1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
লামায় ৩ কোটি টাকার ব্রিজ পার হতে হয় মই লাগিয়ে! - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্য কক্সবাজার রেজিষ্ট্রি অফিস! বেতন ছাড়া চাকুরী: প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এঞ্জেল টাচ থাই স্পা ও স্মার্ট থাই স্পাতে চলছে দেহ ব্যবসা আরাকান আর্মির গুলিতে আহত বাংলাদেশি জেলের মৃত্যু বেনজীর আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের দুদকে তলব বেনজীরের কোম্পানি-ফ্ল্যাট ক্রোকের নির্দেশ ঘূর্ণিঝড়ের মহাবিপদ সংকেতেও সৈকতে আনন্দে আত্মহারা পর্যটকরা দেশের সর্বোচ্চ ইয়াবার চালান জব্দ করেও পিপিএম পদক পাননি পনেরোবারের শ্রেষ্ঠ ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী কক্সবাজারে ৯ উপজেলায় ৬ টিতে নির্বাচন সম্পন্ন পুলিশ প্রশাসনের ভুমিকা সন্তোষজনক চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আজ: মাঠ জরিপে এগিয়ে সাবেক সাংসদ জাফর ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাচন আজ : ভোটারদের ভোটের গণজোয়ারে জয়ের পথে আবু তালেব

লামায় ৩ কোটি টাকার ব্রিজ পার হতে হয় মই লাগিয়ে!

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৮৮ জন দেখেছেন

কক্সবাজার ৭১ ডেস্ক:
দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনসাধারণের যোগাযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করে বান্দরবানের লামা উপজেলার পোপা খালের উপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। গত এক বছর আগে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা গেলেও করা হয়নি সংযোগ সড়ক। তাই বাধ্য হয়েই ব্রিজের উত্তর পাশে এলাকাবাসীর উদ্যোগে স্থাপিত মই দিয়ে উঠা-নামা করেই ব্রিজ পার হতে হয়, তাও আবার শুস্ক মৌসুমে। বর্ষা মৌসুমে যখন উত্তর পাশ পানিতে ডুবে থাকে, তখন পারাপার মোটেও সম্ভব হয়না। এতে লামা সদর ও রুপসীপাড়া ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
জানা যায়, ২০১৯-২২ইং অর্থবছরে ‘লামা রূপসীপাড়া সড়কের অংহ্লাপাড়া হতে মেরাখোলা হয়ে ছোট বমু পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের’ পোপা খালের উপর ৬০ মিটার দীর্ঘ আর.সি.সি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। গত এক বছর আগেই ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ করে ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্মাণের এক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজের উত্তর পাশে সংযোগ সড়ক করে দেয়া হয়নি। তাই এলাকাবাসীর কোন কাজে আসছেনা এ ব্রিজটি। এই বিষয়ে মুঠোফোনে কথা হয় ব্রিজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী চিংথোয়াই মার্মার সাথে। তিনি বলেন, ব্রিজটির দু’পাশের এপ্রোচ সড়কের রাস্তার বরাদ্দ ছিলনা। তাই সংযোগ সড়কটি করা যায়নি।
সরেজমিন উপজেলার রূপসীপাড়া ইউনিয়ন হতে পোপা সড়ক দিয়ে পাহাড়পাড়া এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে ব্রিজটি। পোপা খালের উপর উত্তর-দক্ষিণ মুখি নির্মিত ব্রিজটির উত্তর পার্শ্বে স্থানীয়রা হেঁটে পারাপারের জন্য ১৫-২০ ফুট গাছ দিয়ে মই নির্মাণ করে দাঁড় করিয়ে রেখেছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেই মই দিয়ে ব্রিজে উঠতে গিয়ে প্রতিনিয়ত অনেক বৃদ্ধা ও শিশুরা পড়ে আহত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা। এ সময় মই দিয়ে ব্রিজের ওপর উঠছিলেন আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সব বয়সীরা মই বেয়ে সেতুর ওপরে উঠতে পারে না। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও শিশুরা। আবার অনেক সময় উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। এই সেতু তৈরি হয়েছে প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সহজে যাতায়াত করা যায় না। তাই ব্রিজের এক দিকে মই লাগানো হয়েছে, সেই মই ছাড়া সেতুটি অচল।’
স্থানীয় বাসিন্দা আরাফাত মিয়া, মো. নুরুজ্জামান ও কমলা বেগম জানিয়েছেন, ‘ঠিকাদারকে অনেকবার অনুরোধ করেছি ব্রিজের উত্তর পাশে মাটি ফেলতে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত মাটি ভরাট করেনি। ব্রিজটির দুপাড়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। এসব মানুষকে প্রতিদিন কত কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়, তা কেউ না দেখলে বুঝবে না। আগে ব্রিজ ছিল না, তখনো কষ্ট হয়েছে। এখন ব্রিজ হয়েও কষ্ট হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত ব্রিজের উত্তর পাশে মাটি ফেলে সংযোগ সড়ক করা হোক।’
এ ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থী রনি, সুমনসহ আরো অনেকে বলেন, এত টাকার ব্রিজ তৈরি করে যদি মই দিয়ে পারাপার হতে হয়, তাহলে ব্রিজের তো দরকার ছিল না। আমরা অনেক কষ্টে এই ব্রিজ হয়ে চলাচল করছি।
দুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে রূপসীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা জানায়, গত সপ্তাহে পোপা খালের ওপর ব্রিজের বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এমপি’কে জানিয়েছি, তিনি দ্রুত ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করি দু এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে কর্তৃপক্ষ। এদিকে লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মিন্টু কুমার সেন বলেন, ব্রিজটি সচল হলে আমার ইউনিয়নের ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি রূপসীপাড়া ইউনিয়নের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হতো।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইয়াছিন আরাফাত জানান, ব্রিজের সাথে এপ্রোচ সড়কের বরাদ্দ ছিলনা। জনসাধারণের সুবিধার্তে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR