বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের দুই সেনা ও ৩১ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ২ রোহিঙ্গা যুবকের দেহ তল্লাশিতে মিললো অস্ত্র গুলি টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধতা, পর্যটকদের দুর্ভোগ কক্সবাজার জেলা পরিষদের ১৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বাজেট ঘোষণা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি টেস্ট কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পলক আরসার জোন ও কিলিংগ্রুপ কমান্ডারসহ আটক ৩ পটিয়ায় যৌতুক নিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা, হবু স্বামী গ্রেফতার  মহেশখালী হত্যা মামলার আসামী মাদ্রাসার সভাপতি হতে দৌঁড়ঝাপ চকরিয়ার চিংড়িজোনে বিপুল অস্ত্র ও কার্তুজসহ বাহিনী প্রধান বেলালসহ গ্রেফতার চার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ফ্রান্সের ১.৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে ইউএনএইচসিআরের কৃতজ্ঞতা

দেশের সর্বোচ্চ ইয়াবার চালান জব্দ করেও পিপিএম পদক পাননি পনেরোবারের শ্রেষ্ঠ ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী

আব্দুল আলীম নোবেল।।
বাংলাদেশ পুলিশের একজন চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী। তিনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগনের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও মাদক দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে পনেরোবার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন।
শেখ মোহাম্মদ আলীর দেশের সর্বোচ্চ সাড়ে ১৭ লক্ষ পিচ ইয়াবার চালান জব্দ করেছেন, যা টাকার অংকে ৫৩ কোটি টাকার চালান। এতো বিশাল মাদকের চালান জব্দের রেকর্ড কেউ ভাংতে পারেননি। এছাড়া আসামীদের ইয়াবা বিক্রির ১ কোটি ৭০ লক্ষ সাড়ে ৬৮ হাজার টাকা জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন তিনি। তবে দুঃখজনক হলো সত্য এতো বেশি অর্জনেও তাঁর ঝুলিতে পিপিএম পদক এখনো মিলেনি বলে জানা গেছে। অত্যন্ত সাদামাঠা, দৃঢ় মনোবল এবং পরিশ্রমী এই মানুষটি পিপিএম পদক না পাওয়ায় নানাভাবে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ শে সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা পুলিশে বড় রদবদল হয়। তখন শেখ মোহাম্মদ আলী কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ ১ বছর ওসি, ডিবি হিসেবে জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত থাকাকালীন ২০২১ সালের ৯ ফেব্রয়ারী এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ মাদকের চালান ১৭,৫০,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫৩ কোটি টাকা এবং ইয়াবা বিক্রয়ের নগদ ১,৭০,৬৮,৫০০ টাকা জব্দ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। গ্রেফতার করেন ৬ জন আসামীও। গ্রেফতারকৃত ১ জন আসামী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাহার এ সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তৎকালীন মাননীয় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি (বর্তমানে অতিরিক্ত আইজিপি)  আনোয়ার হোসেন, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) শেখ মোহাম্মদ আলী’কে ক্রেষ্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করেন। তাহার অন্যতম এ সাফল্যসহ ১ বছরে প্রায় ২৪ লক্ষাধিক ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ১১ টি অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করে।  জীনের বাদশা সেজে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারকদের গ্রেফতার, অপহরণ মামলার শিশু ভিকটিম ও অন্যান্য ভিকটিম উদ্ধার, চোরাইকৃত অসংখ্য গাড়ি ও মোটরসাইকেল উদ্ধারপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ও ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ তৎকালীন আইজিপি  ড. বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার), পিপিএম (বার) রাষ্ট্রীয় পদক আইজিপি ব্যাজ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, তিনি ২০১৬ সালে ডবলমুরিং মডেল থানা, সিএমপি, চট্টগ্রাম এ ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তাহার ভালো ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ তৎকালীন  আইজিপি এ.কে.এম শহিদুল হক, বিপিএম, পিপিএম তাহাকে রাষ্ট্রীয় পদক আইজিপি ব্যাজ প্রদান করেন।
গত ১০ অক্টোবর, ২০২১ সালে তিনি পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। অফিসার ইনচার্জ পেকুয়া থানায়  কর্মরত থাকাকালে পেকুয়া থানার ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাদক চালান ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (যার অনুমান মূল্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা) উদ্ধারসহ ১ টি প্রাইভেট কার, ৩ টি মোটরসাইকেল জব্দ ও ৬ জন আসামীকে গ্রেফতার করেন। জাল টাকা দিয়ে প্রতারণাকারী প্রতারকচক্রকে গ্রেফতার, অস্ত্র-গুলি উদ্ধারসহ তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করেন।
তিনি গত ২০২২ সালের ২৯শে মে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। উখিয়া থানায় প্রায় ১৮ মাস (১ বছর ৬ মাস) কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি লক্ষ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার, ইয়াবা গডফাদার হিসেবে পরিচিত জামাই শফিউল্লাহ’কে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ২০,০০০ (বিশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। রোহিঙ্গা জামাই শফিউল্লাহ বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দিতে স্বীকার করেন যে, সে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট আশ্রয় শিবিরে মায়ানমার বর্ডার ক্রস করে নিয়ে আসেন যার বাজারমূল্য শত কোটি টাকার বেশি। শেখ মোহাম্মদ আলী অসংখ্য অস্ত্র-গুলিসহ আলোচিত রোহিঙ্গা আসামীদের গ্রেফতার করেন। এ সমস্থ অস্ত্র-গুলি রামুর জোয়ারিয়ানালা হতে উখিয়া হয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশের সময় এই চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তা কৌশলে রোহিঙ্গা আসামীদেরকে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেফতার করেন। তার এই সাহসিকতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার  মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম (বার) তাহাকে কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মনোনীত করে ক্রেষ্ট প্রদান করেন। তিনি উখিয়া থানায় কর্মরত থাকালীন অসংখ্য ক্লু-লেস খুনের মামলার রহস্য উৎঘাটন, অপহরণ মামলার রোহিঙ্গা শিশু ভিকটিম ও অন্যান্য ভিকটিম উদ্ধারপূর্বক মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রকে গ্রেফতারসহ বিকাশ প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন।
তিনি গত ১৫ নভেম্বর, ২০২৩ সালে চকরিয়া থানার অফিসার ইনর্চাজ হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর এই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা গত ২৯ শে এপ্রিল চকরিয়া থানাধীন খুটাখালী নদীতে জেলে সেজে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জীবনের ঝুকি নিয়ে সারারাত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মায়ানমার থেকে সাগর পথে ট্রলার যোগে আনা ১২ লক্ষ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট  (যাহার অনুমান বাজারমূল্য ৩৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা), যাহা পুলিশ বাহিনী কর্তৃক দেশের দ্বিতৃীয় সবোর্চ্চ বৃহৎ চালান জব্দ করেন। উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে ২০২১ সালের ৯ই ফেব্রয়ারী দেশের সর্ববৃহৎ ১৭,৫০,০০০ (সতের লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট (যাহার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫৩ কোটি টাকা) ইয়াবা চালানও তিনি উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেছিলেন। কৌশলে নৌযান থেকে লাপিয়ে পড়া এজাহারনামীয় পলাতক আসামী শাহজাহানকে পরদিন অর্থাৎ দিবাগত রাত ২ ঘটিকার সময় টেকনাফ থানা এলাক হইতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামী শাহজাহান বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন যে, শাহজাহানসহ ইয়াবা সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মায়ানমার থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রলার যোগে নিয়ে যাচ্ছিল। উল্লেখ্য যে, এই ১২ লক্ষ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে গেলে দেশের লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী মাদকাশক্ত হয়ে পড়ার আশংকা ছিল। অফিসার ইনচার্জ শেখ মোহাম্মদ আলীর ভালো ও সাহসিকতারপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ কক্সবাজার জেলার  পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম (বার) তাহাকে জেলার শ্রেষ্ট মাদক উদ্ধারকারী কর্তকর্তা ও শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মনোনীত করে ক্রেষ্ট প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা কক্সবাজার জেলায় ১৫ বার শ্রেষ্ট অফিসার ইনচার্জ হিসেবে মনোনীত হন। চকরিয়া থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদানের পর চকরিয়াকে তিনি অনেকাংশে মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হন। চকরিয়া থানায় যোগদানের পর বেশ কয়েকটি অস্ত্র-গুলি উদ্ধারপূর্বক আসামী গ্রেফতার করেন। সরেজমিনে থানা পরিদর্শনকালে থানায় আগত সেবাপ্রার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, থানায় জিডি, অভিযোগ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, মামলা রুজুসহ কোন ক্ষেত্রেই থানায় কোন টাকা-পয়সার লেনদেন ছাড়াই আন্তরিকতার সহিত সেবা পাওয়া যায়। তাহার এত এত সাফল্য সত্তেও তিনি এখনো পর্যন্ত পিপিএম পাননি এমনটি প্রশ্ন সচেতন মহলের।
শেখ মোহাম্মদ আলী ২০০৬ সালে ১০ মার্চ তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৯৩ সালে আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্টার মার্কসহ এসএসসি পাস করেন। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পাশ করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স শেষ করেন, পরে সাউদান ইউনিভার্সিটি থেকে ইএমবিএ পাশ করেছেন বলে জানা গেছে।
এমন বাস্তবতায় একটি স্বপ্নের পিপিএম পদকের মাধ্যমে হয়তো চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনটি নিজের সাফল্যের খাতায় যোগ করতে পারবেন এমনটা মনে করছেন ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী।