সংবাদ শিরোনাম :
পেকুয়ায় ডাম্পার-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২, আহত-৪ সৈকতে শতাধিক প্রতীমা বিসর্জন আসছে মাদক, ফিরছে কারবারীরা! ডাকাত সর্দার নজরুল বাহিনীর অবৈধ অস্ত্রের মুখে নাপিতখালী ভিলেজার পাড়ার বদি আলমের বাড়িতে ডাকাতি, থানায় এজাহার দায়ের জেলার আইনশৃংখলার উন্নয়নে পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও এগিয়ে আসার আহবান ইয়াবায় আন্ডার মেট্টিক ডেন্টাল চিকিৎসক গফুরের আলিশান জীবন করোনামুক্ত হলেন রামুর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবু বক্কর টানা ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে পর্যটন শহর-চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ মানবতার বিপরিতে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গারা! হুমকির মুখে সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্য
কক্সবাজারে সরকারি ৪৬৯টি ফ্ল্যাটের ৬১টিই গেল ৪ কর্তার পেটে

কক্সবাজারে সরকারি ৪৬৯টি ফ্ল্যাটের ৬১টিই গেল ৪ কর্তার পেটে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কক্সবাজারের কলাতলীতে সরকারের তৈরি করা ৪৬৯টি ফ্ল্যাটের ৬১টিই নামে-বেনামে ভাগ করে নিয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চার কর্মকর্তা। এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে আহ্বান করা হয়নি কোনো দরপত্রও। এই জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে দোহাই দেওয়া হচ্ছে মন্ত্রী-এমপিদের। সরকারি ওই ফ্ল্যাট বিক্রির তথ্যও বিস্ময়করভাবে কাউকে জানানো হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরাদ্দপত্র ইস্যুর রেজিস্টার খাতায় চোখ বুলালেই উঠে আসবে অনিয়মের আরও সব চমকজাগানো তথ্য।

৬১টি ফ্ল্যাট নিয়ে লুটপাটের নেপথ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চার কর্মকর্তা। এরা হলেন চট্টগ্রাম অফিসের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপসহকারী প্রকৌশলী পলাশ এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন।

শুধু কক্সবাজারেই নয়, এই চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রামের হালিশহর হাউজিং এস্টেটের জি ব্লকের ২৬০টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পেও। সেখানেও ফ্ল্যাট বরাদ্দে একইভাবে অনিয়ম করেন ওই চার কর্মকর্তা। সেখানে তাদের সঙ্গে আরও জড়িত আছেন হালিশহরের প্রকল্প কর্মকর্তা ফিরোজ আহমদ, নিলুফার বেগম ও আব্দুর রাফে খান চৌধুরী।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সরকারি ফ্ল্যাট বরাদ্দে অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবরে অভিযোগ দায়ের করেন হীরা নামের এক ভুক্তভোগী। গত ১ অক্টোবর এসব অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২।

জানা গেছে, কক্সবাজার জেলার কলাতলী এলাকায় সরকারি জমিতে ৪৬৯টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিস। ওই প্রকল্পের প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন ৭৫০ বর্গফুট। প্রতিটি ফ্ল্যাট দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বরাদ্দ পাওয়া এসব ফ্ল্যাটের টাকা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগও রাখা হয়। চার বছরের মধ্যে ফ্ল্যাটের পুরো অর্থ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। তবে তিন মাস পর পর এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭০ টাকা করে পরিশোধও করেছেন অনেকেই।

সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের কলাতলীতে ৪৬৯টি ফ্ল্যাটের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বরাদ্দ পান মো. আব্দুর রাজ্জাক ভূঁইয়া, অন্যান্য কোটায় নিখিল কুমার চাকমা, ব্যবসায়ী কোটায় মো. তৌহিদুল আলম। এছাড়া সংরক্ষিত কোটায় মোহাম্মদ মীর মিজারুল কায়েস, মো. ইসমাইল হোসাইন, মাহমুদুল হক, শিরিন রুখসানা, ফিরোজ আহমদ ও নুজহাত হাসিনাসহ আরও অনেকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন।

দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর অনুসন্ধান কর্মকর্তা বলেন, ‘কক্সবাজার জেলার কলাতলী এলাকায় সরকারি জমিতে ফ্ল্যাট অনিয়মের অনুসন্ধান শুরু হয় গত সপ্তাহে। সেখানে ৪৬৯টি মধ্যে ৬১টি ফ্ল্যাট সংশ্লিষ্ট দফতরের ৪ কর্মকর্তা নিজেরাই নিয়েছেন। তাদের পছন্দের লোকজনের কাছে এসব ফ্ল্যাট বিক্রি করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে দুদক চিঠি দিয়েছে। কারা এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য চেয়ে এ চিঠি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদেরও চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার করা ও তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদের অনুসন্ধান করা হবে। অনিয়মের সত্যতা পেলে ৬১টি ফ্ল্যাটের বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক।’

সূত্র: চট্টগ্রাম প্রতিদিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৭৮,৪৪৩
সুস্থ
৮৬,৪০৬
মৃত্যু
২,২৭৫

বিশ্বে

আক্রান্ত
৪৫,০৩৬,৪১০
সুস্থ
৩২,৮৪৮,৬৫১
মৃত্যু
১,১৮২,৫৪১
সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৯৪৯
৩৭
২,৮৬২
১৩,৪৮৮
সর্বমোট
১৭৮,৪৪৩
২,২৭৫
৮৬,৪০৬
৯০৪,৫৮৪

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

dainikcoxsbazarekattor.com © All rights reserved