সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁও’র কৃতি সন্তান শহিদুল ইসলামের পিএইচডি ডিগ্রী লাভ জেনারেল হসপিটালের রোহিঙ্গা কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত নেমেছে সিভিল সার্জন কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেই রোহিঙ্গা কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ সদর খুরুশকুল হামজার ডেইল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম ও ভাংচুর, লুটপাট হোয়াইক্যং ইউপির রইক্ষ্যং’য়ের আবুল ও বাবুল বাহিনীর অপকর্ম থামাবে কে? কক্সবাজার জেলায় সর্বত্র চলছে পাহাড় কাটা ইসলামপুরে জন্মসনদ ও সংশোধনে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন সচিব! স্বাস্থ্যবিধি মেনে হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষাবোর্ড পেকুয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরতদের অন্যত্র সরে যাওয়ার অনুরোধ মাদক সম্রাট জসীম ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক
আসছে মাদক, ফিরছে কারবারীরা!

আসছে মাদক, ফিরছে কারবারীরা!

মাদক প্রতিরোধে কক্সবাজার কেন্দ্রিক যৌথবাহিনী গঠন করার দাবী সচেতনমহলের

মুহাম্মদ তাহের নঈম:

জেলার ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসেবে চিহ্নিত উখিয়া-টেকনাফের শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা অভিযানে রয়েছে সম্পূর্ন অধরায়। ‘ভিআইপি’ কারবারিদের গায়ে কোনো আঁচড় লাগেনি এখনো। বিদেশ ফেরত ইয়াবা ডনরা ডজন ডজন মামলা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরছে জেলা উপজেলায়। আদালতের জামিনে কারামুক্ত হয়ে অনেক কারবারী মাদক ব্যবসা আবারো পুরোদমে শুরু করেছে। গডফাদাররা আবারো রাজার হালে চলাচল সহ সম মিলিয়ে জনমনে চরম উদ্বেগ উঠকন্ঠার যেন শেষ নেই। এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন জেলার মাদকের গডফাদাররা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরুর পর চিহ্নিত অনেক মাদক গডফাদার গা-ঢাকা দিলেও এখন তারা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথীল অবস্থা দেখে এলাকায় ফিরে এসেছে। ইতোমধ্যে ফিরে এসেছে উচ্চ আদালতের জামিনে কারামুক্ত হয়ে আত্মসমর্পণ করে বেঁচে যাওয়া ৫ শীর্ষ ইয়াবা কারবারি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কয়েক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে উঠতি বয়সী অনেক যুবক। তাদের মধ্যে অনেকে সময়ে-অসময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে লোক দেখানো আটক হলেও নিয়ন্ত্রণটা তাদের হাতেই থাকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত টেকনাফের শীর্ষ দুয়েকজন ইয়াবা কারবারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হওয়ার আগে তাদের অবৈধ কারবারের পুরো টাকা উখিয়া,টেকনাফের কয়েক ব্যবসায়ীর হাতে রক্ষিত আছে। ওই টাকায় বর্তমানে তারা উখিয়া,টেকনাফের শীর্ষ ব্যবসায়ীর স্থান দখল করে নিয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন প্রভাবশালীদের নিয়মিত যোগাযোগ। কক্সবাজার ও টেকনাফের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও মাদক কারবারিরা অবাধে এই কারবার চালাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশ, একদিকে করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতি, অপরদিকে মেজর সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে বড়ই সুযোগ মনে করছে মাদক কারবারিরা। নিত্যনতুন কৌশলে মাদকের চোরাচালান সীমান্ত অতিক্রম করে,কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজধানীতে পৌছে যাচ্ছে ইয়াবা। করোনার দুর্যোগকালে পাচার কাজ আরো বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রায় দিনই একাধিক চালান উদ্ধার ও বহনকারী গ্রেপ্তার হলেও যেন অপ্রতিরোধ্য মাদক কারবারিরা! করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে সব দেশের সীমান্ত পাহারা এখন অনেকটাই ঢিলেঢালা। এর সুযোগ নিচ্ছে মাদকের কারবারিরা। মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে মূলত ইয়াবার চালান আসছে। সাগর পাহাড় আর সড়কপথে নানা কৌশলে পাচার হচ্ছে এ ভয়ঙ্কর নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা। সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় মাদক হিসেবে ইয়াবার আগ্রাসন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। সরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে মাদকাসক্ত মুক্ত হতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মধ্যে ৮০ শতাংশ ইয়াবায় আসক্ত। দেশের বিরাটসংখ্যক তরুণশক্তি নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি, অথচ প্রতিনিয়ত ইয়াবার নেশায় ধ্বংস হচ্ছে এই তারুণ্য, জাতির ভবিষ্যৎ। তাই তারুণ্যগ্রাসী ইয়াবার বিস্তার এখন জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গ্রাম থেকে শহর পর্যায়ে উঠতি বয়সের তরুণ এবং অভিজাত পরিবারের সকলেই এই নেশায় আসক্ত। মিয়ানমার থেকে মাদকের প্রবেশদ্বার খ্যাত উখিয়া-টেকনাফের সড়ক পথ,নদীপথ, চিহ্নিত পয়েন্ট সমুহ সিসি ক্যামরায় নজরদারী প্রয়োজ বলে স্বচেতন মহল মনে করেন। তারই প্রেক্ষাপটে জেলা পু?লিশ কে নতুনরূপে ঢেলে সাজানো হয়েছে। ব্যাপক রদবদল করা হয় পুলিশে। জানা যায়, কৌশল বদল করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তবে সম্প্রতি পুলিশের অভিযান না থাকায় ইয়াবার দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে, বেড়েছে পাচার। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে গ্রেফতার হয়েছেন ২১ হাজার মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। মামলা হয়েছে ১৫ হাজার। অন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন অনেক। তবু মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছেনা কেন? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। সূত্রে প্রকাশ মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের আগে পাঁচটি সংস্থা পৃথকভাবে তালিকা তৈরি করেছিল। এসব তালিকায় সর্বমোট মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার। ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে সর্বশেষ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তুত করা তালিকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে ৫৫০। এর মধ্যে প্রায় দেড় শ রয়েছেন মদদদাতা। সবচেয়ে বেশি মাদক ব্যবসায়ীর অবস্থান কক্সবাজারে। জেলার টেকনাফ,উখিয়া,কক্সবাজার সদর, রামু,চৌফল দন্ডি,ঈদগাও সহ পুরো জেলায় রয়েছে তালিকার বাইরে হাজার হাজার মাদক কারবারী। বর্তমান সময়ে তালিকায় না থাকা কারবারী রা বেশী তৎপর। বিজ্ঞ মহলের মতে ইয়াবার মতো ভয়ঙ্কর মাদক কোথা থেকে আসছে, কোন পয়েন্ট দিয়ে আসছে তা তো দেশের সবকটি গোয়েন্দা সংস্থা এমনকি সরকারের সর্বোচ্চ মহল পর্যন্ত অবগত। এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কক্সবাজারকেন্দ্রিক একটি যৌথবাহিনী গঠন করা উচিত। যতদিন পর্যন্ত না ইয়াবার প্রবেশ বন্ধ হবে, ততদিন পর্যন্ত ওই যৌথবাহিনী ওই এলাকায় কাজ করবে। এ ছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থা সারা দেশে মাদক স্পট ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন পেশার যেসব ব্যক্তি অনৈতিক সুবিধা বা মাসহারা নেন তাদের তালিকা তৈরি করে। এ তালিকায় মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়দাতাদের নামও উঠে আসে। যদিও তার সিকিভাগও আইনের আওতায় আসেনি। ফলে মাদক স্পটগুলো থেকে তাদের মাসহারা আদায়ও পিছিয়ে নেই। তবে জেলায় শীর্ষ নতুন পুলিশ কর্মকর্তা সহ পুলিশে বড় ধরনের রদবদল হওয়ায় তা আপাতত বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যদের বাচাই করে কক্সবাজার জেলায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একটু সময় গড়ালে ও কক্সবাজারের মানুষ এবার সুফল পাবে। ছাড় পাবেনা কোন কারবারী। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

x