সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁও’র কৃতি সন্তান শহিদুল ইসলামের পিএইচডি ডিগ্রী লাভ জেনারেল হসপিটালের রোহিঙ্গা কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত নেমেছে সিভিল সার্জন কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেই রোহিঙ্গা কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ সদর খুরুশকুল হামজার ডেইল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম ও ভাংচুর, লুটপাট হোয়াইক্যং ইউপির রইক্ষ্যং’য়ের আবুল ও বাবুল বাহিনীর অপকর্ম থামাবে কে? কক্সবাজার জেলায় সর্বত্র চলছে পাহাড় কাটা ইসলামপুরে জন্মসনদ ও সংশোধনে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন সচিব! স্বাস্থ্যবিধি মেনে হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষাবোর্ড পেকুয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরতদের অন্যত্র সরে যাওয়ার অনুরোধ মাদক সম্রাট জসীম ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক
(কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ত্রিরত্নের বেসামাল দূর্নীতি) কালাম মোস্তাসিনের অঢেল সম্পদের তদন্ত দাবি

(কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ত্রিরত্নের বেসামাল দূর্নীতি) কালাম মোস্তাসিনের অঢেল সম্পদের তদন্ত দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক কালাম মোস্তাসিন।কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ভাণ্ডার রক্ষক তিনি।এই মোস্তাসিন আলাউদ্দিনের চেরাগের দেখা না পেলেও নানা অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে পরিনত হয়েছেন টাকার কুমিরে।এসব অবৈধ বিত্ত বৈভব অর্জনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট দূর্নীতি তাকে এমন অবস্হায় নিয়ে গেছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে দূর্নীতিবাজ হর্তাকর্তাদের মধ্যে এই মোস্তাসিনও একজন।পদে পদে অনিয়মের স্বাক্ষ্য রাখা মোস্তাসিন উবর্ধতন কতৃপক্ষকে ম্যানেজ করে সদর হাসপাতালকে বানিয়েছে দূর্নীতির ভাগাড়।জেলার মহেশখালীর বাসিন্দা মোস্তাসিনের সরকারি চাকরিতে আগমন ঘটে ২০০১ সালে।তখন তিনি একই উপজেলার হাসপাতালে ভাণ্ডার রক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার প্রায় ৩ বছর চাকরি করে বদলী হয়ে আসেন জেলার সদর হাসপাতালে। এখানে এসেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটান তিনি।একের পর এক দাপ্তরিক দূর্নীতির মাধ্যমে গড়ে তুলেন সম্পদের পাহাড়। একই কর্মস্হলে প্রায় ১৫ বছর কাটিয়ে দিলেও তাকে আর বদলী হতে হয়নি কখনো।এর মধ্যে বেশ কয়েকবার বদলীর আদেশ হলেও প্রতিবারই উবর্ধতন কতৃপক্ষে তকবির করে বিপুল টাকা বিলিয়ে সেই বদলী থামিয়েছেন তিনি।

সরকারি কর্মচারির একই পদের ৩ বছর দায়িত্ব পালন শেষে অন্যত্র বদলী হলেও এ নিয়মের ব্যর্থয় ঘটিয়েছেন তিনি।চাকরিবিধি অমান্যের ভূরিভূরি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে থাকলেও এসবের কিছুই হয়নি তার।অনেকটা মুকুটহীন সম্রাটের ন্যায় স্বপদে বহাল থেকে অবৈধ অর্থ উপার্জনে সর্বদা ব্যস্ত এই কালাম মোস্তাসিন।ভাণ্ডার রক্ষক মোস্তাসিন সদর হাসপাতালের মালামাল ক্রয়ে নানা ক্ষেত্রে রাখছে দূর্নীতির স্বাক্ষর।এমন কি হাসপাতালের অঘোষিত ঠিকাদারও তিনি।ঔষধ কোম্পানিদের সাথে যোগসাজস করে নিন্মমানের ঔষধ ভাণ্ডারে জমা করলেও এসব ঔষধের বিল রশিদে উচচ মানের ঔষধের দাম উল্লেখ থাকে।

সূত্র জানায়,উন্নতমানের এসব ঔষধ বাইরে বিক্রয় করে দিয়ে নিন্মমানের ঔষধ ভাণ্ডারে জমা করেন তিনি।উবর্ধতন কতৃপক্ষের অডিট দল ভাণ্ডার পরির্দশনে এলে তিনি আগে ভাগেই তাদেরকে মোটা অংকের নজরানা দিয়ে পরির্দশন কান্ড বন্ধ করে দেন।বিপুল অংকের ঘুষ পেয়ে পরির্দশন দলও ফিরে যান। এ কাজে মোস্তাসিনের সহযোগী হিসাবে রয়েছেন একই হাসপাতালের প্রধান সহকারী তুষার পাল ও আরেক সহকারী এস্তাফিজুর রহমান সহ আরো কয়েকজন হর্তাকর্তা। ষ্টেশনারী ও মালামাল ক্রয়েও শুভঙ্করের ফাঁকি দেন তিনি।স্বাস্থ্য অধিদফতর ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে বরাদ্দকৃত ঔষধও তার আস্হাভাজন কয়েকজন ঔষধ বিক্রেতা ও সদর হাসাপাতাল রোডের কয়েকটি ফার্মেসিতে কৌশলে বিক্রি করে দেন তিনি।এমনকি মহাপরিচালকের কাছে প্রেরিত চাহিদা পত্রের অনুমোদন এনেও তা নিজের স্বার্থে ব্যবহারে করেন তিনি।

তাছাড়া বেডসিট,মেট্রেস,বালিশ ও লিলেনের সমস্ত সামগ্রী ক্রয়েও অনিয়মের আশ্রয় নেন তিনি।মহাপরিচালকের চাহিদা পত্রে রোগীদের ব্যবহার্য এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী উন্নতমানের হলেও ভাণ্ডারে আসতে না আসতেই তা নিন্মমানের পরিনত হয়।একইভাবে সার্জিক্যাল মালামাল গজ,বেন্ডিজ ও অন্যান্য পত্র ক্রয়েও ভয়াবহ দূর্নীতি ঘটাচ্ছে মোস্তাসিন।আউটসোর্সিং কর্মচারি নিয়োগেও হাত রয়েছে তার।এ কাজে তাকে তার সিন্ডিকেটভূক্তরা সহযোগীতা দেন।

রোহিঙ্গাদের ঔষধও নয়ছয় করেন তিনি।এমনকি ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্সদের সাথে যোগসাজস রেখে তাদের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম করেন তিনি।তাদেরকে শিখিয়ে দেয়া কথামতো প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদেরকে নার্সরা সরকারের দেয়া বরাদ্দকৃত ঔষধ না দিয়েও তা রোগীদের চিকিৎসা পত্রে একাধিক ঔষধের নাম উঠিয়ে নার্সদের মাধ্যমে যোগসাজসে হজম করেন তিনি। মোস্তাসিনের এসব অনিয়ম দূর্নীতির ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রাণালয়ের অডিট আপত্তিতে তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা গোপনে নজরানার মাধ্যমে সামাল দিয়েছেন।দাপ্তরিক এইসব অনিয়ম দূর্নীতির কাণ্ডারি মোস্তাসিন এখন অঢেল বিত্ত বৈভব ও সম্পদের মালিক।ইতিমধ্যে শহরের রুমালিয়ার ছড়া এলাকায় ৫ তলা বহুতল অট্টালিকা উঠিয়েছেন তিনি।ভবনটি গত ৫ বছর আগে মাথা তুলে দাড়ালেও এ ভবনের ফ্লাটভাড়া থেকে পাওয়া প্রতিমাসে প্রায় ২ লাখ টাকার হিসাব নেই সরকারে দেওয়া তার হলফনামায়।

সূত্র জানায়,এ ভবন নির্মাণে প্রায় ৫ কোটিরও অধিক টাকা ব্যয় করেছেন অনেকটা রাজ প্রসাদের আদলে নির্মিত এই ভবনে। বহুতল এই ভবনের বাইরে তার গ্রামের বাড়ি মহেশখালীতেও ভবন বানিয়েছেন তিনি।৫ তলা ভবনই শুধু নয় কক্সবাজার ও মহেশখালীর বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে স্বনামে বেনামে ও পুষ্যদের নামে একাধিক ব্যাংক হিসাব রয়েছে তার।সব মিলিয়ে গত ১৮ বছরের চাকরি জীবনে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকারও অধিক সম্পদের অধিপতি। এসব সম্পদ থাকার পরও সরকারি হলফনামায় তা গোপন রেখেছেন তিনি।জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদ অর্জন আইনের কাছে অপরাধ হলেও মোস্তাসিন এসব তোড়ায় কেয়ার না করে একের পর এক অনিয়ম দূর্নীতি অব্যাহত রেখে টাকার কুমিরে পরিনত হচ্ছে।

তবোও আইনের কাঠগড়ায় দাড়াতে হচ্ছে না তাকে।তবে সূত্রে জানায়,কক্সবাজার সদরের সেবাপ্রার্থীর এক আত্নীয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয় ও দুদকে মোস্তাসিন সহ আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে সুনিদৃষ্ট অভিযোগ দাড়ঁ করলে গত বছর দুদক তাকেও প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদ করেন।তাছাড়া মন্ত্রাণালয়ও স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অভিযোগ সম্পর্কে তদন্তের জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশ মোতাবেক চট্রগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গত দেড় বছরেও তেমন কোন ব্যবস্হা নেয়া হয়নি।তাই মোস্তাসিন ধরাকে সরাঙ্গান করে আপন গতিতে তার অনিয়ম দূর্নীতি সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে এই হাসাপাতালে।সচেতন মহল বলছে, সারাদেশে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রাঘব বোয়াল দূর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে যেখানে বেসামাল অভিযান চলছে সেখানে এই মোস্তাসিন কিভাবে এসবের সামলে নিচ্ছেন তা নানা প্রশ্নের উদ্যেগ করছে জনমনে।অভিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদফতর,দূদক সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্হার দ্রুত অভিযানে তার এসব অবৈধ সম্পদের তদন্ত দাবীও এলাকাবাসী সহ সচেতন মহলের।

এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,সবকিছু মিথ্যা এসবের কিছুর সাথে তিনি জড়িত নন,এমনকি তার তেমন কোন অর্থ বিত্ত নেই বলেও দাবি তার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

x