1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ০৬:১৮ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার

  • আপলোড সময় : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩০৭ জন দেখেছেন

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ২০০৮ – ২০০৯ সেসনে প্রথম ছাত্র ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের একটি ছোট ইউনিটে কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বিগত ০৩/০৪/২০১১ ইং তারিখে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে কোন নিয়ম শৃংখলা ছিলনা (দৈনিক কক্সবাজার, ০২ জুলাই ২০১৪ ইং) । ছিলনা ভালো কোন লাইব্রেরী, ভাল ক্লাশ রুম, ডিসেকশন হল, ল্যাব, কনফারেন্স রুম ইত্যাদি। ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল নাম মাত্র ১০-১৫%। ক্লাশ রুমে প্রায়ই গানের আসর বসত, বার বি কিউ হত, রাতে নাছা নাছিও চলত কলেজটি ছিল যেন একটা অন্ধকার জগৎ। ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে প্রয়োজনীয় উপ¯ি’িত না থাকলেও বিশ্ব-বিদ্যালয়ের পরীক্ষা দেওযার সুযোগ করে দেওয়া হত। এমন নজিরও আছে কার্ড শেষ না করে, টার্ম পরীক্ষা পাশ না করে, প্রযোজনীয় সংখ্যক ক্লাশ না করেও কেউ কেউ বিশ্ব- বিদ্যালয়ের প্রফেশনাল পরীক্ষা দিয়েছে। বিএমডিসি ও বিশ্ব- বিদ্যালয়ের কারিকুলামের কোন নিয়ম মানা হতনা। পরীক্ষা অনুষ্ঠানে কোন সুষ্ট নিয়ম ছিলনা। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিবিএস প্রফেশনাল পরীক্ষায় বই খুলে পরীক্ষা দেয়ার খবরও পত্রিকায় প্রকাশিত হয় (দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ ২৮ মে ২০১৫খ্রি:)।
কলেজে বিভিন্ন পর্যায়ের ৮৭ টি শিক্ষকের পদ আছে। ২০১৬ সালে মাত্র ৪২ (৪৮%) জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন যারা মূলত লেকচারার পর্যায়ের জুনিয়র শিক্ষক। ১৫ টি অধ্যাপক পদের সবগুলিই শুন্য ছিল (০%), সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন ২২জনের মধ্যে ৯ জন (৪০%), সহকারী অধ্যাপক ছিলেন ২৪ জনের মধ্যে ১০ জন (৪১%) এবং লেকচারার ছিলেন ২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন (৯২%)। দেখা যায় মূলত জুনয়ির শিক্ষকদের দিয়ে কলেজটির কার্যক্রম জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছিল।এক কথায় এই কলেজ থেকে নিম্নমানের চিকিৎসক তৈরি হচ্ছিল।
আরো উল্লেখ্য যে,কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ছিল কর্মচারীর তীব্র সংকঠ যা এখনো বিদ্যমান আছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের জন্য রাজস্ব খাতে সৃষ্ট ৩৪ টি কর্মচারীর পদ ও ৪৫টি আউট সোর্সিং কর্মচারীর পদ ০১/০৬/২০১৫ খ্রীঃ তারিখ থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি। যার ফলে নানা জঠিলতার সৃষ্টি হয়। অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম ১৯/১২/২০১৫ খ্রি: তারিখে যোগদানের পর পদ সমূহ ভূতাপেক্ষভাবে সংরক্ষণের উদ্দ্যোগ গ্রহন করেন।
রাজস্ব খাতে সৃষ্ট ৩৪ টি কর্মচারীর পদের বিপরীতে মাত্র ০৫ (পাচঁ) জন কর্মচারী কর্মরত ছিল। গত ২০/০৩/২০১৬ ইং তারিখে রাজস্ব খাতে ২৯ টি পদে কর্মচারী নিয়োগের ছাড়পত্র প্রদানের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পত্র দেওযা হয় যার অনুমোদন অদ্যাবদি পাওয়া যায়নি এবং রাজস্ব খাতে ২৯ টি পদে কর্মচারীর পদ কলেজের জন্মলগ্ন থেকে অদ্যাবধি শুন্য আছে। কর্মচারীর অভাবে অনেক কাজ সুষ্টভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়না।
জানারঘোনা এলাকায় নির্মাণাধীণ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে সীমানা প্রাচীর না থাকায় কলেজের এলাকা বেদখল হয়ে যাচিছল। কিছু লোক দক্ষিন সীমানায় প্রায় ০১ একরের মত জায়গা দখল করে মেডিকেল কলেজের এলাকার মধ্যে ঘর ও প্রচীর নির্মাণ করেছিল (কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের ২৩/০৩/২০১৪ খ্রিঃ তারিখের চিঠি)। অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদানের পর অবৈধ দখলদারদের উৎখাতের ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদানেরপূর্বে নির্মাণাধীন কলেজ ও হোষ্টেলের নতুন ক্যাম্পাস ছিল সম্পূর্ণ অরক্ষিত। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের মূল পরিকল্পনায় সীমানা প্রাচীর ছিলনা ও শহীদ মিনার ছিলনা। বিদ্যুত লাইনের সংযোগ ছিলনা, ডিপ টিউব ওয়েল ছিলনা, বিল্ডিং এর ভিতরে বিদ্যুতের ওয়ারিং করা ছিলনা, জানালার কাছ লাগানো ছিলনা, ফ্লোরের টাইলস এর ফিনিসিং ছিলনা, লিফট সংযোজন করা ছিলনা। মনে হত একটি ভুতুড়ে বাড়ীর মতো পরিত্যক্ত ভবন যেখানে বখাড়ের আড্ডা বসত আর কলেজের এলাকা গরু ছাগলের বিচরণ ভুমির মত ছিল। ট্রেস ম্যাপে কলেজের জায়গা হিসাবে দেখানো জায়গার মধ্যে ৩৪ শতক জায়গা অধিগ্রহন করা ছিলনা। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কোন হোষ্টেল ছিলনা। ৫ টি ভাড়া বাড়ীতে ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থান করতে হত।
হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ২ কোটি টাকার সীমানা প্রাচীর কেন অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি তার উত্তর কারো জানা নেই। অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিমের প্রচেষ্ঠায় পরিকল্পনায় সীমানা প্রাচীর অর্ন্তভুক্ত করে বাজেট বরাদ্দ করে ০২/০৫/২০১৬ খ্রীঃ তারিখে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। একটি পক্ষ নানা রকম ষড়যন্ত্র ও বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করে আসছিল। অনেক বার ক্যাম্পাসে পুলিশ নিতে হয়েছে। অনেককে বুঝিয়ে কলেজের বিরুদ্ধে মামলা থেকে বিরত রাখা হয়। জনৈক হাবিবুল্লাহ সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিরুদ্ধে কক্সবাজার যুগ্ন জেলা জজের আদালতে মামলা করেন (মামলা নং অপর ১৬৪/১৬)। অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম সরকারের পক্ষে সে মামালা মোকাবিলা করেন। উনার অবসরে যাওয়ার ১৪ দিন পূর্বে ১৬/০৬/২০১৭ ইং তারিখে ঐ স্থ্ানে সীমানা প্রাচীর র্নিমাণ শেষ করেন।
০২ (দুই) একরের মত কলেজের সংযোগ সড়কটি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য অধিগ্রহন কৃত জায়গা। কিন্তু তার দু পাশে এমনভাবে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে যেন এ সড়ক তাদের বাড়ীর উঠোন। ইমারত নির্মাণ আইন’ ১৯৫২ এবং ইমারত নির্মান বিধিমালা’ ১৯৯৬ মেনে স্থাপনা নির্মাণের জন্য অধ্যক্ষ স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন (দৈনিক কক্সবাজার৭১, ১৮/০২/২০১৭ থ্রিঃ)। তিনি কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ, বিদ্যুত বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।সংযোগ সড়কের দুদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মান অনেক বেশী জরুরী একটি কাজ। এখানে সীমানা প্রাচীর নির্মান না হলে সংযোগ সড়কে ফুটপাতের মত বাজার বসার সম্ভাবনা আছে এবং ভবিষ্যতে কলেজ ও হাসপাতালের যানবাহন চলাচল ও বিশেষ করে এম্বুলেন্সে রুগী আনা নেওয়ায় অনেক বেশী অসুবিধা হবে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সেদিকে কোন নজর নাই।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ২টি গাড়ীর ( ঢাকা মেট্রো খ ১২-৮৪৫৫ ও ঢাকা মেট্রো চ ৫৩-৬৪৭৪ ) কাগজপত্র যেমন ফিটনেস, টেক্স টোকেন ও রেজিষ্ট্রেশন ০৪ (চার) বছর আগেই মেয়াদ উত্তীর্ন ছিল। অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম ঢাকা গিয়ে উক্ত গাড়ী ২টির রেকর্ড পত্র বিআরটিএ, মিরপুর থেকে বিএরটিএ, কক্সবাজারে স্থানান্তর করে সকল কাগজ পত্র সমূহ হালনাগাদ করেন।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে ১৩,৬০,৯৮৭ লক্ষ টাকার বিদ্যুত বিল দীর্ঘদিন থেকে বকেয়া ছিল । বিদ্যুত বিল অনাদায়ী থাকায় বিদ্যুত বিভাগ বিদ্যূত লাইন বিচ্ছিন্ন করার চিঠি দিত ও উক্ত বিল পরিশোধ করা না হলে বিদ্যুত বিভাগ নতুন ক্যাম্পাসে বিদ্যুত সংযোগ প্রদান করার ডিমান্ড নোট প্রদানে গড়িমসি শুরু করে। অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম উক্ত বকেয়া বিদ্যূত বিল পরিশোধ করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার র্নিমান মূল পরিকল্পনায় ছিল না। কলেজ ক্যাম্পাসে ১টি শহীদ মিনার র্নিমান করার ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। ক্যাম্পাসে একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করারও ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়।
ছাত্র-ছাত্রীদের বিএমডিসি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্তাবলী পুরণ হওয়া সাপেক্ষে পেশাগত পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের অনুমতি দেয়া শুরু হয় । মে’ ২০১৬ সনে ১ম প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় ১৮ জনকে এবং ২য় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ১১ জনকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের অযোগ্য করা হয়। সারাদেশে এ ধরনের নজির বিরল।
চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত মে’ ২০১৬ ১ম প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় ১৪ টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজেরছাত্র ছাত্রীরা সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯৪% পাশ করেছে এবং মে’ ২০১৭ ১ম প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯০% পাশ করেছে।
চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত নভেম্বর’ ২০২১ ফাইনাল প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় ১৪ টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা সর্বোচ্চ সংখ্যক ৮১.৯৬% পাশ করেছে।
অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বের পাশাপাশি শিশু বিভাগের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। তিনি নবজাতক ওয়ার্ডের রুগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতেন। এত ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন নবজাতক ওয়ার্ডে নিয়মিত রাউন্ড দিয়েছেন। ওয়ার্ডের চিকিৎসা সেবার প্রভুত উন্নতি সাধন করেন। নিজ ব্যয়ে নবজাতক রুগীদের জন্য কাপড়, রাবার সীট, ঔষধ পত্র, কাপড় ধোয়ার মেশিন প্রদান করেন। সারা দেশের ৪২ টি ((স্ক্যানো) স্কানোর মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের (স্ক্যানো) মুল্যায়নে ২য় স্থান লাভ করে। অথচ পূর্বে এই স্কানোতে অনেক অব্যবস্থাপনা ছিল।
অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিমএর প্রচেষ্ঠায় মেডিসিন ও শিশু বিভাগের প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান ও সার্জন (বিসিপিএস) কতৃক স্বীকৃত হয়।কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ জার্নাল বাাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কতৃক স্বীকৃত হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ০৯ (নয়) বছর ধরে খোলা আকাশে পড়ে থাকা ১টি ৫২ সিটের বাস গাড়ী নিজ ব্যয়ে মেরামত করে অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসেন এতে ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ ও হোষ্টেল থেকে হাসপাতালে আসা যাওয়া করতে অনেক সুবিধা হয়।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর একাগ্রতা ও অক্লান্ত চেষ্ঠায় ৫ ই জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হোষ্টেল সমূহ স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ও প্রশিক্ষণে নতুন নতুন টেকনলজীর সংযোজন হচ্ছে। মেডিকেল কলেজে তত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার প্রতি সমান গুরত্ব দিতে হয়। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ না হলে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণরত চিতিৎসকরা অনেকাংশে পিছিয়ে যায়। তাই বরাদ্দের বড় একটি অংশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ব্যয় করা হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও চিকিৎসকদের সুস্টু প্রশিক্ষণের কথা বিবেচনা করে দক্ষ চিকিৎসক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। কার্যাদেশের বিপরীতে প্রশাসনিক অনুদোমন গ্রহন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় এবং মাত্র ৬ বছরের মধ্যে মে’ ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়। ২০১৩ সালে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় এবং মাত্র ৪ বছরের মধ্যে এপ্রিল, ২০১৭ সালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়।
অথচ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ২০০৮-২০০৯ সেসেনে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। আজও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মানের কাজ শুরু হয়নি। ১৪ বছরেও কক্সবাজার বাসী কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার সুযোগ পায়নি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ০৬/০৫/২০১৭ ইং তারিখে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, অদ্যাবধি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মানের কাজ শুরু হয়নি। শত শত রুগী শয্যার অভাবে সদর হাসপাতালের ফ্লোরে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সেদিকে কোন নজর নাই।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় ০১/১১/২০১০ খ্রিঃ তারিখে কক্সবাজার সদর হাসপাতালকে অস্থায়ী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হিসাবে ঘোষনা করে। ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ৫০০ এর বেশী রুগী ভর্তি থাকে কিন্তু তেমন সুযোগ সুবিধা বাড়েনি। এই হাসপাতালে এমবিবিএস ৩য় – ৫ম বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ গ্রহন করে থাকে, ইন্টার্নী চিকিৎসকরা প্রশিক্ষণ গ্রহন করে থাকে, চিকিৎসকরা এখানে স্নাতোকত্তর প্রশিক্ষণ গ্রহন করে থাকে। মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল শিক্ষকরা এই হাসপাতালে রুগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে থাকে। বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যনত্রপাতির অভাবে সুষ্টু প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছিল এবং নিম্ন মানের চিকিৎসক তৈরি হচ্ছিল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারো তেমন আগ্রহ পরিলক্ষিত হচিছল না। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে (অস্থায়ী কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) ভালো যনন্ত্রপাতি ছিলনা এমনকি শিক্ষকদের বসার জন্য আসবাব পত্রেরও অভাব ছিল। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কলেজের ক্লিনিক্যাল শিক্ষকদের কর্মস্থল হলেও কাজ করার আশানুরুপ সুযোগ সুবিধা ছিলনা।
উর্ধতন কতৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই দরপত্র আহবান করা হয়। উর্ধতন কতৃপক্ষ কমিটিসমূহ পদ উল্লেখ পূর্বক অনুমোদন করেন। ক্রয়কারী ও স্থানীয় কতৃপক্ষ হিসাবে অধ্যক্ষও কমিটি গঠন করতে পারেন। অধ্যক্ষ নাম ও পদ উল্লেখ পূর্বক কমিটি সমূহ গঠন করেন। পরিচালক চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দরপত্র দাখিলের পূর্বেই কমিঠি সমূহের অনুমোদন প্রদান করেন। পিপিএ ২০০৬ এর ধারা ৬-৭ এবং পিপিএর ২০০৮ এর বিধি ৭-৮ এ এই নিয়মের কথা বলা আছে।
কক্সসবাজার মেডিকেল কলেজে মান সম্পন্ন ল্যাব স্থাপন করা ছিল একটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়। মায়ানমার থেকে আগত শরনার্থীদের স্বাাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলা ও যে কোন জাতীয় স্বাাস্থ্য সংক্রান্ত দুর্যোগ মোকাবিলা, রোগ নির্ণয় ও তার বিস্তার রোধে ল্যাবের গুরত্ব অপরিসীম।কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বিভাগে মান সম¥ত ল্যাব স্থাপন করা হয়। মান সম্পন্ন ল্যাব স্থাপন করায় ১লা এপ্রিল ২০২০ খ্রীঃ তারিখ থেকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ঈড়ারফ-১৯ এর জন্য জঞ-চঈজ টেষ্ট করা শুরু হয়। এই ল্যাবে কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলা, বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলা ও চট্রগ্রাম জেলার ৪ টি উপজেলা সহ মোট ১৯ টি উপজেলার কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা করা হয়। ১৯/১১/২০২২ খ্রীঃ তারিখ পর্যন্ত এই ল্যাবে ঈড়ারফ-১৯ এর জন্য ৩,৬৩,০২১ টি জঞ-চঈজ টেষ্ট করা সম্ভব হয়। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাব কভিড-১৯ মরামারীতে কভিড-১৯ এর জন্য জঞ-চঈজ টেষ্ট সহযোগতিা প্রদান করে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবায় অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরেছে।
কক্সসবাজার মেডিকেল কলেজ ও কক্সসবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একই সীমানা বেষ্টিত ¯া’্পনা। অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম সীমানা প্রচীর নির্মাণের সময় সম্পূর্ণ এলাকার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। কলেজ ও হাসপাতালকে আলাদা ভাবে দেখা হয়নি। কারণ দুটি প্রতিষ্ঠান পরষ্পর পরষ্পরের পরিপূরক। কলেজের ক্লিনিক্যাল শিক্ষককরা হাসপাতালেই মূলত কাজ করে থাকেন। একইভাবে হাসপাতালের কনসালটেন্টরাও কলেজের শিক্ষক। এই বিষয়টি অনেকে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়ে থাকেন।

রহমান ট্রেডার্স এর যন্ত্রপাতি গ্রহন ও বিল প্রদান:
অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম সর্বশেষ ২৬/০২/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে কার্যাদেশ দিয়েছিলেন। মালপত্র ৭০ দিনরে মধ্যে সরবরাহের শর্ত ছিল। মালপত্র সর্বশেষ ০৭/০৫/২০১৭ খ্রি তারিখের মধ্যে কলেজে সরবরাহ করার কথা। টিকাদার তা করতে পারেনি। এরপর কার্যাদেশগুলি অকার্যকর হয়ে যায় বা তার আর কোন বৈধতা নাই। তবে র্কাযাদেশের মেয়াদ টিকাদারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কতৃপক্ষ কতৃক ১৪ দিন এবং উর্ধতন কতৃপক্ষের অনুমোদন স্বাপেক্ষে আরো বেশী বৃদ্ধি করা যায়।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম গত ২৯/০৬/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। তিনি অবসর গ্রহনের পূর্বে রহমান ট্রেডার্স ইন্টারন্যাশনাল এর কোন যন্ত্রপাতি কলেজে আসেনি। অবসর গ্রহনের পর কি পরিমান যন্ত্রপাতি এসেছে, কিভাবে কি অবস্থায় তা গ্রহন করা হয়েছে এবং কত টাকার বিল প্রদান করা হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। এসব যন্ত্রপাতি কার্যাদেশে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে এবং বর্ণিত স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী টিকাদার সরবরাহ না করে থাকলে তা গ্রহন করার কোন বাধ্যবাতকতা নেই। এইসব যন্ত্রপাতিগুলি আগষ্ট’ ২০১৭ খ্রিঃ সময়ে গ্রহন করা হয়েছে এবং কিন্তু চালানে ০৩/০১/২০১৭ খিৃঃ তারিখ থেকে ২৭/০৪/২০১৭ খ্রিঃ এর মধ্যে পিছনের তারিখ বসিয়ে যনত্রপাতিগুলি গ্রহন করা হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে এবং বিল পাশ করা হয়েছে। ২৬০ পৃষ্টার ২০ টি চালানের কোথাও অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিমের স্বাক্ষর নাই। বিলেও উনার কোন স্বাক্ষর নাই। চালানের প্রতি পাতায় তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহার স্বাক্ষর আছে। অধ্যক্ষ ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা ২৭/০৭/২০১৭ খিৃঃ তারিখেকক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যোগদান করেন। দৃশ্যতঃ ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা ২৬ আগষ্ট ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে মালপত্র গুলি গ্রহন করেন কিন্তু চালানে পিছনের তারিখ দিয়েছেন ও বিল সমূহ পাশ করিয়েছেন। সার্ভে কমিটির সদস্যদের ও স্টোর কিপারের বক্ত্যব্যেও বিষয়টি জানা গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা একটি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগপত্র (সিএস) শুরু করেছেন। ৬ষ্ট পৃষ্ঠার ২য় প্যারার ১ম লাইনে তিনি উল্লেখ করেন মালামালগুলি ০৩/০১/২০১৭ খ্রিঃ তারিখ থেকে ০৩/০৫/২০১৭ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে গ্রহন করা হয়। কিন্তু তিনি আবার অভিযোপত্রের ৮ম পৃষ্ঠার ১ম প্যারার ৮ম লাইনে, ৮ম পৃষ্ঠার ৩য় প্যারার ৩য় লাইনে, ১০ পৃষ্ঠার ৩য় প্যারার ৯ম লাইনে মালামালগুলি ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা কতৃক গ্রহন করার কথা উল্লেখ করেছেন।
ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা ২৭/০৭/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন। উনার সময় মারামালগুলি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে গ্রহন করা হয়। সুতরাং কোন ভাবেই তা ০৩/০১/২০১৭ খ্রিঃ তারিখ থেকে ০৩/০৫/২০১৭ খ্রিঃ তারিখের মধ্যে হতে পারেনা। এটা একটি পরিস্কার মিথ্যা তথ্য। এখানে তদন্ত কর্মকর্তা উদ্দ্যেশ্যমূলকভাবে উদোর পিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে চাপিয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন ঠিকাদার কতৃক সরবরাহকৃত কার্টুনভর্তি মালামল গুলি খোলার জন্য সার্ভে কমিটিকে অনুমতি দেয়া হয়নি। কে অনুমতি দেয়নি তা তিনি উল্লেখ করেন নি। সার্ভে কমিটির সদস্যরা ও ষ্টোর কিপার তাদের লিখিত বক্তব্যে পরিস্কার বলেছেন ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা মালামল গুলি খোলার জন্য অনুমতি দেননি। মালামাল গুলি গ্রহন করা হয়েছে ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসের শেষ সপ্তাহে। ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা সার্ভে কমিটির সদস্যদের ও ষ্টোর কিপারকে তারিখ ছাড়া সই করতে বলেছেন। বিলগুলি পাশ করানোর জন্য অধ্যক্ষ ডাঃ সুবাস চন্দ্র সাহা চালানে পিছনের তারিখ বসিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি উদ্ধেশ্য মূলকভাবে না জানার ভান করেছেন ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।
এজহারে ২য় পৃষ্ঠার ১ম প্যারার ৩য় লাইনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন ও লাইন ডাইরেক্টর, প্রি-সার্ভিস এডুকেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা দরপত্র সংক্রান্ত কমিটিগুলি ০৪/০৯/২০১৭ খ্রিঃ তারিখে স্বারক নং- স্বাঃ/অধিঃ/প্রি-সার্ভিস/২০১৬/৮৮৮ মূলে অনুমোদন করেন। কিস্তু তিনি তা অভিযোগপত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দিয়েছেন।
এজহারে ২য় পৃষ্ঠার ১ম প্যারার ৩য় লাইনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন ও লাইন ডাইরেক্টর, প্রি-সার্ভিস এডুকেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা ২১/১২/২০১৬ খ্রিঃ ও ২২/১২/২০১৬ খ্রিঃ তারিখে কার্যাদেশের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেন। কিস্তু তিনি তা অভিযোগপত্রে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ দিয়েছেন। মেয়াদ উত্তীর্ন বা অকার্যকর কার্যাদেশের বিপরীতে পরিচালক কিভাবে আগষ্ট’ ২০১৭ ও অক্টোবর ২০১৮ সালে বরাদ্দ দিয়েছেন ও আগষ্ট’ ২০১৭ ও অক্টোবর ২০১৮ সালে ব্যয় মঞ্জুরী দিয়েছেন তা তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে উঠে আসেনি বা তিনি তা উল্লেখ করেন নি। দৃশ্যতঃ তদন্ত কর্মকর্তা পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়নক ও লাইন ডাইরেক্টর, প্রি-সার্ভিস এডুকেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকাকে অভিযোগ পত্র থেকে বাদ দেয়ার জন্য এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুত প্রকল্প। যাহা করা হয়েছে তাহা প্রকল্পের গুরত্ব বিবেচনায় একটি পিছিয়ে পড়া মেডিকেল কলেজের উন্নয়নের অভিপ্রায়ে করা হয়েছে। মালপত্র সব না আসায় অধ্যক্ষ ডাঃ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ডিসেম্বর ২০১৬ মাসে ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ফেরৎ দেন। আঞ্চলিক বৈষম্যের শিকার, অবহেলিত, অনগ্রসর ও বিশৃংখল অবস্থার অবসান করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজটি তিনি মানসম্মত চিকিৎসক তৈরীর লক্ষ্যে গড়তে চেয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল ২০১৬ সালের মধ্যে নতুন ক্যাম্পাসে কলেজ ও হোষ্টেল স্থানান্তর করার। সিনিয়র শিক্ষকের তীব্র সংকট ছিল, অনেক বিভাগে কোন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ছিলনা এবং সময়ের স্বল্পতার কারনে তাই কিছু কিছ সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কতৃপক্ষ ও ক্রয় কারী হিসাবে সরল বিশ্বাষে অধ্যক্ষকে নিতে হয়েছে যা না হলে নতুন ক্যাম্পাসে কলেজ ও হোষ্টেল স্থানান্তর করা সম্ভব হতোনা। কলেজটি যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই থেকে যেত।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন ইচ্ছা ছিল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কাজ শুরু করার। ২৫০ শয্যার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দৈনিক ৫০০ এরও বেশী রুগী ভর্তি হয়। স্থান সংকুলান হয়না। হাসপাতালের ফ্লোরে ও হাটার জায়গায় রুগী রাখতে হয়। তিনি এ দুর্গতির শেষ দেখতে চেয়েছিলেন। কক্সবাজার এলাকার সন্তান হিসাবে কলেজটির উন্নয়ন করতে চেয়েছিলেন। আর কিছুস্বার্থান্বেষী লোক তাহার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচারে মেতেছেন। তিনি আরো বলেন দীর্ঘ ৮ বছর সৌদি আরবে কাজ করেছি। তিনি বলেন আমি কোন দুর্নীতি করিনি এবং আমার আয় বতির্ভূত কোন সম্পদ নাই।
২০১৫ সালের আবর্জনা থেকে আজ ২০২২ এ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ টি মেডিকেল কলেজের মধ্যে সেরা কলেজে পরিণত হয়েছে। অনতিবিলম্বে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মান অনেক জরুরী ও গুরত্বপূর্ণ কাজ। সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে এ মামলা সবাইকে আতংকিতই করেছে। যিনি দরপত্র কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন, প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছেন, বরাদ্দ দিয়েছেন ও ব্যয় মঞ্জুরী দিয়েছেন তিনি যদি অভিযোগপত্র থেকে বাদ যেতে পারেন তবে অন্যদের উপর দোষ চাপানো হাস্যকরই বটে।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক (ডাঃ) মোহাম্মদ রেজাউল করিম আরো বলেন ৬ই মে’ ২০১৭ ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন কিন্তু আজও হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সংযোগ সড়কের দুদিকে নির্মাণ আইন’ ১৯৫২ এবং নির্মাণ বিধিমালা’ ১৯৯৬ অমান্য করে অনেক অবৈধ স্থাপনা গড়ে গড়ে উঠছে। সংযোগ সড়কের দুদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মান অতীব প্রযোজনীয় বিষয়। সীমানা প্রাচীর না থাকায় সংযোগ সড়কে বাস ট্রাক পার্কিং করে থাকে করে যাহা কলেজের শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীদের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচলে বাধা বিঘ্ন সৃষ্টি করে থাকে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা না হলে সংযোগ সড়কে বাজার বসবে এবং ভবিষ্যতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যানবাহন ও এম্বুলেন্সে চলাচলে অসুবিধা হবে। তিনি অবিলম্বে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু এবং সংযোগ সড়কের দুদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR