বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড়

দুর্নীতির আলোচনায় পিআইও’র সহকারী আবছার মিয়া
* রিকশাচালকের ছেলে থেকে কোটিপতি
* সরকারি চাকরি, অজানা উৎসের সম্পদ
* অফিস সহকারীর বিলাসবহুল জীবনযাপন!
* কবরস্থানের নামে জমি দখল
* প্রকল্প তদবির ও ফাইল ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাৎ

বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সহকারী হিসেবে কর্মরত আবছার মিয়ার জীবনযাপন ও সম্পদের বিবরণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর চিত্র। সীমিত বেতনের এই সরকারি কর্মচারী গড়ে তুলেছেন ডুপ্লেক্স ভবন, ইটভাটা, স্কেভেটর, প্রাইভেট কারসহ একাধিক সম্পত্তির বিশাল সমাহার, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জানা যায়, আবছার মিয়ার জন্ম কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল এলাকায়। তার পিতা আব্দু শুক্কুর ছিলেন স্থানীয় মগ্গুল হোটেলের মালিকের রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী এক সাধারণ রিকশাচালক। মাত্র আট বছর আগেও পরিবারটি ছিল স্বল্পআয়ের সাধারণ পরিবার। অথচ আজ তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে একাধিক জমি ও বিপুল সম্পদ, যার বৈধ উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি প্রকল্পের কাজ, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় তদবির, ঘুষ এবং ফাইল ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে আবছার মিয়া গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। রামুতে তার নিজস্ব ডুপ্লেক্স বাড়ির সীমানা দেয়ালে বসানো হয়েছে উচ্চমূল্যের টাইলস, যা বিলাসবহুলতার একটি বড় প্রমাণ।
গোপন সূত্র ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, তার বা তার নিকট আত্মীয়দের নামে রয়েছে, রেলস্টেশন সংলগ্ন ২০ শতাংশ জমি, বাইপাস ব্র্যাক অফিসের পাশে ১৫ শতাংশ জমি, ব্র্যাক অফিসের পশ্চিমে ২০ শতাংশ জমি, নানার বাড়ি উখিয়ার ঘোনায় জমি, সাবেক রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজল-এর কাছ থেকে কেনা জমি, বাইপাসে মোজাফফরের ছেলে ও পুত্রবধূর নিকট থেকে কেনা জমি, দর্পণ বড়ুয়ার নিকট থেকে কেনা জমি সহ কক্সবাজার শহরের অভ্যন্তরে একাধিক জমি। বেশিরভাগ জমির দলিল তার বাবা, ভাই, বোন ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে, যা সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপনের একটি কৌশল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও বাণিজ্যিক সম্পদ ও যানবাহনের মধ্যে রয়েছে, নিজস্ব প্রাইভেট কার, স্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র), কলঘর নুরুল হকের থেকে কেনা সাগরের সাথে শেয়ারে এনএস ব্রিকফিল্ড (ইটভাটা) ও রামু উপজেলা গেইট সংলগ্ন কম্পিউটার দোকান।
আরো জানা যায়, বাইপাস এলাকায় জিন্নুরাইন জামে মসজিদের পাশে কবরস্থান নির্মাণের অজুহাতে জমি কম মূল্যে কিনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যত জমি দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বাস্তবে সেখানে কোনো কবরস্থান নির্মাণ শুরু হয়নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আবছার মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি চাকরির নির্ধারিত বেতনের পরিধি অনুযায়ী এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, বিগত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামিলীগের ছত্রছায়ায় থেকে আবছার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পিআইও অফিসের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসলেও বর্তমান সরকার আমলেও তা অব্যাহত আছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
যথাযথ কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসন যদি এটি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে, তাহলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয়, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে আসতে পারে, যা শুধু প্রশাসনের স্বচ্ছতা নয়, রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষার বিষয়েও বড় প্রশ্ন তুলবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *