1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
কক্সবাজার সৈকতে পথশিশুদের ড্যান্ডি আসক্তি বাড়ছে - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
জাহাজেই ঈদের নামাজ পড়লেন জিম্মি বাংলাদেশি নাবিকরা শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে সাতক্ষীরায় ২৫ গ্রামে ঈদ উদযাপন পার্বত্য জেলায় অস্থিরতার কারণে ঈদ কেন্দ্রিক পর্যটনের চাপ কক্সবাজারে পেকুয়ায় ৭ করাতকলে প্রশাসনের অভিযান ঈদের পরদিন থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী সব জাহাজ বন্ধ ঝিলংজার হাজিপাড়ায় সংঘবদ্ধ চোরের উপদ্রব।। আতংক চরমে কক্সবাজারে আইএমও কর্মকর্তা তুহিনের হামলায় ছাত্রসহ বৃদ্ধা মহিলা আহত! হোটেল থেকে নির্মাতা সোহানুর রহমানের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার ‘সন্ত্রাসী ইসরাইলি হামলা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে’ -ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী

কক্সবাজার সৈকতে পথশিশুদের ড্যান্ডি আসক্তি বাড়ছে

  • আপলোড সময় : বুধবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৭ জন দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার-আবু সালমান ফারহান:- কক্সবাজার সৈকত লাবণী পয়েন্টের কাছাকাছি সী গার্ল হোটেলের পাশে কথা হয় ১৪ বছরের কিশোর শাহীন (ছদ্মনাম) সাথে। রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের গ্রামের ছেলে। বাবা আরেকটি বিয়ে করে তিন ভাই বোন আর মাকে রেখে চলে গেছেন। তার আরেক বন্ধু তারেক ও সেলিমের অবস্থাও একই। তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়েছে লিটনের। লিটন ফোন কেনার স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা আরামবাগ থেকে এসেছে কক্সবাজারে। তাদের চারজনেরই বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে।
সী গার্ল হোটেলের পাশে সমুদ্রের ঝাউ বাগানে দেখা মিলল তাদের। বিকালের ব্যস্ত সময়ে চারদিকে যখন পথচারীরা ছুটছেন সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। তখন সমুদ্রের ঝাউ বাগানের কাছের একটি দেয়ালের নিচে বসে পলিথিনের ঠোঙায় ড্যান্ডি সেবন করছে এই চার শিশু।

একটু পরই এক হাতে ড্যান্ডি টানতে টানতে তারা রাস্তা পার হয়ে সী গার্ল হোটেলের পাশ দিয়ে সৈকতের দিকে যাচ্ছিল। সেখানে পেয়ে যায় আরও কয়েকজন সাথীকে। এরা সবাই একত্রিত হয় কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে। সেখানে কথা হয় তাদের সাথে।

আরেক শিশু লিটন জানায়, একদিন ট্রেনে উঠে কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে নামে সে। সব কিছুই অপরিচিত। কোথায় যাবে, কী খাবে কিছুই জানে না। স্টেশনে ছোটবেলার বন্ধুর সাথে দেখা হয়। সেও ড্যান্ডি খায়, আমারেও খাইতে বলে। প্রতিদিন একটা কৌটা কিনি ১২০ টাকায়। দিনে দুইবার হয়ে যায়। সমুদ্র দেখতে এসে সম-বয়সি আরও কয়েকজনের সাথে দেখা। এরাও ড্যান্ডি খায়। হয়ে গেল বন্ধুত্ব। তার এক বন্ধুর কিছু টাকা আছে। ভাবছি ওই টাকা দিয়ে মালা কিনব। তারপর কক্সবাজারে বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে তা বিক্রি কইরা যে টাকা পামু, তা দিয়ে মোবাইল কিনা বাড়ি যামু।

কক্সবাজার সৈকত এলাকা ছাড়াও শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে ১৩ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা নিয়মিত ড্যান্ডি সেবন করে। তাদের সবার হাতেই ড্যান্ডি ভরা পলিথিনের ঠোঙা।

সৈকতে বেড়াতে আসা স্থানীয় সাইফুল আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিও মেয়েরা প্রকাশ্যে সিগারেট খায়, আর ছেলে শিশু-কিশোররা ড্যান্ডি সেবন করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ জন শিশু রয়েছে যারা প্রতিনিয়তই ড্যান্ডি সেবন করে। তারা চুরির ধান্ধায় থাকে। ধরা পড়লে পাবলিকের মারও খায়। তাদের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই।

নেশার এ উপকরণের নাম ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ বা ড্যানড্রাইট আঠা, তবে ড্যান্ডি নামেই বেশি পরিচিত। ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ নামক আঠালো বস্তুটি (গাম) দিয়ে নেশা করে অসংখ্য পথশিশু-কিশোর। টলুইন সমৃদ্ধ এ অ্যাডহেসিভ মূলত ছোটখাটো ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ডিভাইস, চামড়া ও প্লাস্টিকের পণ্য জোড়া লাগানোর কাজে ব্যবহ্নত হয়। মূলত ড্যান্ডি আঠা ঘ্রাণযুক্ত এবং ঘ্রাণ থেকেই এক ধরনের আসক্তি হয়। এর ফলে এক ধরনের হ্যালোসিনেশনের মধ্যে থাকে সেবনকারী।

ইদানিং কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে হরহামেশায় দেখা মেলে ১৩ থেকে ১৪ বছরের ছন্নছাড়া শিশুদের। তাদের অনেকের পরিবার নেই, আবার অনেককে বাবা-মা ফেলে গেছেন। অনেকের বাড়ি আছে আবার অনেকেই সড়কেই থাকে। ভাঙাড়ি টুকিয়ে, কিংবা হাত পেতে দুমুঠো খাবার জোগাতে হয় তাদের। ক্ষুধার জ্বালা ভুলে থাকতে বিভিন্ন সড়কের এখানে-সেখানে বসে ড্যান্ডি খায়।

রংপুর থেকে অনেক ছোট বয়সে বাবা-মার সাথে কক্সসবাজার এসেছিল বাবু (ছদ্মনাম)। কক্সবাজারে তাদের দুই ভাইকে ফেলে রেখে চলে যায় বাবা-মা। বড় ভাই ভাঙাড়ি টুকিয়ে খাবার জোগাড় করেছে। ওকে বড় করেছে। এসব কেন খাও বলতেই বাবু বলে একমুঠো ভাতের জন্য অনেক কষ্ট করছি। অনেক মানুষের মাইর খাইছি ভাই আর আমি। আমার বন্ধু বলছে, এটা খাইলে ক্ষুধা লাগে না। ওর কাছ থিকা খাওন শিখছি। ভাঙাড়ি টোকাইয়া বিক্রি কইরা হার্ডওয়ারের দোকান থিকা ৮০ থেকে ১০০ অনেক সময় ১২০ টাকায় কিনি। এইটা খাইতে খাইতে যেদিকে মন চায় চলতে থাকি।

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR