সংবাদ শিরোনাম :
সুগন্ধা পয়েন্টে উচ্ছেদ হওয়া অর্ধশতাধিক দোকান থেকে কোটি কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করেছে প্রভাবশালীরা শহরে প্রধান সড়ক প্রশস্ত করতে দুই পাশের সীমানা নির্ধারণ কাজের উদ্বোধন উত্তর নলবিলায় গৃহবধূকে খুন করে মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনার নেপথ্যে হাসান বশির পরিবার রাত পোহালেই আলোচিত কুতুপালং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপনির্বাচন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশু একাডেমি আয়োজিত শেখ রাসেলের ৫৬ তম জন্মবার্ষিকী পালিত শহরের সাহিত্যিকা পল্লীর গরুর হালদা এলাকায় দু’টি পাহাড় কেটে তুলার গোডাউন ও ভবন নির্মাণ সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রীসহ দুদকের জালে ৮ এমপি উচ্ছেদ আতঙ্কে লিংকরোড বৃহত্তর মুহুরীপাড়ার ৫ শতাধিক পরিবার রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের যোগানদাতা কে? খুটাখালীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১, আহত-১২
মাদককারবারীদের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে, জোরালো অভিযান অব্যাহত রাখার দাবী

মাদককারবারীদের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে, জোরালো অভিযান অব্যাহত রাখার দাবী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাদকের ঘাটি বলে পরিচিত উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় কোন ক্রমেই থামানো যাচ্ছেনা মাদকের কারবার। এক শ্রেনীর নতুন মাদক ব্যবসায়ী তাদের কৌশল পরিবর্তন করে দেদারছে চালাচ্ছে ইয়াবার মত জঘন্যতম মাদক ব্যবসা। এছাড়াও প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাদক সেবনকারির সংখ্যা। উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত পয়েন্ট থেকে দেশব্যাপী ইয়াবা মাদকের চালান বেড়েই চলেছে।

সম্প্রতি মেজর সিনহা হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বহিনীর ব্যস্ততার সুযোগে জেলার মাদকের গডফাদাররা আবারো নানা তৎপরতা শুরু করেছে। অপরদিকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা থমকে গেলেও কিন্তু এমন মহাদুর্যোগেও থেমে নেই মাদক কারবারীদের চোরাকারবার। করোনা মোকাবেলায় পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীর করোনাভাইরাস সুরক্ষা কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিচ্ছে মাদক কারবারী সিন্ডিকেটগুলি। গাড়ী তল্লাশী ও নজরদারিতে কিছুটা শিথিলতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন কৌশলে দেশে মাদকের চালান আনছে তারা। রোগীবাহী এ্যাম্বুল্যান্স, সবজিসহ নিত্যপণ্য পরিবহনের গাড়িতে করে ইয়াবা পাচার করছে কারবারিরা। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের ইয়াবা কারবারিরা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবার চালান পাঠাচ্ছে। ত্রাণ বিতরণ, ওষুধ কেনাসহ বিভিন্ন অজুহাতে সরাসরি গিয়ে এবং কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠানো পার্সেলের মাধ্যমে ও মাদক বিক্রি করছে তারা।

সম্প্রতি পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কক্সবাজার জেলার প্রতিটি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জোরালো অভিযানও শুরু করলে কিছুটা কমে আনে।
জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৮ সালে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে মাদক পাচার ও সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে নজরদারির কিছুটা শিথিলতার সুযোগ নিচ্ছে কারবারিরা। নতুন করে সক্রিয় কারবারিদের ধরতে মাদক চোরাচালান রোধে গঠিত স্পেশাল টাস্কফোর্স বিশেষ অভিযান শুরু করবে বলে ও জানান তারা।

করোনার মধ্যেও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান আসছে। পণ্য পরিবহনের গাড়িতে লুকিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। এমন কয়েকটি চালান ধরাও পড়েছে দায়িত্বশীল সংস্থার হাতে। গতকাল ১০ আগষ্ট শোকের মাসে ২বিজিবির আওতাধীন লেদা বিওপি ২০হাজার মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করে। গত শনিবার র‌্যাবের অভিযানে ২০ হাজার পিচ ইয়াবা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটকের খবর প্রকাশ হয়েছে। মাদককারবারীদের ইয়াবারজগত নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। রীতি মতো হিমশীম খাচ্ছে প্রশাসন।

এদিকে জেলার সীমান্ত উপজেলা উখিয়া-টেকনাফের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারীরা প্রকাশ্যে ঘুরা ফেরা করায় সাধারণ জনতার মাঝে উদ্বেগ উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। টেকনাফ সদর ইউনিয়ন, পৌর সভা, সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, অপরদিকে উখয়া উপজেলার ফালংখলী, থাইংখালী, বালুখালী, কুতুপালং এলাকার চিহ্নত ইয়াবা কারবারীরা মাঠে ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে বলে এলাকা সূত্রে খবর এসেছে। সূত্রে প্রকাশ- টেকনাফের হ্নীলা ইউপির লেদার আলীখালী এলাকার বাসিন্দা কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ইয়াবা গডফাদার জমিল আহমদ প্রকাশ্যে ঘুরা ফেরা করছে। সে লেদার গবী সোলতানের পুত্র। তার বিরুদ্ধে পত্যক্ষভাবে এলাকার কেউ মুখ খুলতে রাজি নন। এলাকা সূত্রে জানা যায় যে,ইয়াবা কারবারীদের মদদ দাতা অস্ত্রদারী সন্ত্রাস জমিলের অনেক অভিযোগ আছে। তবে ভয়ে কেউ মুখ খুলার সাহস পাচ্ছেনা কেউ। ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অস্ত্রদারি সন্ত্রাস জমিল,রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একলোক কে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে উল্লাস করেছে। জমিলের অস্ত্রের ভয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বা প্রশাসনকেও অভিযোগ করেন নি, নির্যাতিত ঐ ব্যক্তি। এই ইয়াবা ব্যবসায়ী জমিল ৩০-৪০ সদস্যের গ্যাং তৈরী করে লেদা, আলীখালীতে রাজার হালে চলাচল করছে। জমিল আহমদের ভয়ে পুরো এলাকার মানুষ আতঙ্কে বসবাস করে। সে যতদিন গ্রেফতার না হবে, ততদিন এলাকার লোকজন স্বাধীন ভাবে চলাচল করতে পারবে না বলে স্থানীয় লোকজন সাংবাদিকদের জানান। অভিযোগ রয়েছে জমিল লেদা, শালবাগান, মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সকল ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করে। ইয়াবা বিক্রি করে কোটিপতি বনে যাওয়া লেদা আলী খালী এলাকার আরেক ইয়াবার গডফাদারের নাম মোঃ ইসমাঈল প্রকাশ মেম্বার। সে আলী খালীর ঠান্ডা মিয়ার পুত্র। লেদা আলী খালী এলাকায় সর্বদা তাকে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। অপরদিকে মাদক ব্যবসার সাথে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে লেদা এলাকার হোছন আহমদের পুত্র রবি আলম, অলি আহমেদ পুত্র আব্দুস সমদ, মোহাব্ব্যতের পুত্র শহীদ উল্লাহ আবুল বশারের পুত্র আব্দুর রহমান, মীর কাসেমের পুত্র জাহাঙ্গীর। তারা হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ষ্টেশনের, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ার স্থায়ী অধিবাসী বলে জানা গেছে। এছাড়া অধরায় থাকা টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউপির কিছু ভয়ংকর ইয়াবা কারবারী নতুন করে মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ রফিক(২৯)পিতাঃ সোলতান আহমদ, সাং পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, খারাং খালী, ওয়ার্ড নংঃ ০৮, নুর মোহাম্মদ প্রকাশ বেক্কাইয়া, পিতাঃ খুইল্যা মিয়া, সাং, পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, খারাং খালী। ওয়ার্ড নং-০৮, বার্মাইয়া আবদুল মালেক(৩৬), পিতাঃ অজ্ঞাত,খারাংখালী গ্যাসপাম্পের পাশে, পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, খারাংখালী, ওয়ার্ড নং-০৮ , আমির হোসন (২৮) পিতাঃ বাঁচা মিয়া সাং-পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, খারাংখালী ওয়ার্ড নং-০৮, নুর নবী (২৮) পিতাঃ মৃত হাজী নুরুল ইসলাম, সাং পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়া, খারাং খালী ৮নং ওয়ার্ড। মাঈন উদ্দিন পিতাঃ সরওয়ার কামাল সাং- নয়া পাড়া, বটতলী ৫ নং ওয়ার্ড, শাহীন পারভেজ লালু, পিতাঃ নুর হোসন, সাং পূর্ব সাত ঘরিয়া পাড়া, নয়া বাজার, ৭ নং ওয়ার্ড। তারা নিরবেই পাচার কাজ অব্যাহত রেখেছে। অপর দিকে উখিয়া উপজেলার ফালংখলী, থাইংখালী, বালুখালী, কুতুপালং এর ইয়াবা সিন্ডিকেট ও সক্রিয় হয়েছে বলে উখিয়ার কর্মরত সাংবাদিকরা জানান। তাদের মতে থাইংখালীর ইয়াবার ডিপু খ্যাত রহমতের বিলের মৃত্য আব্দুচছালামের পুত্র আব্দুররহীম, আদুল গফুরের পুত্র জামাল উদ্দিন, বৈদ্য জাফরের পুত্র রহিম, দক্ষিন রহমতের বিলের কালাপুতু, আনোয়ার আলীর পুত্র মন্জুর, ফালংখালী বটতলীর রাসেল, ফালংখালী ২নং ওয়ার্ডের বক্তার মেম্বার, ৩নং ওয়ার্ডের খোকন, করিম সহ অনেক ইয়াবা গডফাদার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইয়াবার বদৌলতে তারা প্রচুর সম্পদ, জায়গা জমি ধন সম্পদের মালিক বনেছে। তাদের বর্মাইয়্যা ইয়াবা গডফাদার নাজমুল হক, মংডুর সোহেল বর্তমানে থাংখালীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদরে সাথে গোপন বৈঠক করেছে বলে ও জানা গেছে। সোহেল ও নাজমুল ১৯ নং ক্যাম্পে বসবাস করলেও আড্ডা ও বসবাস করে বেশির ভাগ থাইংখালীতে বলেই জানান এলাকাবাসী। মাদক নির্মূলের স্বার্থে তাদের আইনের আওতায় না আনা হলে মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষনা কঠিন হবে। স্বচেতন মহলের মতে- মাদকের বিরুদ্ধে দ্রুত চিরুনী অভিযান জোরদার প্রয়োজন। তবে নিরীহ মানূষ অযথা হয়রানী যাতে না হয় সে দিকে ও খেয়াল রাখা জরুরী। এ ব্যাপারে টেকনাফের নবাগত ওসি জানান, মাদক কারবারী যেই হোক তারা ছাড় পাবেনা। আগে তাদের দালালদের চিহ্নিত করবো। উখিয়া থানার ওসি জানান, যে কোন মূল্যেই মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪০,৮৮৪,৮৯৯
সুস্থ
৩০,৪৯০,৬৪১
মৃত্যু
১,১২৬,৪৬৭
সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

dainikcoxsbazarekattor.com © All rights reserved