সংবাদ শিরোনাম :
ঈদগাঁও’র কৃতি সন্তান শহিদুল ইসলামের পিএইচডি ডিগ্রী লাভ জেনারেল হসপিটালের রোহিঙ্গা কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনা তদন্ত নেমেছে সিভিল সার্জন কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালেই রোহিঙ্গা কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ সদর খুরুশকুল হামজার ডেইল ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম ও ভাংচুর, লুটপাট হোয়াইক্যং ইউপির রইক্ষ্যং’য়ের আবুল ও বাবুল বাহিনীর অপকর্ম থামাবে কে? কক্সবাজার জেলায় সর্বত্র চলছে পাহাড় কাটা ইসলামপুরে জন্মসনদ ও সংশোধনে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন সচিব! স্বাস্থ্যবিধি মেনে হবে এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষাবোর্ড পেকুয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরতদের অন্যত্র সরে যাওয়ার অনুরোধ মাদক সম্রাট জসীম ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ডিবি পুলিশের হাতে আটক
হোয়াইক্যং ইউপির রইক্ষ্যং’য়ের আবুল ও বাবুল বাহিনীর অপকর্ম থামাবে কে?

হোয়াইক্যং ইউপির রইক্ষ্যং’য়ের আবুল ও বাবুল বাহিনীর অপকর্ম থামাবে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক::টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং এলাকায় আবুল কালাম ও বাবুল বাহিনী দিন দিন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। ছিনতাই,মুক্তিপণ আদায়, রোহিঙ্গাদের ইয়াবা লুটপাট,স্বর্ণ লুট,গুম সহ নানা অভিযোগ রয়েছে রইক্ষ্যং এর এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাদের কাছে রয়েছে ভারি অস্ত্রশস্ত্র। এলাকার একাধিক বিশ্বস্থ সূত্রে জানা যায়, তাদের ভারি অস্ত্র নিয়ে সম্প্রতি মিয়ানমারে গিয়ে স্বর্ণ লুট করে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে উক্ত বাহিনীর দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হলে দেশে এসে গোপনে চিকিৎসা করে। জসিম ও বাবুলের শরীরে এখনো গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে সূত্র জানায়। গত ২৪ মে ২০২১ আনুমানিক ৩ ঘটিকায় রইক্ষ্যং বনবিট( ফরেষ্ট অফিস) এর নিকটে দিনদুপুরে ৫/৬ রাউন্ড এলজি ফায়ার করে ৫ কার্ট ইয়াবা ও ১০ টি স্বর্ণের বার এর একটি চালান ছিনিয়ে নেয়ারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী সাংবাদিকদের জানায়, রইক্ষ্যং উত্তর পাড়ার এই চিহ্নিত বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জন রয়েছে । তাদের মধ্যে মোঃ হোছনের পুত্র আবুল কালাম, নজুম উদ্দিনের পুত্র বাবুল,জসিম,ওমর মিয়ার পুত্র আবুল কাশেম প্রকাশ বাড়ু, রফিক পিতা, কুরবান আলী,ভুলুর দুই পুত্র যথাক্রমে বিজল,কাজল, শাহাব উদ্দিন,তাদের কে আড়ালে থেকে লীড বা শেল্টার দেয় আবুল কাশেম ওরফে হাছিম। জনশ্রুতি রয়েছে, উক্ত কাশেম(মেম্বারপ্রার্থী) লুটকরা ইয়াবা ও স্বর্ণ কমমূল্যে কিনে নিয়ে ছড়া দামে বাহিরে বিক্রি করে। তার ভাই আবুল কালাম এসব কাজে নিজেদের শক্তি যোগাতে ২২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জনৈক “গুনজাইয়্যা”র নিকট থেকে ৯ এমএম. পিস্তল ও অপর একটি ১৮ রাউন্ড ম্যাগাজিন ও ছিনিয়ে নিয়েছিল। উক্ত অস্ত্র প্রায় সময় জসিম ও বাবুল বহন করে থাকে। অনেক সময় রোহিঙ্গাদের নিকট সোর্স মারফত ইয়াবার চালান ক্রয় করার কথা বলে রইক্ষ্যং বিট অফিসের পশ্চিমে এনে মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে অস্ত্র উচিয়ে চলে যায়। ছিনিয়ে আনা উক্ত মালামাল জমা রাখে কাশেম ও কালাম দুই সহোদরদের নিকট। এভাবে উক্ত বাহিনী নিজেদের আইনশৃংখলা বাহিনী পরিচয় দিয়ে নাফনদী ও ক্যাম্পের প্রবেশদ্বারে রোহিঙ্গাদের স্বর্ণ ও ইয়াবা লুটপাটের ঘটনা ও কম ঘটায়নি বলে জানান এলাকাবাসি ।
তৎমধ্যে শাহাব উদ্দিন কিছুদিন আগে অস্ত্র সহ আটক হয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে উক্ত বাহিনীর সাথে যোগ দেয়। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,তাদের সাথে আলী আকবরের পুত্র লেডাইয়্যা ও জড়িত রয়েছে। লেডাইয়্যা প্রায় সময় নাফনদীতে মাছ ধরার ভাঁন করে ইয়াবা কোনপথে,কে বা কারা কখন আনে তা তথ্য দেয়। তার তথ্য পেলেই উক্ত বাহিনী অস্ত্রসহ নেমে পড়ে অভিযানে। এভাবে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবরের পর থেকে ডাকাতি ছিনতাই,অপহরণ বাণিজ্যে অঢেল সম্পদের মালিক বনেছে তারা। একেক জনের এন্ড্রয়েড মোবাইল দেখলে সহজেই বুজা যাবে তারা কত বিত্তবৈভবের মালিক! অথচ উক্ত বাহিনীর প্রধান আবুল কালাম ও তার সেকেন্ড ইনকমান্ড বাবুলদের একসময় নুন আনতে পানতা পুরায় অবস্থা ছিল। এলাকাবাসী আরো জানায়, উক্ত বাহিনী গভীর রাত পর্যন্ত রইক্ষ্যং ফুলগাছ তলায় মোটা টাকায় ক্যাসিনোর আসর বসায়। প্রতিরাতে ৩/৪ লাখ টাকার জুয়া খেলে। এই টাকার উৎস কি? জাতি জানতে চায়। তবে অভিযুক্তদের সাথে সরেজমিনে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। আবুল কাশেম(মেম্বারপ্রার্থী) জানান, সকল তথ্য সঠিক। তবে আমি এই এসবের সাথে দ্বারে কাছেও নেই!
স্থানিয়দের মতে পুলিশের অভিযান শিথীল হওয়ায় তারা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে সমাজটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের এই অপকর্ম রুখবে কে? সচেতন মহলের এটিই প্রশ্ন। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়ারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

একাত্তর পত্রিকার প্রতিনিধি সভা

x