দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অধিগ্রহণ কেন্দ্রীক ১০০ দালাল, গ্রেফতারের দাবি সেবাপ্রার্থীদের

দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অধিগ্রহণ কেন্দ্রীক ১০০ দালাল, গ্রেফতারের দাবি সেবাপ্রার্থীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজার জেলা কালেক্টরেটের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় নানা অনিয়ম- দুর্নীতির খলনায়কদের বিরুদ্ধে একের পর এক ধরপাকড় ও সাড়াঁশি অভিযানের পরও চিহ্নিতরা এখনো পূর্বের কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে।

দূর্নীতিবাজদের মধ্যে অর্ধডজন কর্মকর্তা ও তাদের পোষ্য দালাল চক্র গ্রেফতার হয়ে জেলে গেলেও সিংহভাগ দূর্নীতিবাজ মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে সেবাপ্রার্থী জমির মালিকদের নানাভাবে হয়রানী ও প্রতারিত করছে। সূত্র জানিয়েছে অধিগ্রহণ শাখার সরকারি দায়িত্বশীলরা অবৈধ পথে কাড়ি কাড়ি টাকা আয়ের কূ-উদ্দ্যেশ্যে তাদের অধিনস্থ দালালদের অভয় দিচ্ছে।

অধিগ্রহণ শাখার সহকারী কানুনগো ও সার্ভেয়ারদের নিয়ন্ত্রণে পুরো জেলায় শতাধিক দালাল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।তারা সহজ-সরল সেবাপ্রার্থীদের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ দ্রুত পাইয়ে দেয়ার নামে প্রলোভনে ফেলে নগদ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কমিশন কন্ট্রাকে বিভিন্ন জনসাধারণের কাছথেকে দালালচক্র অধিগ্রহণকৃত জমির ফাইল বুঝে নিয়েও এ কাজে কোন অগ্রগতি না করে পুরো টাকাই লুটেপুটে খাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে।

সেবাপ্রার্থী ভূক্তভোগীরা ঐসব দালালদের কাজের অগ্রগতি তদবির ও বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়ে স্ব-শরীরে ও ফোন করলে দালালচক্র এসব জিঙ্গাসার কোন সদুত্তর দিতে অপারগ। আবার কেউ কেউ সেবাপ্রার্থীদের কাছথেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখছে এবং মোবাইল ফোনও বন্ধ রাখছে।ফলে যোগাযোগ করতে না পেরে আদৌ তাদের ভাগ্যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে অধিগ্রহণ কেন্দ্রীক প্রায় ১শ দালাল এখনো তাদের পূর্বের কর্মকাণ্ডে সিদ্ধহস্ত।এরা অধিগ্রহনের দড়িঁবাজ কর্তাদের ছাপোষা। এ তালিকায় রয়েছে উমেদার রুপী কুমিল্লার মেহেদি।সার্ভেয়ার জিয়া তার গডফাদার।

রয়েছে কানুনগো নুরুল হক।সেন্টমার্টিনের রহিম জিহাদি ও মোঃ আলী,বাদল টিটু, ১নং ওয়ার্ডের সমিতি পাড়ার রমজান আলী,ধলঘাটার নুরুল কবির ও এহেছান, শাহাবুদ্দিন শান্ত, নোমান ডাঃ লিয়াকত আলী,নিরিবিলিতে বসবাসকারী সার্ভেয়ার নামধারী বাহার,কামাল,কানা আমিন মাতারবাড়ির মামুন,রেজা,একই এলাকার মৌলভী বশর, জসিম ও কালা কবির, ডিসির কর্মীর পরিচয়ে মনির হোসেন, সার্ভেয়ার বাহাদুরের অধীনে তাজু,ঢাকাইয়া লিটন পেকুয়ার আজিজ (গ্রেফতার তহসিলদার জয়নালের ছোটভাই) শাহানাজ কুতুবী, কালারমারছড়ার নজরুল ও মোঃ কামাল, সার্ভেয়ার হজরতের পরিচয়ে সুশিল ও ইমাম শরীফ।এদের মধ্যে ইনানির বাসিন্দা দালাল মহিবুল্লাহ ও কক্সবাজার এল এ শাখার সাবেক সার্ভেয়ার কেশব লাল গত ২৩ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড় থেকে দুদকের হাতে গ্রেফতার হন।তার দু,দিন পূর্বে কালারমারছড়ার ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার জয়নাল আবেদিনও চট্টগ্রামের একই এলাকা থেকে দুদকের হাতে ধরা পড়েন। কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিপূর্বে আটক দালালরাও ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রায় অর্ধশতাধিক দালাল ও সাংবাদিক সহ কয়েকজনের নাম ফাঁস করেন।

দুদকও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নামে। অনুসন্ধানের শুরুতেই দুদক ও র‌্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদ ওয়াসিম নামের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এক সার্ভেয়ারকে নগদ টাকাসহ আটক করে। তার তথ্যের ভিত্তিতে পরে ২২ জুলাই মো. সেলিম উল্লাহ, ৩ আগস্ট মোহাম্মদ কামরুদ্দিন ও সালাহ উদ্দিন নামের তিন দালালও বন্দি হয় দুদকের জালে। আটকের সময় এসব দালালের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকার নগদ চেক ও ভূমি অধিগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ মূল নথি উদ্ধার করা হয়। পরে আটককৃতদের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে গ্রেপ্তারকৃত তহসিলদার জয়নাল সহ প্রায় দেড়’শ দালালের নাম উঠে আসে।
এরপরই জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের প্রতি অমানবিক আচরণ ও আর্থিক হয়রানি প্রকাশ্যে আসে। এর পর পরই ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের এলএ শাখার ৩০ কর্মকর্তাকে এক আদেশে শাস্তিমূলক বদলি করে ভূমি মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় কর্মরত ১৯ জন সার্ভেয়ার, সাতজন কানুনগো ও চারজন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়।অধিগ্রহণে জালিয়তি ও ঘুষ গ্রহনের দায়ে কক্সবাজার সদরের তৎকালীন এসিল্যান্ড শাহারিয়ার মোক্তার, কানুনগো বসন্ত’ কুমার চাকমা সহ কক্সবাজার কালেক্টরেটের এক তহসিলদার এবং কানুনগো, সার্ভেয়ার, সহকারী ও মহেশখালী উপজেলার এক ইউপি চেয়ারম্যান সহ ২৪ জনকে তলবি নোটিশ দেন দুদক।এদিকে তলবি নোটিশ প্রাপ্ত তহসিলদার জয়নাল পরে গ্রেফতার হয়।দূ,দিন পর গ্রেফতার হন সার্ভেয়ার কেশব লাল তার দালাল মহিবুল্লাহ সহ।সূত্রে জানাগেছে ভূমি অধিগ্রহণে ১,২ ও ৩ সিরিয়াল ভুক্ত ৩ টি শাখায় অধিগ্রহণভূক্ত জমির সমস্ত কাজ সম্পন্নের জন্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সার্ভেয়ার -কানুনগো, সহকারী রয়েছেন।এদের মধ্যে প্রায়ই অসাধু হিসেবে চিহ্নিত। অফিস কেন্দ্রীক এ চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শতাধিক দালাল।এরা ইতিপূর্বে গ্রেফতার হওয়া দালাল সেলিম নামের একজনের মাধ্যমে অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার নাম ভাঙাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শহরের সোনালি ব্যাংকের নিচ তলায় এই সেলিমের আলিশান অফিস।সেখান থেকেই প্রতারণা হয়রানীর কমিশন বাণিজ্য নিয়ন্ত্রিত হয়।সচেতন মহল বলছেন,মার্কা মারা এই দালাল কীভাবে আবারো অধিগ্রহণের সিন্ডিকেট বাণিজ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে।তারা নতূন জেলা প্রশাসকের দায়িত্বকালীন আবারও মাথা চড়া দিয়ে উঠল তাও অজানা।এর কারণ উৎঘাটন পূর্বক শীর্ষ দালাল খ্যাত সেলিম সহ শতাধিক দালালের খপ্পর থেকে অধিগ্রহণভুক্ত জমির সেবাপ্রার্থীদের হয়রানী ও প্রতারণার হাতথেকে রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন উবর্ধতন মহলে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু

বিশ্বে

আক্রান্ত
সুস্থ
মৃত্যু
সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
সর্বমোট

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

x