শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের দুই সেনা ও ৩১ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ২ রোহিঙ্গা যুবকের দেহ তল্লাশিতে মিললো অস্ত্র গুলি টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধতা, পর্যটকদের দুর্ভোগ কক্সবাজার জেলা পরিষদের ১৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বাজেট ঘোষণা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি টেস্ট কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পলক আরসার জোন ও কিলিংগ্রুপ কমান্ডারসহ আটক ৩ পটিয়ায় যৌতুক নিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা, হবু স্বামী গ্রেফতার  মহেশখালী হত্যা মামলার আসামী মাদ্রাসার সভাপতি হতে দৌঁড়ঝাপ চকরিয়ার চিংড়িজোনে বিপুল অস্ত্র ও কার্তুজসহ বাহিনী প্রধান বেলালসহ গ্রেফতার চার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ফ্রান্সের ১.৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে ইউএনএইচসিআরের কৃতজ্ঞতা

মহেশখালী ইপিজেডে যুক্ত হচ্ছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো

মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে সেখানে শিল্পের বিকাশ ঘটবে, বিনিয়োগ আহরণ সম্ভব হবে, রফতানি আয় বাড়বে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আওতায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা-৯-এ “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়ন বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার ধলঘাটা মৌজা এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হলেও সেখানে এখনও গ্যাস, বিদ্যুতের সংযোগ নাই, নির্মাণ করা হয়নি কোনও যোগাযোগ অবকাঠামো। এ কারণেই মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দফতর। এ জন্যে “মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা)-এর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ” শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা)।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষকে (বেজা) জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় ১৫ কিলোমিটার গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা, ইনডোর সাব-স্টেশনসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা, ইটিপি ও ৬-তলা ভিত্তিবিশিষ্ট ২০১৫ বর্গমিটারের ৪-তলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প এলাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক, ১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার ফুটপাত, ৯ কিলোমিটার সীমানা প্রাচীর, ২৭ কিলোমিটার ড্রেন ও পয়ঃনিষ্কাশন (সুয়ারেজ) নেটওয়ার্ক, ১২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।

কমিশন সূত্র আরও জানায়, সরকারের ৮ম পাঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে ৪২শতাংশে উন্নীত করা, শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ১২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পণ্যের উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রমঘন শিল্পকে অগ্রাধিকার প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, রফতানিমুখী শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন, শিল্প উৎপাদনে বেসরকারি খাতের প্রসার, উৎপাদন বহুমুখীকরণ এবং শিল্প উৎপাদনে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা-৯-এ “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শিল্পায়ন এবং জাতীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান ও জিডিপিতে শিল্প খাতের অংশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে এই খাতের অবদান দ্বিগুণ করা হবে” মর্মে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া, লক্ষ্যমাত্রা ৮-এ শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।  প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পের বিকাশ, বিনিয়োগ আহরণ, রফতানি আয় বৃদ্ধি এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তাই প্রকল্পটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ৮ও ৯-এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

একনেকের অনুমোদন চেয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল-৩ (ধলঘাটা) স্থাপনের জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। ফলে দেশীয়/ বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাকওয়ার্ড ও ফরোয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ, আপামর জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কক্সবাজার জেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিসহ দেশের সামগ্রিক টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসব দিক বিবেচনা করে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হলো।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে এই এলাকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান বাড়বে। দেশের সামগ্রিক টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।