সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফের বাহারছড়ায় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য বন্দি থাকা ৩২ জন উদ্ধার ২ দিনের সফরে কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আকস্মিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে এমপি কাজল রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ৬০ লক্ষ টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ আটক ০১ উখিয়ায় এক একর বনভূমি উদ্ধার, স্থাপনা উচ্ছেদ ও ড্রেজার জব্দ ঈদে সেইলরের নতুন কালেকশন মহেশখালীর কুতুবজোমে লোমহর্ষক ঘটনা। পরিত্যাক্ত ভিটির কলা গাছের ঝোঁপ থেকে মা ছেলের মরদেহ উদ্ধার ১ লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মহেশখালীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হজযাত্রীদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে পেকুয়ায় আসছেন তারেক রহমান

মহেশখালীতে মিষ্টি পানের দরপতন, ৪ হাজার একর জমির ২৭ হাজার পানচাষি হতাশ

মহেশখালীতে উৎপাদিত মিষ্টি পানের স্বাদ অনন্য। এটি দেশের গন্ডি পেরিয়ে সৌদিআরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে।

মহেশখালীতে মিষ্টি পানের ভাম্পার ফলন হলেও পানের মূল্য পানিরদরে হওয়ায় চাষিরা চরম হতাশায় ভোগছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পানের উৎপাদন বেড়েছে কিন্তু পানের মূল্য যেন পানিরদরের মত। মাস কয়েক আগে ভালো দাম পাওয়া গেলেও এখন হঠাৎ পানের দাম কমে গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। বর্তমানে প্রতি বিরা পান বিক্রি হচ্ছে ১০০–১৫০ টাকায়।

মহেশখালী উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এক বিরা পান উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়ে ১৫০ টাকা। সে খরচ তোলতে পারবেন কিনা, এ নিয়ে শঙ্কা কৃষকদের। গত বছরেও এই এলাকার চাষিরা পান বিক্রি করে কিছুটা হলে ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন। কিন্তু এবারে লোকসানের আতঙ্কে ভুগছেন মহেশখালী উপজেলার ২০ হাজার পানচাষি।

হোয়ানক টাইমবাজার পান বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিন শতাধিক চাষি পান নিয়ে সারিবদ্ধভাবে বাজারে ক্রেতার অপেক্ষা করছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকারি ক্রেতারা পান কিনছিলেন। তবে চাষিরা যে দাম হাঁকছিলেন, তার চেয়ে অনেক কম দামে পান বিক্রি হচ্ছিল। পান বিক্রি করতে আসা রাজুয়ার ঘোনা এলাকার পানচাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি বিরা পান ৪/৫শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এখন সে পরিমাণ পান ১৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় পানচাষিরা জানান, তিন বছর ধরেই পানের দাম পতনের দিকে। মাঝেমধ্যে দাম বাড়লেও তা এক মাসের বেশি স্থায়ী হয় না।
চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে আসা পান ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, সপ্তাহে দুই দিন মহেশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানের হাট বসে। আর এসব পানের হাটে চাষিদের কাছ থেকে পান কিনেন তিনি। এখানকার পান চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। গত কয়েক সপ্তাহে পানের দাম অনেক কমেছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে মিষ্টি পানের চাষ করেন প্রায় ২৭ হাজারের বেশি চাষি। ৪ হাজার একর জমিতে ছোট–বড় প্রায় ১৩ হাজার বরজ রয়েছে। চলতি অর্থবছরে (২০২৪–২৫) বরজগুলোতে প্রতি হেক্টরে ২০ টন মিষ্টি পান উৎপাদিত হয়েছে। এবার বিরা প্রতি বড় পান ১৫০ টাকা, মাঝারি ১০০ টাকা ও ছোট পান ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সির ডেইল গ্রামের চাষী আব্দুল গফুর বলেন, ১০ শতক জমিতে একটি পানের বরজ করেছি। পানের চারা কেনা, নির্মাণ সামগ্রী এবং শ্রমিকের মজুরি সহ সব মিলিয়ে ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন পান সংগ্রহের ভরা মৌসুমে পানের দর পতনের কারণে পুঁজি উঠে আসবে কিনা সন্দেহ দেখা দিয়েছে। মহেশখালীতে উৎপাদিত পান স্বাদে অনন্য। এটি দেশের গন্ডি পেরিয়ে সৌদিআরব, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

মহেশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, জাতে ভিন্নতা থাকায় দেশের অন্যান্য এলাকার পানের চেয়ে মহেশখালীর পান স্বাদে আলাদা। উপকূলীয় এলাকার মাটির গুণগত পার্থক্যের কারণে এই এলাকায় মিষ্টি পান হয়। পানের দাম কিছুটা কমেছে। তবে আশা করি চাষিরা এ বছর পানের নায্যামূল্য পেয়ে লাভবান হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *