1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. crander@stand.com : :
  3. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
মূল আসামী আটক হয়নি, নির্দেশদাতা আরসা প্রধান - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

মূল আসামী আটক হয়নি, নির্দেশদাতা আরসা প্রধান

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০২২
  • ১৭৩ জন দেখেছেন

কক্সবাজার ৭১ ডেস্ক:
রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যায় মূল আসামী আটক হয়নি বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী নাছিমা বেগম। তাই তিনি ৯ ছেলে মেয়ে নিয়ে ক্যাম্পে আতঙ্কে আছেন বলে জানাগেছে। পুলিশ এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ ৬ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয় মাওলানা জাকারিয়াকে। তিনি আরসার ওলামা শাখার প্রধান হিসেবে পরিচিত।
মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক গাজী সালাউদ্দিন জানান, আরসা নেতা আতাউল্লাহর নির্দেশে মুহিবুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। হত্যাকান্ডে প্রায় ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আরসা প্রধান আতাউল্লাহ এখানে নেই। তবে হত্যায় জড়িত তাঁর সহযোগীদের কেউ কেউ এখানে আছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে আতাউল্লাহর ভাই মোহাম্মদ শাহ আলীকে গেল ১৬ জানুয়ারি রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ভাইয়ের সঙ্গে শাহ আলীর যোগাযোগ নেই।
এদিকে, মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত ৪ আসামি আদালতে জবানবন্দিতে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে এবং মাদক ও অপহরণ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় মুহিবুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে। আর এই খুনের নির্দেশ দিয়েছেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী। আর হত্যায় অংশ নেন প্রায় ২৫ জন রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চারজন আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চার আসামি হলেন আজিজুল হক, হামিদ হোসেন, নাজিম উদ্দিন ও মো. ইলিয়াস। তাঁরা নিজেদের আরসা সদস্য বলে দাবি করেন এবং মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেন বলে পুলিশকে জানান। তাঁরা গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। তাঁর পরিবার এ হত্যার জন্য আরসাকে দায়ী করে আসছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি মো. ইলিয়াস বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে মুহিবুল্লাহ সচেষ্ট ছিলেন। আরসার অবস্থান ছিলো প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে মুহিবুল্লাহকে আরসা নেতাদের নির্দেশে খুন করা হয়।
আরেক আসামি আজিজুল হক বলেন, মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা শিবিরে জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেন। এতে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ান। আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে ক্যাম্প ১-এর একটি ঘরে বৈঠক করে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
আরেক আসামি হামিদ হোসেন জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাঁরা ক্যাম্পের মোস্তফা কামালের বাসায় জুড়ো হন। সেখানে আবদুর রহিমসহ ১২ জনকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখতে পান হামিদ। সবার হাতে ছিল ছোট অস্ত্র।
নাজিম উদ্দিনের জবানবন্দিতে বলা হয়, মুহিবুল্লাহকে পরপর দুটি গুলি করেন জাহিদ হোসেন। ফয়েজ উল্লাহ করেন একটি গুলি। ছমি উদ্দিন করেন আরেকটি। মোট পাঁচটি গুলি করা হয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, মুহিবুল্লাহ হত্যাকারী বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরও জানান, নিহত মুহিবুল্লাহ’র পরিবারের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে জন্য পুলিশ সর্তক আছে।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রত্যাবাসনের পক্ষে সোচ্চার হওয়া শীর্ষ রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা এবং উখিয়ার একটি মাদরাসায় সন্ত্রাসী হামলায় ৬ রোহিঙ্গা নিহতের পর প্রকৃত অপরাধীরা ধরা না পড়ায় ক্যাম্পে সক্রিয় হয়ে পড়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো। এ কারণে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রাতের আঁধারে আতঙ্কের অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিণত হয়। রাত হলে ক্যাম্পগুলোতে রাজত্ব কায়েম করে কথিত আরসাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ।
এতে মুহিবুল্লাহ’র নেতৃত্বে মিয়ানমারে ফিরে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপত্তাহীনতায় আছে বলে ক্যাম্পের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত ক্যাম্পের নিরাপত্তায় পাহারা দিচ্ছেন।

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR