1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
আগামীতেও বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
বৃহস্পতিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
জাহাজেই ঈদের নামাজ পড়লেন জিম্মি বাংলাদেশি নাবিকরা শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে সাতক্ষীরায় ২৫ গ্রামে ঈদ উদযাপন পার্বত্য জেলায় অস্থিরতার কারণে ঈদ কেন্দ্রিক পর্যটনের চাপ কক্সবাজারে পেকুয়ায় ৭ করাতকলে প্রশাসনের অভিযান ঈদের পরদিন থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী সব জাহাজ বন্ধ ঝিলংজার হাজিপাড়ায় সংঘবদ্ধ চোরের উপদ্রব।। আতংক চরমে কক্সবাজারে আইএমও কর্মকর্তা তুহিনের হামলায় ছাত্রসহ বৃদ্ধা মহিলা আহত! হোটেল থেকে নির্মাতা সোহানুর রহমানের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার ‘সন্ত্রাসী ইসরাইলি হামলা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে’ -ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী

আগামীতেও বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে

  • আপলোড সময় : রবিবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৮ জন দেখেছেন

ষ্টাপ রিপোর্টার/ আবু সালমান ফারহান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সামনে অনেক কাজ। আমরা যে উন্নয়নটা করে আজকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি, বাংলাদেশে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পেরেছি – এটাকেই আমাদের টেকসই করতে হবে। এটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত কখনও শেষ হয় না।

এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। টুঙ্গীপাড়া ও কোটালীপাড়াবাসী আমার বড় শক্তি। বাংলাদেশের জনগণ আমার শক্তি। আগামীতেও বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। রবিবার বিকেলে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে আয়োজিত স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মতবিনিময় সভায় কোটালীপাড়ার দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি এসেছি আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানাতে। গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং এই কোটালীপাড়া ও টুঙ্গীপাড়াবাসী আমার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে আপনারাই আমার নির্বাচন করেছেন। আপনাদের ভোটে জয়ী হয়ে আজকে আমি বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। তাই আপনারা যারা এখানে উপস্থিত এবং যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমি আপনাদের দোয়া-আশীর্বাদ চাই এবং আপনাদের জন্যও আমার ভালোবাসা রইল। আপনাদের আশ্রয়েই আমি বার বার নির্বাচিত হয়েছি। যে দেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সারাটা জীবন কষ্ট করে, সংগ্রাম করে এবং তার ডাকে সাড়া দিয়ে এই বাংলাদেশের জনগণ অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে বিজয় এনে দেশ স্বাধীন করেছে। সেই জাতির পিতা শেখ মুজিব তাঁর জীবনটাকেই উৎসর্গ করেছেন বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

আর সেই কাজ করতে গিয়ে তিনি জীবনটাও দিয়ে গেছেন। জীবন দিয়ে গেছে আমার মা, আমার ভাই। আজকের দিনে আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। একইসাথে আমি স্মরণ করি ৭৫ এর ১৫ই আগস্ট – আমার মা, আমার ভাই, আত্মীয় পরিবার-পরিজন যারা শাহাদৎ বরণ করেছেন তাদেরকে। এইকসাথে স্মরণ করি ৩০ লক্ষ শহীদকে, ২ লক্ষ মা-বোনকে। তাদের মহান আত্মত্যাগ আমাদের বিজয় এনে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, রেহানা আর আমি জার্মানীতে ছিলাম। মাত্র ১৫ দিন আগে দেশ ছেড়ে যাই। তারপর সেই অমানিশা অন্ধকার আমাদের জীবনে নেমে আসে ’৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। শুনলাম, আমার বাবা-মা, ভাই কেউ নেই। দেশেও আসতে পারিনি। জিয়াউর রহমান রেহানার পাসপোর্টটাও দেয়নি, পাসপোর্টের সময় শেষ হয়ে গেছে, পাইনি। বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে আমরা রিফুজি হিসেবে ছিলাম। ’৮১ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করে। আমার ছেলে-মেয়েকে রেখে আমি আসি আপনাদের মাঝে।

আপনারাই আমাকে সবধরণের সহযোগিতা করেছেন। যেকারণে আমি বার বার জয়ী হতে পেরেছি, বার বার এদেশের মানুষের কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমাদের একটাই লক্ষ্য যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে স্বপ্ন দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোঁটানো, এদেশের মানুষের অন্ন বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেয়া। আর সেই লক্ষ নিয়েই আমরা কাজ করে যাই।

