বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সেন্টমার্টিনে মিয়ানমারের দুই সেনা ও ৩১ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ২ রোহিঙ্গা যুবকের দেহ তল্লাশিতে মিললো অস্ত্র গুলি টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহরে জলাবদ্ধতা, পর্যটকদের দুর্ভোগ কক্সবাজার জেলা পরিষদের ১৪৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বাজেট ঘোষণা কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনে নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি টেস্ট কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন পলক আরসার জোন ও কিলিংগ্রুপ কমান্ডারসহ আটক ৩ পটিয়ায় যৌতুক নিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা, হবু স্বামী গ্রেফতার  মহেশখালী হত্যা মামলার আসামী মাদ্রাসার সভাপতি হতে দৌঁড়ঝাপ চকরিয়ার চিংড়িজোনে বিপুল অস্ত্র ও কার্তুজসহ বাহিনী প্রধান বেলালসহ গ্রেফতার চার কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য ফ্রান্সের ১.৫ মিলিয়ন ইউরো অনুদানে ইউএনএইচসিআরের কৃতজ্ঞতা

বেতন ছাড়া চাকুরী: প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এঞ্জেল টাচ থাই স্পা ও স্মার্ট থাই স্পাতে চলছে দেহ ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে স্পা নামক পতিতালয়।
এদিকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থিত অহমবষ ঃড়ঁপয স্পা ংসধৎঃ ংঢ়ধ ও কক্স ভেকেশন হোটেলের ২য় তলায় অবস্থিত লাক্সারি থাই স্পা’র আড়ালে চলছে অনৈতিক কর্মকান্ড। মেনুর বাহিরে অতিরিক্ত প্যাকেজের নাম দিয়ে যৌনতা কর্মকান্ড পরিচালনার সুযোগ করে দিচ্ছে স্পার মালিকরা। এই দুই প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দালালের মাধ্যম সহজ-সরল সুন্দরী মেয়েদের বেতন না থাকলেও বেশি টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার অবস্থানরত ম্যাসাজ সেন্টারে চাকরি দেয়। তবে তারা জানে না এটা কি চাকরি। অতপর বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও তা আর হয়ে উঠে না। জিম্মি দশায় থাকতে হয় ওইসব মেয়েদের। জোরপূর্বক তাদের অশ্লিল ভিডিও ধারন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অসামাজিক কাজ করতে বাধ্য করে স্পার মালিকরা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, শহরের মোটেল জোন এলাকায় প্রায় ৩০- ৪০টির বেশি স্পা নামক ম্যাসাজ সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে সুন্দরী তরুণী দিয়ে প্রতিনিয়ত চলছে সেক্স ও মাদক বাণিজ্য। এতে উঠতি তরুণী ও কলেজ ছাত্ররাও জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে জিনিয়া রিসোর্টের ২য় তলায় স্মার্ট থাই স্পা এবং কক্স ভেকেশন হোটেলের ২য় তলায় লাক্সারি থাই স্পা নামে দুইটি ম্যাসাজ সেন্টার রয়েছে। সেখানে প্রতিনিয়তই চলছে দেহ ব্যবসা। এছাড়াও রয়েছে ডায়মন্ড থাই স্পা, হংকং থাই স্পা, , লেগুনা বীচ হোটেলে অবস্থিত, নিউ সেভেন এসকে থাই স্পা, রিল্যেক্স থাই স্পা, ওয়েন্ডে স্পা, এ্যারোমা স্পা, জারা স্পা, মারমেইড স্পা, ডিলাক্স স্পা, গোল্ডেন স্পা, চায়না রোজ স্পা, সী-প্রিন্সেস থাই স্পা, ছাড়াও বে নামের আরও অনেক স্পা সেন্টার রয়েছে। এসব স্পা গুলো বিছু অসাধু ব্যক্তি ও কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন গেস্ট হাউস ও অভিজাত হোটেলে মাসিক রুম ভাড়া নিয়ে এ ব্যবসা পরিচালনা করছে। আর ভিন্ন ভিন্ন কলা কৌশলে সুন্দরী নারী- রা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ধনাঢ্য পরিবারের ছেলেরা আর বিদেশী কিছু পর্যটক এবং এনজিওতে কাজ করা কর্মকর্তারা মূলত এর মূল কাস্টমার। বিভি- ন্ন আইটেমের দাম বিভিন্ন রকম। ফুল বডি ম্যাসেজ ঘন্টায় ২৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল্য নির্ধারন করা আছে। প্রতিটি স্পা কেন্দ্রে উপজাতিসহ ১০/১২ জন সুন্দরী নারী থাকে। সকাল ৯ টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং কিছু কিছু স্পা সারা রাতও খোলা থাকে বলে জানা যায়। নিজের ইচ্ছে হলে টাকার বিনিময়ে যৌন চাহিদা মেটাতে পারেন। এছাড়াও রাতে বসে মাদকের আসরও। তবে এই স্পা সেন্টারের বাইরে সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও ভিতরে চলে অনৈতিক কর্মকান্ড। কিন্তু স্পা ম্যাসেজ সেন্টারের নামে তরুণী রেখে সেবা দেওয়ার অর্থটা কি। তরুণী দিয়ে জেন্টসদের কি ধরনের সেবা দেওয়া হয় তা তো সহজেই বোঝা যায়। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক। এধরনের ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রশাসনের ছাড়পত্র নিতে হয়। যা কারও নেই। যদিও ট্রেড লাইসেন্সে এধরনের ব্যবসা উল্লেখ করা নেই। তবে অভিযোগের ভিক্তিতে শহরে অবৈধ ম্যাসাজ পার্লার ও স্পার আড়ালে অসামাজিক বাণিজ্যর বিরুদ্ধে হয়েছিল ট্যুরিস্ট পুলিশের সাড়াশি অভিযান। অভিযানে কয়েকটি ম্যাসাজ সেন্টার বন্ধ হয়ে যায় এবং কয়েকটি মানব পাচার মামলাও হয়। তবুও কান্ত হয়নি অবৈধ ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট দল। হোটেল মোটেল জোনের অধিকাংশ লোকজন জানান, স্পা নামক এ ব্যবসা হলো অভিজাত পতিতা ব্যবসা। বডি ম্যাসেজের নামে যৌনতা। তারা ব্যবহার করে সুন্দরী নারীদের। এ ব্যবসাগুলো বন্ধ করার প্রশাসনের কাছে দাবী জানান তারা।
স্পায় কর্মরত এক নারী জানান, স্পাতে দেহ ব্যবসা ছাড়া চলতে পারে না, কারন নিদিষ্ট কোন বেতন দেয়না স্পার মালিক, এখানে কাস্টমারদের সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে তাদের বেতন।
লাক্সারি থাই স্পার মালিক নিজেই জানান, স্পা সেন্টার বলতেই পতিতালয়। কিন্তু তার স্পা সেন্টারে রুমের ভিতরে কি চলে তিনি নিজেই জানে না। কর্মরত নারীরা তার নিজের মেয়ে না। তারা দেহ ব্যবসা করলেও করতে পারে।স্পায় কর্মরত নারীদে বেতন কত? জানতে চাইলে সে জানায় তার থেকে বেশি টাকা আয় করে স্পার নারীরা কিভাবে আয় করে জানতে চাইলে প্রতিবেদকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে যায়, কক্সবাজারে কর্মরত কিছু পুলিশ অফিসার ও সাংবাদিক তার ভাই আছে। সে চাইলে অনেক কিছু করতে পারবে। সংবাদ প্রকাশ করা হলে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর হুমকি দেয়। কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডি আই জি আপেল মাহমুদ জানান, কটেজ জোনের পতিতালয়, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি অপরাধ সিন্ডিকেট ও অবৈধ স্পা সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ অভিযান শুরু হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত ওসব অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে, সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।