সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফের বাহারছড়ায় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য বন্দি থাকা ৩২ জন উদ্ধার ২ দিনের সফরে কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আকস্মিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি কাজল রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক ০১ উখিয়ায় এক একর বনভূমি উদ্ধার, স্থাপনা উচ্ছেদ ও ড্রেজার জব্দ ঈদে সেইলরের নতুন কালেকশন মহেশখালীর কুতুবজোমে লোমহর্ষক ঘটনা। পরিত্যাক্ত ভিটির কলা গাছের ঝোঁপ থেকে মা ছেলের মরদেহ উদ্ধার ১ লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হজযাত্রীদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে পেকুয়ায় আসছেন তারেক রহমান

ছনখোলা—এসএম পাড়া বাঁকখালী নদীতে ব্রীজ নির্মাণের দাবীতে মানববন্ধন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হ
কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর ছনখোলা—এসএম পাড়া বাঁকখালী নদীতে ব্রীজ নির্মাণের দাবীতে মানববন্ধন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ১ ডিসেম্বর (বুধবার) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ও ছনখোলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ছনখোলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ হাশেম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরে উন্নয়নের রোল মডেল। দূরদর্শী চিন্তা ও গভীর দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিচ্ছেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালী, মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের সৈনিক। বাংলার দু:খী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর  জন্য আপনি নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের আমলেই এই কক্সবাজার আশানুরুপ রেকর্ড  পরিমাণ উন্নয়ন হচ্ছে। অগ্রাধিকার বড় বড় রাস্তা—ঘাটসহ এখন উন্নয়নের মহোৎসব চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে ছোট্ট আরেকটি আর্জি নিয়ে তারা মানববন্ধনে সমবেত হন। সেটি হচ্ছে, বাঁকখালী নদীর উপর কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ছনখোলার খেয়াঘাট—কক্সবাজার শহরের এসএম পাড়া অংশে একটি ব্রীজ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বক্তারা আরো বলেন, কক্সবাজার সদরের একাধিক ইউনিয়নের মানুষ বিকল্প পথ হিসেবে নৌকা—সাম্পানযোগে ঝুঁকি নিয়ে ছনখোলা খেয়াঘাট পারাপার করতে হয়। বছর না যেতেই ওই ঘাটে নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনা অহরহ ঘটে যাচ্ছে। গত দু’এক বছরে ১৫ জনের অধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গেল বর্ষার মৌসুমেও নৌকাযোগে পারাপার হতে গিয়ে অনেক মায়ের বুক খালী হয়েছে, অনেক সন্তান তার মাকে হারিয়েছে, হারিয়েছে অনেকেই আত্মীয়—স্বজন। বর্ষার মৌসুম শুরু হলেই এপার—ওপার ভেঙে যাওয়ার কারণে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে মৃত্যুর ফাঁদ সৃষ্টি হচ্ছে। যে কারণে উক্ত ঘাটে প্রতিবছর একাধিক মানুষের সলিল সমাধি হচ্ছে। বিগত জোট সরকার (বিএনপি)’র আমলে ছনখোলা ঘাটে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন। জোট সরকারের পক্ষ থেকে ওই ছনখোলা—কক্সবাজার শহরের এসএমপাড়া (অংশে) খেয়াঘাটে প্রতিশ্রম্নত সেতু দ্রুত নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান যাচাই করে স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর ব্রীজের টেন্ডার হয়ে গেলে উক্ত ছনখোলা  খেয়াঘাটে  ব্রীজ তৈরি করার জন্য শ্রমিকের থাকার ঘরও তৈরি করেছিলেন ঠিকাদার। এসব দৃশ্য দেখার পর বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষ খুশির আমেজে মজেছেন। কিন্তু কয়েকদিন পর দেখা গেছে বিএনপির কিছু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে আশার গুড়ে বালি। অত্র এলাকার মানুষের স্বপ্ন ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। এক এক স্থাপনা গুড়িয়ে নিয়ে অপরিকল্পিত স্থান মাঝির ঘাট নামক স্থানে ব্রীজটি তৈরি করা হয়। যার দরুন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সিংহভাগ মানুষ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এরপর থেকে ছনখোলা—কক্সবাজার শহরের এসএম পাড়া অংশে একটি ব্রীজ নির্মাণের প্রক্রিয়ায় দৃশ্যত: আর কোন অগ্রগতি না দেখে হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছেন অত্র এলাকার মানুষ। পিএমখালী—কক্সবাজার শহরের এসএমপাড়া সংযুক্ত ব্রীজ নির্মাণ হলে কি কি সুফল পাবেন কক্সবাজারবাসী? বক্তারা বলেন, বাঁকখালী নদীরপাড়ের জনপদ পিএমখালী, ভারুয়াখালী, ঈদগাঁও উত্তরাঞ্চল এবং এর সঙ্গে আছে পুরো  দক্ষিণ বৃহত্তর ঝিলংজা। আমরা শহরের মূল পয়েন্ট যদি ধরি তাহলে বিশ্বের পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে দূরুত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার। একটি ব্রীজের কারণে এ দূরুত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে কখনও দুই/আড়াই ঘন্টা, কখনও তিন ঘন্টা। বঞ্চনার এখানেই শেষ নয়, শহরের এত কাছের জনপদ পিএমখালী, খুরুশকুল, ভারুয়াখালী অথচ এ জনপদ এখনও যেন অজ পাড়ার গাঁ। ব্রীজ এক পাশে শহরের বাতির আলো, আরেক পাশে গ্রাম—কুপির আলোয় অন্ধকার দূর করছে মানুষ। অথচ এ জনপদ হতে পারত একটি পরিকল্পিত উপশহর, হতে পারত একটি  মডেল টাউন। বর্তমানে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন সরকারী কারখানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইন্ডাষ্ট্রি করতে চাইলে জমি সংকোলন হওয়ার  কারণে করতে পারে না এবং এই জনপদে একটি ব্রীজের কারণে শত শত একর জমি পড়ে রয়েছে। ছনখোলা খেয়াঘাটে একটি ব্রীজ নির্মাণ হলেই এই জনপদের পরিত্যাক্ত জমিগুলো ব্যবহার করে সরকারের বাজেট পূরণে কিছুটা হলেও সুফল পাওয়া যাবে। নদী আর পাহাড়ের মিলস্থলকে ঘিরে হতে পারত দৃষ্টিনন্দন  পর্যটন স্পট। মানববন্ধন শেষে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। ৭১/এম ইউ নয়ন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *