1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
কক্সবাজার এক্সপ্রেসের কালোবাজারি উধাও, যেভাবে সহজলভ্য হল টিকিট - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন
Advertisement

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের কালোবাজারি উধাও, যেভাবে সহজলভ্য হল টিকিট

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩২ জন দেখেছেন
Advertisement

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে যেসব নতুন ট্রেন চালু করেছে তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে কক্সবাজার এক্সপ্রেস। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বিরতিহীনভাবে চলাচলকারী আন্তঃনগর এ ট্রেনটি শুধুমাত্র চট্টগ্রামে অপারেশনাল বিরতি দেয়।

গত ১ ডিসেম্বর এ ট্রেনটি চালুর পর থেকেই কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট পাওয়া আর ‘সোনার হরিণ’ পাওয়া সমান্তরাল হয়ে গিয়েছিল। যাত্রা শুরুর ১০ দিন আগে স্টেশন ও অনলাইনে একইসঙ্গে পাওয়া যেত ট্রেনটির টিকিট।

Advertisement

কিন্তু টিকিট ছাড়ার মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যেত সব টিকিট।
যদিও রেল কর্তৃপক্ষ বরাবরই বলে এসেছে, প্রচুর জনপ্রিয়তা থাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষ একইসঙ্গে রেলঅ্যাপে ঢুকায় টিকিট সহজলভ্য নয়।

এ বিষয়ে বাংলানিউজের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (বাণিজ্যিক) নাহিদ হাসান খানের। রেলের এ কর্মকর্তা দায়িত্বে আছেন কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে।

Advertisement

তিনি বলেন, রেলের টিকিটের মূল চাহিদার বেশিরভাগই থাকে ডিসেম্বর মাসের টিকিটে। এরমধ্যে এক হলো ডিসেম্বর মাস আর হলো কক্সবাজার তাই ডিসেম্বর মানেই টিকিটের চাহিদা ছিল বেশি। সারা বছরের চাহিদার ৬০ শতাংশের বেশি আসে শুধু ডিসেম্বর মাসে। এরমধ্যে বৃহস্পতি ও শুক্রবারের টিকিট পাওয়া যায় না। র‍্যাবের তদন্তের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে কি না সেটা আমার জানা নেই। তবে এই সময়টায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান থাকে কক্সবাজারে তার কারণেও কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিটের চাহিদা থাকে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বন্ধ থাকার কারণেও চাহিদা বেশি ছিল।

কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়ের এই বক্তব্য যে সঠিক নয়, সেটা ফুটে উঠল কক্সবাজার এক্সপ্রেসের টিকিট কালোবাজারে বন্ধ করতে কক্সবাজার আদালতের স্বপ্রণোদিত মামলা করার উদ্যোগ থেকে। গত বছরের গত ১৭ ডিসেম্বর কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত-১ এর বিচারক শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা কালোবাজারি দমনে মামলা দায়ের করেন।

Advertisement

এরপর ২৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনে গিয়ে সরেজমিন প্রাথমিক তদন্ত কাজ শুরু করেন র‍্যাবের কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) আবু সালাম চৌধুরী।

সরেজমিনে গিয়ে তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ট্রেনটি এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন। এখন স্বপ্ন নিয়ে খেলছে কালোবাজারির দল।

Advertisement

এরপরই বদলে যেতে শুরু করে পুরো চিত্র। এখনও ১০ দিন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হলেও পাওয়া যাচ্ছে যেকোনো দিনের টিকিট। এ প্রতিবেদন লেখার সময়, কক্সবাজার এক্সপ্রেসের একাধিক দিনের টিকিট অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছিল।

বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (বাণিজ্যিক) নাহিদ হাসান খান অস্বীকার করলেও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম টিকিট কালোবাজারি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, র‌্যাবের তদন্তের বিষয়টি অবশ্যই আমার কাছে আছে। তারা বিষয়টি জানে বলেই তদন্তের কাজ করছেন। এরমধ্যে, যারা অসাধু অনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কিভাবে তাদের প্রতিহত করা যায় সেভাবে কাজ করা হচ্ছে।

Advertisement

রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকিটের কালোবাজারির ব্যাপারে রেলের কোনো কর্মকর্তা জড়িত আছে বলে এখনও এমন কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। যদি কাউকে এমনটার সঙ্গে জড়িত পাওয়া যায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

র‍্যাবের কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) আবু সালাম চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, এ বিষয়ে র‍্যাব তদন্ত করছে। তদন্তে অনেক কিছু পাওয়া গেছে। আদালতে প্রতিবেদনে তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

Advertisement

কক্সবাজার এক্সপ্রেসের প্রথম মাসে আয় পাঁচ কোটির বেশি

কক্সবাজার এক্সপ্রেস প্রথম মাসেই দেখেছে লাভের মুখ। গত ১ ডিসেম্বর চালু হওয়া ট্রেনটি থেকে পুরো ডিসেম্বর মাসে সব মিলিয়ে আয় হয়েছে পাঁচ কোটি ১১ লাখ ৫৭ হাজার ২৪০ টাকা।

Advertisement

বাংলাদেশ রেলওয়ের অপারেশন শাখা জানিয়েছে, গত ১-৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার ১৫৫টি টিকিট বিক্রি হয়। শোভন চেয়ার ও এসি চেয়ার শ্রেণির এসব টিকিট থেকে রেলের আয় হয়েছে দুই কোটি ৫৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৫৫ টাকা। একই সময়ে ট্রেনটির কক্সবাজার থেকে ঢাকা রুটে ৩০ হাজার ৩৭০টি টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে দুই কোটি ৫৬ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।

রেলের এ রুটে ব্যাপক আয়ের পেছনে অন্য কারণ হিসেবে দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণ রিজার্ভ টিকিট বিক্রি ও সরকারি-বেসরকারি কোম্পানি রিজার্ভ টিকিট ক্রয় করায়। এ টিকিটগুলো ছিল রেলের মূল টিকিটের বাইরে, এর জন্যে নতুন বগি যুক্ত করে এসব যাত্রীদের নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

রেলের রিজার্ভ টিকিট সম্পর্কে বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালক(বাণিজ্যিক) নাহিদ হাসান খান বলেন, রেলের সংশ্লিষ্টদের (কর্মকর্তা-কর্মচারী) জন্য শতকরা তিন শতাংশ টিকিট রিজার্ভ থাকে। এটা ১২ ঘণ্টা আগে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই এক মাসে শতভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে রিজার্ভেশনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছে।

এদিকে যাত্রী চাপ বিবেচনা করে এ রুটে দ্বিতীয় আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে চলবে পর্যটক এক্সপ্রেস। পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৫) কক্সবাজার থেকে রাত ৮টায় ছেড়ে ঢাকার কমলাপুর আসবে ভোর সাড়ে ৪টায়। অন্যদিকে, ঢাকার কমলাপুর থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস (৮১৬) ছেড়ে যাবে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে। কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছবে বেলা ৩টায়।

Advertisement

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন
Advertisement
Advertisement

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

Advertisement
© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR