1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
কক্সবাজারে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা গডফাদার, আত্মসমর্পণে রেহাই পাওয়া শাহজাহানের সম্পদের খোঁজে দুদক - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:২৯ পূর্বাহ্ন
Advertisement

কক্সবাজারে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা গডফাদার, আত্মসমর্পণে রেহাই পাওয়া শাহজাহানের সম্পদের খোঁজে দুদক

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ৪৯ জন দেখেছেন
Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজারে আত্মস্বীকৃত শ’খানেক ইয়াবা কারবারির অন্যতম শাহজাহান আনসারী। মাদক মামলায় সাজা খেটেছে। বছরচারেক আগে আত্মসমর্পণের পর রেহাই পায় সব অভিযোগ থেকে। নিরাপদ হয়ে যায় সম্পদের পাহাড়! কেউ চোখ তুলে তাকায়নি তার হোটেল, দোকান, জমি, বাড়ি-গাড়ি ও কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল সমাজে। তবে পিছু ছাড়েনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটি গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে পেয়েছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইতোমধ্যে মিলেছে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান। তদন্ত করতে শাহজাহান ও তার স্ত্রী জিগারুননেছা জিনিয়ার নামে মামলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কমিশনের উপপরিচালক (অনু: ও তদন্ত-৫) খান মো. মীজানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনা সংক্রান্ত চিঠি গত ২০ ডিসেম্বর ইস্যু করা হয়।
জানা গেছে, এক যুগ আগে নুর মোহাম্মদ আনসারী পরিবারের সদস্যসহ ঠাঁই নিয়েছিল কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার লারপাড়ায়। পশ্চিম লারপাড়া এলাকায় এক ব্যক্তির জমিতে কেয়ারটেকার হিসেবে থাকত। পরে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল এলাকায় একটা মুদির দোকান দেয় সে। তারই সন্তান শাহজাহান। সে ভাইদের সঙ্গে তখন বাস টার্মিনালে পরিবহন ক্ষেত্রে কাজ করত। কাজের ফাঁকে শুরু করে ইয়াবা পরিবহন। সেই সঙ্গে অন্যের মাদক পরিবহন করতে করতে এক দশকের ব্যবধানে পরিণত হয় ইয়াবার শীর্ষ ডিলারে। হয়ে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। তার নামে একাধিক মামলাও ছিল। এসব মামলা থেকে রেহাই পেতে ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের কাছে আত্মসমর্পণ করে। সেই থেকে সে আত্মস্বীকৃত ১০২ ইয়াবা কারবারির সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত। এর পর নামমাত্র সাজা খেটে মাদক কারবারির অভিযোগ থেকে রেহাই পায় ঠিকই, কিন্তু তার অবৈধ সম্পদের খোঁজ শুরু করে দুদক।
নামে দুটি এবং তার স্ত্রী জিগারুননেছার নামে একটি মামলা করতে কক্সবাজার কার্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। মামলা হওয়ার পর তার সব অবৈধ সম্পদের তথ্য বের করা হবে। দুদকের অনুসন্ধানকালে সংগৃহীত নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শাহজাহানের মোট সম্পদ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈধ টাকার পরিমাণ প্রায় ৮২ লাখ। এ ছাড়া শাহজাহান আনসারীর স্ত্রী জিগারুননেছার সম্পদের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বৈধ টাকার পরিমাণ ৯ লাখ। দুদক জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পণের পর শাহজাহান ও তার পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কমিশনের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিন উপপরিচালক বরাবর একটি প্রতিবেদন জমা দেন। এর পর কমিশনের নির্দেশে পুনরায় অনুসন্ধান শুরু করেন কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে গত ২৭ আগষ্ট কমিশনে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা হয়। সে অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন শাহজাহান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অভিযোগ, দুদকের অনুসন্ধানের বাইরে শতকোটি টাকার বেশি সম্পদের অধিকারী শাহজাহান। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার শহরের কলাতলি এলাকায় হোটেল জামান। ১০ তলা এই ভবনের আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি টাকা। কক্সবাজার বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন ইসলামাবাদ এলাকায় নির্মাণাধীন বিলাসবহুল বসতবাড়ির দোতলার কাজ সমাপ্ত। এটিও কয়েক কোটি টাকা মূল্যমানের। এ ছাড়া পরিবহন, সিমেন্টের এজেন্ট, টাইলসের দোকান, হোটেল ব্যবসা থেকে শুরু করে জমি, ঢাকা-চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট, প্লট, কোটি টাকা দামের বাড়ি, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির মালিক শাহজাহান। তার স্ত্রীরও আছে দামি গাড়ি। সৌদি আরব এবং দুবাইতেও ব্যবসা আছে।
হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার পর শাহজাহান সমাজে প্রতিষ্ঠা চায়। এ জন্য কয়েক বছর আগে টার্গেট করে ক্রীড়াঙ্গনে স্থান করে নিতে। কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে হাত করে খেলাধুলায় স্পন্সর করতে থাকে। এক পর্যায়ে টাকার জোরে কক্সবাজার সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেয়। এর পর তার চোখ পড়ে জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে। কয়েক মাসের মাথায় হয়ে যায় জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি। বর্তমানে এসবের কোনোটিই নেই।
সব অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজাহান আনসারীর দাবি, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ যে সম্পদের কথা বলা হচ্ছে তা জমি বিক্রির টাকা, যা আমার আয়কর-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ আছে। আর আগে ইয়াবা কারবার করলেও আত্মসমর্পণের পর থেকে মাদকের লাইনে নেই।

Advertisement

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন
Advertisement
Advertisement

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

Advertisement
© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR