঁজা ৫.৫০০ কেজি। যার আনুমানিক মূল্য ৪,৯৩,০৯,৮০০ টাকা।
ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার সংখ্যা ১১৮ টি, গ্রেফতার হয়েছে ২৫৪ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ইয়াবা ৪,৪২,২১৫ পিস, দেশী মদ ১০৬ লিটার, গাঁজা ৭.৫১০ কেজি, যার আনুমানিক মূল্য ১৩,২৭,৭১,৪০০ টাকা ।
মার্চ মাসে মামলা হয়েছে ১২০ টি, গ্রেফতারের সংখ্যা ১৫২ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ১,৭৪,১৮৩ পিস, দেশী মদ ৮৭ লিটার, বিদেশী মদ ৪৬ বোতল, বিয়ার ৪০ ক্যান, গাঁজা ১.১৮০ কেজি, যার আনুমানিক মূল্য ৫,২৩,৫৮,৮০০ টাকা।
এপ্রিল মাসে মামলা হয়েছে ১৩৯ টি, গ্রেফতারকৃত ১৮২ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ, ইয়াবা ৪,৪৯,৪১৬ পিস, দেশী মদ ৪৯১ লিটার, বিয়ার ১০ ক্যান, গাঁজা ৩.২০০ কেজি, আনুমানিক মূল্য ১৩,৫০,০৯,১০০ টাকা।
মে মাসে মামলার সংখ্যা ২০৯ টি, গ্রেফতার ১৭৩ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ইয়াবা ২,৬৪,৯৮৩ পিস, দেশী মদ ২২৪৮ লিটার, গাঁজা ২.৭২০ কেজি, আনুমানিক মূল্য ৮,০১,৬৬,৫০০ টাকা।
জুন মাসে মামলার সংখ্যা ১৫৪ টি, গ্রেপ্তার ২৩৪ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ইয়াবা ১,৪৬,৩৫১ পিস, গুড়া – ৭০০ গ্রাম, দেশী মদ ৪৫৫ লিটার, গাঁজা ১.৭৩০ কেজি, আনুমানিক মূল্য ৪,৬১,৫৯,১০০ টাকা।
জুলাই মাসে মামলার সংখ্যা ১৪০, গ্রেফতার ২০৮ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ, ইয়াবা- ১,৭১,০৩৭ পিস, দেশী মদ ৩৫০ লিটার, গাঁজা ৫০০ গ্রাম, আনুমানিক মূল্য ৫,১৪,২১,১০০ টাকা।
আগস্ট মাসে মামলার সংখ্যা ১২১, গ্রেফতার ১৬৮ জন, উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ- ইয়াবা ৮৩,২০৬ পিস, দেশী মদ ৮৭৯.৫০০ লিটার, গাজা ২.৫০০ কেজি, ১০ পুরিয়া, আনুমানিক মূল্য ২,৫২,৫২,১৫০ টাকা।
২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুলাই পর্যন্ত মামলার সংখ্যা, গ্রেফতারকৃত আসামি এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের পরিমাণসহ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে তথ্যনির্ভর ও বিশ্লেষণভাবে প্রকাশ করা হবে।
কক্সবাজার জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকে এবিএম মাসুদ হোসেনের সফল নেতৃত্বে কোণঠাসা হয়ে পড়ে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রচুর পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে অনেক ইয়াবা গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। চলমান মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলে হয়তো কক্সবাজার জেলায় মাদক নির্মূল সম্ভব হয়ে উঠবে বলে জানান সচেতন মহল।
কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের নেতৃত্বে প্রচুর পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হলেও বর্তমান সময়ে ইয়াবা কারবারিরা থেমে নেই। রাজত্ব করে যাচ্ছে কক্সবাজারের জনপদে। বর্তমান সময়ে প্রতিনিয়ত উদ্ধার হচ্ছে অসংখ্য মাদক। মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসন যখন ব্যস্ত সময় পার করছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে কক্সবাজার, উখিয়া, টেকনাফসহ সম্পূর্ণ জেলাতে ব্যাপকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসার রমরমা বাণিজ্য। মাদক কারবারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে কক্সবাজার জেলাবাসীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন রয়েছে।
এডভোকেট মোহাম্মদ জসিম বলেন, মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ড নিয়ে কক্সবাজার জেলায় আলোচনা সমালোচনা থাকলেও মাদকের বিরুদ্ধে যেন অভিযান পরিচালনা বন্ধ না হয়। জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান সত্যিই প্রশংসনীয়, ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলে, পরিশুদ্ধ হবে সমাজ ও দেশ। আমরা কক্সবাজার জেলাবাসী মাদকের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী ১৬ ই ডিসেম্বরের মধ্যে কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত ঘোষণার চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকা চাই। পাশাপাশি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক এটাই প্রত্যাশা।
এ্যাডভোকেট মোঃ ফয়সাল বলেন, চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের সাফল্যতা নিয়ে আসতে অভিযান অব্যাহত থাকতে হবে, সমাজকে পরিশুদ্ধ করার লক্ষ্যে অভিযান এর কোন বিকল্প নেই। মরণনেশা ইয়াবার ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এই অভিযান চালমান থাকুক, এটাই প্রত্যাশা।
কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, জেলা পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে প্রচুর পরিমান মাদক এবং অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন যোগদানের পর থেকে সাফল্যের সাথে মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্র কারবারিদের বিরুদ্ধে কাজ করা যাচ্ছেন। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমেই প্রতিয়মান হচ্ছে মাদক বিরোধী অভিযানের সফলতা।
প্রতিবেদনটি আরো বিস্তারিত দেখতে চোখ রাখুন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৩৩,৪৯৬,৬১৮
সুস্থ
২৪,৮০৫,৩৫০
মৃত্যু
১,০০৫,১২১
সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

dainikcoxsbazarekattor.com © All rights reserved