কোটালীপাড়াবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কৃতজ্ঞ আপনাদের কাছে এজন্য যে আমাদের অন্য এমপিরা যার যার নিজের এলাকা নিয়ে ব্যস্ত থাকে; কিন্তু আমাকে আসলে ব্যস্ত থাকতে হয় ৩ শ’ সীট নিয়ে অর্থাৎ সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে। এজন্য আমি আপানাদের কাছে এসে নির্বাচন করতে পারি না। আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই একারণে যে, আমার নির্বাচনের দায়ভার আপনারাই নিয়ে নিয়েছেন। আমারই তো আমাকে সেই হারানো বাবা-মা ভাইয়ের স্নেহ-ভালোবাসা দিয়েছেন। যার ফলে আমি নিশ্চিন্তভাবে কাজ করতে পারছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে অনেক বাধা-বিপত্তি ছিল, অনেক চক্রান্ত ষড়যন্ত্র ছিল – কোনভাবেই নির্বাচন যাতে না হতে পারে। এটাই ছিল আসল চক্রান্ত। অথচ একটা গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোন রাজনীতিবিদ যদি ক্ষমতায় না থাকে, তাহলে দেশের উন্নতি হয় না। এটা আমাদের দেশের জন্য প্রমাণিত সত্য। ’৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির পিতা ছিলেন সেই ’৭২ সাল থেকে ৩ বছর ৭ মাস ৩ দিন। যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়ে একটি বাংলাদেশকে তিনি রেখে যান স্বল্পোন্নত দেশে। কিন্তু এর পরে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের সময় বাংলাদেশের কোন উন্নয়ন হয়নি। উন্নতি তখনই হয়, যখন আওয়ামীলীগ সরকারে এসেছে। ’৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠন করি।

মানুষের খাদ্য-চাহিদা পূরণ করি। স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি করি। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করি। রাস্তাঘাট পুল-ব্রীজ ব্যাপকভাবে করি। এরপর ২০০১ এ আসতে পারিনি। সেটাও একটা চক্রান্ত ছিল। ইমারজেন্সী হয়। বিএনপি’র দুঃশাসন, দূর্ণীতি এবং লুটপাট, মানি-লন্ডারিং, গ্রেনেড হামলা, বোমা হামলা, ইত্যাদি নানা কারণে তাদের উপর জনগণ বিতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে।

যার জন্য ইমারজেন্সী আসে। সেই জঙ্গীবাদ, বাংলা ভাই সৃষ্টি করে মানুষের জীবনের শান্তি কেড়ে নিয়েছিল। এরপর ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নির্বাচিত হয়। এককভাবে আওয়ামীলীগ ২ শ’ ৩৩টি সীট পেয়েছিল। বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি সীট। তারপর থেকেই তারা ইলেকশনে আসতে চায় না; ইলেকশন বানচাল করতে চায়। তাই আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, আপনারা তাদের সমস্ত ষড়যন্ত্র আপনারা ধূলিস্যাত করে দিয়েছেন।

কোটালীপাড়াবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, সবাই জানতো যে আওয়ামীলীগ জিতবে বা আপনারা ভোট দিবেন; কিন্তু সেটা নয় – নির্বাচন পরিচালনার জন্য যেভাবে আপনারা কমিটি করেছেন, আপনারা মানুষের কাছে গেছেন, ভোটারদের কাছে গেছেন, অনুরোধ করেছেন, ভোটাররাও ছুটে এসেছেন, এতো সুষ্ঠুভাবে আপনারা একটি নির্বাচন পরিচালনা করেছেন – এ দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের অন্যান্য সকল আসনে আমি দেখিয়েছি, সবার কাছে পৌঁছে দিয়েছি। এটাও একটা শিক্ষার বিষয়

আপনাদের নির্বাচন পরিচালনায় জনগণের ভোট জনগণ দিতে পেরেছে। আপনার চিন্তা করতে পারেন, ’৭৫ এর পরে যে ক’টি নির্বাচন হয়েছে, তাতে জনগণেরই ভোট ছিল না, জনগণের ভোট নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলেছে। আওয়ামীলীগ আসার পরেই জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছে।

