সংবাদ শিরোনাম :
দু’মুঠো ভাতের জন্য লড়াই ‘শুনেছি লকডাউনে কাপড় দোকান খোলা তাই কেনাকাটা করতে এসেছি’ হেফাজতের ‘অপপ্রচার’ ফেসবুকে শেয়ার, আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার ‘শেখ পরিবার’ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস, উপজেলা আ.লীগ সম্পাদক ‘বহিষ্কার’ কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান এর পক্ষ থেকে কক্সবাজার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ছাত্রলীগের নেতা সাইফুল ইসলাম (নয়ন ) এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ ‘লিডার্স সামিটে’ বিশ্বনেতাদের প্রতি শেখ হাসিনার ৪ পরামর্শ হেফাজতের সহ-দফতর সম্পাদক মাওলানা ইহতেশামুল গ্রেফতার চারঘন্টা পর মরদেহ উদ্ধার মাতামুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে শিশুর মৃত্যু ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় মৃত্যু একশ’ ছুঁই ছুঁই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সুস্থতার দিকে
টিকাদানের উৎসব ॥ করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে একযোগে কর্মযজ্ঞ শুরু

টিকাদানের উৎসব ॥ করোনা প্রতিরোধে সারাদেশে একযোগে কর্মযজ্ঞ শুরু

মোবারক উদ্দিন নয়ন:

মহামারী রুখে দিতে দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। একযোগে দেশের সব জেলায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশে শুরু হলো। সাধারণ মানুষের ভ্যাকসিন ভীতি দূর করতে মন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছাড়াও রাজনৈতিক নেতারা ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন। ভ্যাকসিন গ্রহণের পর কারও মধ্যে কোন পাশর্^প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া যায়নি। নির্ভয়ে ভ্যাকসিন নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা।

সারবিশ্বে ২০২০ এর শুরুতে করোনাভাইরাস আঘাত হানলেও গত বছর মার্চ থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর থেকে বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়। বিশেষজ্ঞরা ধারণা দেন কেবল ভ্যাকসিনই এই ভাইরাসকে রুখে দিতে পারে। বিশ্বের ধনী দেশগুলো করোনা ভ্যাকসিনের অগ্রিম অর্ডার করে গবেষণা এবং ভ্যাকসিন উন্নয়নে সহায়তা করে। ঠিক সেই সময় কোন তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য এভাবে অগ্রিম দিয়ে ঝুঁকি নেয়া কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। ওই সময় অক্সফোর্ড এ্যাস্ট্রাজেনেকার আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের প্রি বুকিং দেয় বাংলাদেশ। মোট ১২০ মিলিয়ন ডলারের অগ্রিম বুকিং দেয়া হয়। কোন কারণে অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন অনুমোদন না পেলে এই অর্থ ফেরত পাওয়া যেত না। তবে দেশের মানুষকে বাঁচাতে অর্থের দিকে না তাকিয়ে এই ঝুঁকি নেয়ায় এখন সুফল পাচ্ছে দেশ।
সারাদেশের ন্যায় কক্সবাজার জেলায়ও গতকাল ৭ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকাল ১১টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে অনুষ্টিত টিকাদান কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মহিলা সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশীদ, সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া প্রমুখ। জেলায় প্রথম টিকা গ্রহণ করেন কক্সবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী।

এর আগে শনিবার রাতে সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান জানিয়েছিলেন, সদর উপজেলা ছাড়া জেলার বাকী ৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আজ ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারী থেকে মানবদেহে করোনার টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু হবে। জানা যায়, ৬ ফেব্রুয়ারী (শনিবার) জেলা ইপিআই স্টোর থেকে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রেখে করোনার ভ্যাকসিনগুলো বিভিন্ন উপজেলা ও রামু সেনানিবাসের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় করোনার ভ্যাকসিন নিতে সরকার নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠির ১৫ ক্যাটাগরীর তালিকা থেকে জেলায় প্রায় ৩৯ হাজার জনের তালিকা তৈরি করা হয়। এরমধ্যে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর উপজেলায় রেজিষ্টেশন করেন ১ হাজার ব্যক্তি। এর আগে গত ৩১ জানুয়ারী দেশে করোনার টিকা বিতরণের অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলায় পৌঁছে ৮৪ হাজার করোনা ভাইরাসের টিকা। ৩১ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বেক্সিমকো ফার্মার একটি কাভার্ড ফ্রিজার ভ্যানে করে এসব টিকা এসে পৌঁছায়। কক্সবাজার জেলা ইপিআই সেন্টারে টিকা নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি এসে পৌঁছালে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান এই টিকা গ্রহন করেন। ৮৪ হাজার টিকা জেলার ৪২ হাজার জনকে দুই ডোজ করে দেয়া হবে।
জেলায় ৯টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হলো-কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, রামু ক্যান্টনমেন্ট হাসপাতাল, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মহেশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রথমদিন সদর, টেকনাফ, উখিয়া ও রামুতে এই কার্যক্রম চলছে। দ্বিতীয়দিন থেকে একযোগে সব কেন্দ্রে টিকাদান চলবে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে টিকাদানের ৮টি বুথ স্থাপন করা হয়। টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যকর্মী, রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকসহ একাধিক টিম কাজ করছে।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, এই টিকা অত্যন্ত নিরাপদ। নির্ভয়ে করোনা ভ্যাকসিন নেয়া যাবে। ভ্যাকসিন নেয়ার পর সামান্য জ¦র জ¦র ভাব দেখা দিতে পারে। এতে কোন পাশ্র্বপ্রতিক্রিয়া হবে না।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া আরও বলেন, আপতত ৫৫ বছরের উর্ধ্বে ব্যক্তিদের টিকা দেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ১৮ বছর থেকে সবাই টিকা দেয়া হবে। তবে গর্ভবতীরা টিকা দিতে পারবেন না। জ¦র, সর্দি, কাশি আক্রান্ত ব্যক্তিরাও টিকা নিতে পারবে। করোনায় আক্রান্ত বা প্লাজমা নিয়েছেন এমন ব্যক্তি ৯০ দিন পর টিকা নিতে পারবে। প্লাজমা দিয়েছেন ব্যক্তিরাও টিকা নিতে পারবেন।

এদিকে রোববার ৭ ফেব্রুয়ারী সকাল ১০টা ভার্চুয়ালি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রথম নারী হিসেবে টিকা নিয়েছেন সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাক। এ যেন ভয়কে জয় করার আনন্দ। নারীসহ অন্যান্যদের অনুপ্রেরণা যোগাতেই তিনি টিকা নিয়েছেন বলে জানান সাংবাদিকদের।

প্রথম নারী হিসেবে টিকা নেওয়ার পর অনুভূতি প্রকাশ করে সাংসদ কানিজ ফাতেমা মোস্তাক বলেন, করোনার ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। টিকা দিতে পেরে স্বস্তিবোধ করছি। আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি টিকা নেওয়ার জন্য। টিকা না দিলে নিজের ক্ষতি, দেশের ক্ষতি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

x