সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁও’র কৃতি সন্তান শহিদুল ইসলামের পিএইচডি ডিগ্রী লাভ জেনারেল হসপিটালের রোহিঙ্গা কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত নেমেছে সিভিল সার্জন কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেই রোহিঙ্গা কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ সদর খুরুশকুল হামজার ডেইল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম ও ভাংচুর, লুটপাট হোয়াইক্যং ইউপির রইক্ষ্যং’য়ের আবুল ও বাবুল বাহিনীর অপকর্ম থামাবে কে? কক্সবাজার জেলায় সর্বত্র চলছে পাহাড় কাটা ইসলামপুরে জন্মসনদ ও সংশোধনে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন সচিব! স্বাস্থ্যবিধি মেনে হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষাবোর্ড পেকুয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরতদের অন্যত্র সরে যাওয়ার অনুরোধ মাদক সম্রাট জসীম ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক
শহরের সাহিত্যিকা পল্লীর গরুর হালদা এলাকায় দু’টি পাহাড় কেটে তুলার গোডাউন ও ভবন নির্মাণ

শহরের সাহিত্যিকা পল্লীর গরুর হালদা এলাকায় দু’টি পাহাড় কেটে তুলার গোডাউন ও ভবন নির্মাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার শহরে সাহিত্যিকা পল্লীর গরুর হালদা নামক এলাকায় দু’টি অনেক বড় বড় পাহাড় কেটে সমতল করে বড় বড় দালান নির্মাণ করে তুলার গোডাউন করা হয়েছে।

আর অবশিষ্ট যা বাকি আছে সেই পাহাড়ের ওপরের অংশ ন্যাড়া করে উজাড় করা হয়েছে গাছপালা। কয়েকটি পাহাড় কাটা হয়েছে খাড়াভাবে। আর কিছু কাটা হচ্ছে উঁচু চূড়া থেকে। এভাবে হরেক রকম কায়দায় কাটা হচ্ছে কক্সবাজার শহরের পাহাড়। প্রতিনিয়ত পরিবেশের ওপর এই আগ্রাসন চললেও কারও যেন কোন মাথাব্যথা নেই।

স্থানীয়রা জানায়, যেসব পাহাড় পরিকল্পিতভাবে উজাড় করা হয়, বৃষ্টি হলে এসব পাহাড়ের মাটি পানির তোড়ে নিচের দিকে নেমে পড়ে। কয়েক ঘণ্টায় বিশাল পাহাড়ের বেশির ভাগ অংশ ভেঙে যায়। এতে পাহাড় কাটতে আর কম শ্রমিক নিয়োগ করতে হয় । খরচও কম হয়। অপরদিকে কিছু পাহাড় শ্রমিক দিয়ে খাড়াভাবে (উপর থেকে নিচে) কেটে ফেলা হচ্ছে। কেটে ফেলা মাটি ট্রাকবোঝাই করে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। পাহাড়ি মাটি বিক্রি হয় ছড়া দামে। তারপর সমতল পাহাড়ি জমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাহাড়খেকোরা।এসব পাহাড়ি জমিতে গড়ে উঠছে ঘরবাড়ি।

এ ব্যপারে স্হানীয় জনগনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, প্রশাসনের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে ভুমিদস্যুরা পাহাড়ে নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বেশি। বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ি মাটি নেমে এসে শহরের নালা ভরাট হচ্ছে। সড়ক-উপসড়কের ওপর জমছে কাদা। তাছাড়া পাহাড় ধসের ঘটনা বাড়ছে। অন্যান্য পাহাড়ের শক্ত ভীত দুর্বল হয়ে বিলীন হচ্ছে। উজাড় হচ্ছে গাছপালা, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে পাহাড় কাটা বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা আছে। কিন্তু এর বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেই।

গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর সকালে শহরের সাহিত্যিকা পল্লী, পাহাড়তলী, বাদশাঘোনা, এবিসিঘোনা, লাইট হাউস, সার্কিট হাউস ও কলাতলী টিএনটি পাহাড় ঘুরে দেখা গেছে, নানা পদ্ধতিতে উঁচু পাহাড়গুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।

দিন–দুপুরে সাহিত্যিকা পল্লির গরুর হালদা নামক এলাকায় পাহাড় কাটার কারণ জানতে চাইলে শ্রমিক কালু মিয়া (৩২) বলেন, ‘দৈনিক ৭০০টাকা মজুরিতে পাহাড়চূড়া কেটে সমতল করছি। প্রায় একমাস ধরে পাহাড়ের চারপাশের অংশ কেটে সমতল করে তুলার গোডাউনের কাজ করছি। এখন প্রায় শেষের দিকে হলেও কেউ বাধা দিতে আসেনি। তবে তাঁকে কে নিয়োগ করেছেন, তা জানাতে চাইলে তিনি জানান, এটা মদিনা মেট্রেসের মালিক আজগর ও তার ছেলে আসলামের তুলার গোডাউন। তুলার গোডাউনের মালিক আসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে অবৈধ ভাবে পাহাড় কেটে গোডাউন করছেন কেন? জবাবে তিনি বলেন এই জায়গা২০১৪ সালে আমি বোরহান মাষ্টারের কাছ থেকে কিনে নিয়েছি , তাই এই জায়গা আমার জন্য বৈধ।আসলাম আরও জানান, আমি একা পাহাড় কাটছি এটা সত্য নয়, পাহাড় ঘেঁসে খুরশিদা বেগম ও মহেশখালীর ইকবাল সহ আরও অনেকে পাহাড় কেটে সমতল করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া আলি সব সময় পাহাড় কাটে সে দিকে আপনাদের নজর নেই , শুধু আমাকে কেন অপরাধী করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানের জানা যায়, এই পাহাড়ের সামনে অবৈধ ভাবে অনেক পাকা ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে যোগাযোগ ব্যবস্হা ও ভাল পাকা রাস্তা সামনে পিছনে স্কুল কলেজ গড়ে উঠে আবাসিক এলাকায় পরিনত হয়েছে । তাই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে পাহাড়টি কেটে ফেলছেন। বর্তমানে পাহাড়ের প্রতি গন্ডা (দুই শতক) ভূমি ৫ থেকে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্হানীয় সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা জানান, বর্ষা এলেই পাহাড় কাটার মহোৎসব চলে। কারণ, বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ি মাটি দ্রুত নিচে নেমে যায়। এতে একদিকে শ্রমিক খরচ সাশ্রয় হয়, অন্যদিকে লোকজন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। তা ছাড়া সাহিত্যিকা পল্লি এলাকার জমিজমার দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকজন পাহাড় নিধনে নেমেছে।
পরিবেশবাদীরা জানান, শহরের পাহাড়তলী, ইসলামপুর, হালিমাপাড়া, লাইট হাউস, পূর্ব লাইট হাউস, ফাতেরঘোনা, বাদশাঘোনা, ঘোনারপাড়া, দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়া, সাহিত্যিকা পল্লি, কলাতলী সৈকতপাড়া, আর্দশ গ্রাম, কলাতলী পুলিশ লাইনের পেছনে, লারপাড়া, বিডিআর ক্যাম্পের পাশে, ঝিলংজা বিট কার্যালয়ের পাশে পাহাড় কাটা চলছে সমানে। এসব পাহাড়ে ১৫ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি তৈরি করে বসবাস করছে অন্তত আড়াই লাখ মানুষ। এর মধ্যে মিয়ানমারের অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা অন্তত এক লাখ।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের সহকারী পরিচালক সংযোক্তা দাস গুপ্ত বলেন, সাহিত্যিকা পল্লীতে পাহাড় কাটার প্রমান পাওয়া গেলে অপরাধীর বিরুদ্ধে অবশ্যই কটোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত পাঁচ মাসে লাইট হাউস, হিলটপ, পাহাড়তলী ও কলাতলী পাহাড়ে ১৫টির বেশি অভিযান চালিয়ে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ৭১ জন ভূমিদস্যুর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১৩টি মামলা করা হয়েছে। তার পরও পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আগে দিনের বেলায় পাহাড় কাটা হতো। প্রশাসন তৎপর হওয়ায় ভূমিদস্যুরা এখন রাতের বেলায় পাহাড় কাটে।
এব্যাপারে কক্সবাজার সদর সহকারী কমিশনার(ভূমি)শাহরিয়ার মুক্তার বলেন, পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে অভিযান চলমান আছে। খবর পেলে দিনের বেলায় অভিযান চলা যথটুকু সম্ভব রাতে অভিযান চালানো তেমন সম্ভব না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

x