সেই সাথে মানুষের খাদ্য-নিরাপত্তা থেকে শুরু করে উন্নয়ন করেছে। একেবারে তৃণমূলের মানুষ যাতে ভালোভাবে বাঁচতে পারে, চলতে পারে, জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে, আমাদের তরুণ সমাজ তাদের যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়, আমাদের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতী মানুষ এমনকি যারা অনগ্রসর গোষ্ঠী যেমন হিজড়া, বেঁদে – এধরণের যারা প্রত্যেকের জন্যই আমি কাজ করেছি। প্রতিটি জীবনই যেন অর্থবহ হয়, উন্নত হয়, সমৃদ্ধশালী হয় – সেই কাজটাই আমরা করেছি। যার কারণে যতোবারই নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছে, বাংলাদেশের মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি।

বিএনপি’র উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আসলে মানুষ কিন্তু যার ভোটটি চুরি করে, সে ধরে ফেলে। দৃষ্টান্ত হচ্ছে, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থেকে সারা দেশের প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা সংস্থা, সশস্ত্র  নামিয়ে দিয়ে সে তার নির্বাচন করেছিল। কিন্তু সেখানে কোন ভোটার ছিল না।

তারপরেও সীল মেরে বাক্স ভরে ভোট নিলেও তা ২২% এর বেশি হয়নি। কতো কষ্ট করার পর ২১% ভোট হয়েছিল মাত্র। জনগণ কিন্তু ভোট মেনে নেয়নি। যে কারণে আন্দোলন হয়। ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হল, ৩০ মার্চ খালেদা জিয়া পদত্যাগে বাধ্য হয়। ভোট চুরির অপরাধে, নাকে খত দিয়ে খালেদা জিয়ার বিদায়।

তারা এখন আন্দোলন করে গণতন্ত্রের জন্য। গণতন্ত্রের গ কেন, গণতন্ত্র বানানও করতে পারবে না। তারা জানে জ্বালাও পোড়াও। তাদের আন্দোলন জীবন্ত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে মারা। বাসে আগুন, গাড়ীতে আগুন, লঞ্চে আগুন, ট্রেনে আগুন। ১৩ সালে যা করেছে, ১৪ সালে করেছে, ১৫ সালে করেছে।

আবার এই নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন করতে গিয়ে ট্রেনে আগুন দিয়ে এমনভাবে পুড়িয়েছে, মা সন্তানকে বুকে নিয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে – এ দৃশ্য কোন মানুষ সহ্য করতে পারে না। যেকারণে তারা যতোই চিৎকার করুক, চেঁচামেচি করুক – জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। যারা এ ধরণের জঘন্য কাজ করেছে, তাদের কোন ছাড় নাই। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি, নেব। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। সব জায়গায়ই আমাদের সিসি-ক্যামেরা আছে।

এগুলো যারা করেছে তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। যারা হুকুমদাতা, যারা জ্বালাও পোড়াও করার জন্য হুকুম দিয়েছে, তাদেরকেও আমরা গ্রেফতার করছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর যেন মানুষকে এভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা বা এধরণের জঘন্য কাজ করতে না পারে, সেটাই আমরা চাই।

উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাট, পুল-ব্রীজ এখনও যেগুলি বাকী আছে, সেগুলি আমরা করব। প্রত্যেকটা গ্রাম ও সেই গ্রামের মানুষ শহরের নাগরিক সুবিধা পাবে। আমার গ্রাম আমার শহর – সেভাবেই আমরা প্রত্যেকটা গ্রামকে গড়ে তুলব, যাতে কোন মানুষের কোনও কষ্ট না হয়।

করোনা ভাইরাসের অতিমারী ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে জিনিষপত্রের দাম বেড়েছে। আবারও নতুন করে হামলা শুরু হয়েছে, সে কারণে সামনে আরও দূর্দিন আসতে পারে। আমাদের দেশের মাটি উর্বর। এক ইঞ্চিও জমি যেন অনাবাদি না থাকে। জমি চাষ করা থেকে শুরু করে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন যা পারেন করতে হবে।

আমাদের খাদ্য আমাদের উৎপাদন করতে হবে। বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশেও জিনিষের দাম বেড়েছে। আমাদের দেশের মানুষের খাবারের যেন অভাব না হয়, সেটা আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বিদেশী এক সাংবাদিক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন, এরকম বিধ্বস্ত অবস্থা, নগদ টাকা নেই, কারেন্সি নোট নেই, রিজার্ভে টাকা নেই, সবকিছু ধ্বংসস্তুপ, কোন সম্পদও নেই – আপনি কিভাবে এই দেশ গড়বেন? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার মাটি আছে, মানুষ আছে – এই মাটি ও মানুষ দিয়েই আমি আমার দেশ গড়ব। আমিও এটাই বিশ্বাস করি, আমাদের মাটি ও মানুষ এবং আমরা যে কাজ করি, এদেশকে কেউ আর পিছনে টানতে পারবে না।

যারা কখনও এ দেশের মানুষের ভাগ্য গড়তে দিতে চায়নি, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হানাদার বাহিনীর দোসর ছিল, তারা বাংলাদেশ কখনও উন্নত হোক চায়না। তাদেরকে মোকাবেলা করেই, সকল ষড়যন্ত্র ভেদ করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে হবে। সবাইকে আমরা একসাথে কাজ করে এই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা ইনসাল্লাহ আমরা গড়ে তুলব।

বক্তব্যের শেষদিকে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের জয় হয়েছে। এ জয় গণতন্ত্রের জয়। এ জয় বাংলাদেশের জনগণের জয়।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামীলীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর নিজ-নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি শহীদ উল্লা খন্দকার, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মাহাবুব আলী খান ও কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। এসময় বাগেরহাট-১ আসনের সাংসদ শেখ হেলালউদ্দিন, খুলনা-২ আসনের সাংসদ শেখ সালাউদ্দিন জুয়েল, কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ ও পৌর-মেয়র মতিয়ার রহমান হাজরাসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চমবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দু’ দিনের গোপালগঞ্জ সফরে অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করেন। কোটালীপাড়ায় যাওয়ার আগে সকাল ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গীপাড়ায় তাঁর নিজবাড়ির হলরুমে গোপালগঞ্জের সকল দপ্তর-প্রধানদের নিয়ে প্রায় দু’ঘন্টার এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। তিনি বৈঠকে উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং গোপালগঞ্জের বিভিন্ন দপ্তরের উন্নয়ন কর্মকান্ডের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি দপ্তর-প্রধানদেরকে প্রতিটি কাজ সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে সঠিকভাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। দায়িত্বে কেউ অবহেলা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। নতুন প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন।

জেলার কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি দপ্তরে পরিকল্পনামাফিক কাজ করার নির্দেশ দেন। প্রতিটি দপ্তরের অবকাঠামোগত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে জনবল বৃদ্ধিরও নির্দেশনা দেন। শহরের যানজট দূরীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন।

খেলাধূলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তরুণদেরকে খেলাধূলায় আগ্রহী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের তাগিদ দেন। সে সঙ্গে গোপালগঞ্জ শহরের শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট খেলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও গ্রহনের নির্দেশ দেন। এছাড়াও গোপালগঞ্জকে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের নির্দেশনা দেন। বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর (বাপার্ড) কর্মকান্ড গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বৈঠকের শুরুতে জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম জেলার সকল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে পঞ্চমবারের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকান্ডসহ জেলার সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ সাবিরুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার আল বেলী আফিফা। পরে সেখানে জেলার দপ্তর-প্রধানদের সঙ্গে ফটোসেশন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দুপুরে নিজবাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ শেষে টুঙ্গীপাড়া থেকে সড়কপথে বিকেল সাড়ে ৩টায় কোটালীপাড়ায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে তিনি কোটালীপাড়া থেকে পুনরায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

এর আগে, গত শনিবার সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে বেলা পৌনে ১২টায় দু’ দিনের সফরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিবেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পন করে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তাকে তিনবাহিনীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদর্শন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র ফাতেহা পাঠ এবং ১৫-আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের শহীদ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের নিয়ে জাতির পিতার সমাধিতে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরে সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে রক্ষিত পরিদর্শন বইয়ে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন। এরপর তিনি উপস্থিত নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদের সদস্য ও স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে দুপুরে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গীপাড়ায় তাঁর নিজ বাড়িতে নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে মানুষ যাতে স্বস্তিতে থাকতে পারে সেজন্য নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরে বিকেলে তিনি নিজ বাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে যান এবং সেখানে স্থানীয় দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। রাতে তিনি টুঙ্গীপাড়ায় নিজবাড়িতে রাত্রিযাপন করেন।

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR