1. coxsbazarekattorbd@gmail.com : Cox's Bazar Ekattor : Cox's Bazar Ekattor
  2. coxsekttornews@gmail.com : Balal Uddin : Balal Uddin
কক্সবাজারের শুটকি রফতানি হচ্ছে বিদেশেও - Cox's Bazar Ekattor | দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর
রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
জাহাজেই ঈদের নামাজ পড়লেন জিম্মি বাংলাদেশি নাবিকরা শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে সাতক্ষীরায় ২৫ গ্রামে ঈদ উদযাপন পার্বত্য জেলায় অস্থিরতার কারণে ঈদ কেন্দ্রিক পর্যটনের চাপ কক্সবাজারে পেকুয়ায় ৭ করাতকলে প্রশাসনের অভিযান ঈদের পরদিন থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী সব জাহাজ বন্ধ ঝিলংজার হাজিপাড়ায় সংঘবদ্ধ চোরের উপদ্রব।। আতংক চরমে কক্সবাজারে আইএমও কর্মকর্তা তুহিনের হামলায় ছাত্রসহ বৃদ্ধা মহিলা আহত! হোটেল থেকে নির্মাতা সোহানুর রহমানের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার ‘সন্ত্রাসী ইসরাইলি হামলা বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দিতে হবে’ -ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী

কক্সবাজারের শুটকি রফতানি হচ্ছে বিদেশেও

  • আপলোড সময় : শুক্রবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১৩৭ জন দেখেছেন

বিশেষ প্রতিবেদক:

শীত মৌসুমের শুরু থেকে কক্সবাজার উপকূলে চলছে পুরোদমে শুটকি তৈরি। সাগর থেকে ট্রলারে আনা ছুরি, লইট্টা, সুরমা, সুন্দরী, রূপচাঁদাসহ ২৫ প্রজাতির মাছের শুটকি তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এসব মাছ শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে শুটকি। শুটকি তৈরির কাজে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার নারী-পুরুষের। ব্যবসায়ীদের দাবি, মেকানিক্যাল ফিশ ড্রায়ার ও প্রচলিত পদ্ধতিতে শুকানো এই শুটকি মানসম্মত হওয়ায় চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। আর মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানালেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে শতভাগ মানসম্মত শুটকি বিদেশে আরও বেশি রফতানি সম্ভব।

এ নিয়ে কক্সবাজারের নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতা সোহেল বলেন, এ বছর আমরা আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদন করতে সক্ষম হবো। যার বাজার মূল্য ২ হাজার কোটি টাকা। এসব শুঁটকি মহলে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক।

জানাগেছে, কক্সবাজার জেলার ৬টি স্থানে প্রতিবছরের মতো পর্যটন ও শীত মৌসুমের শুরু থেকে কক্সবাজারের নাজিরারটেক, মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপ, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ, শাপলাপুর, সেন্টমার্টিন, কুতুবদিয়াসহ জেলার বিভিন্ন শুঁটকি মহালে শুঁটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। উপকূলীয় বেড়িবাঁধের উপর ও বিশেষ উপায়ে তৈরি বাঁশের মাচায় সূর্যের তাপে কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুঁটকিতে পরিণত করা হয়। বিভিন্ন শুঁটকি মহালে দেখা যায়, শুঁটকি মহালে শ্রমিকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ মাছ পরিষ্কার করছে, কেউ মাচায় শুটকি করার জন্য মাছ তুলছেন। কথা বলার সময় নেই শুটকি শ্রমিকদের।

শুঁটকি মহালের ব্যবসায়ী এরশাদ জানান, শীত ও পর্যটন মৌসুম শুরুর আগে থেকে শুঁটকি মহালে শুটকি উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে বছরের অধিকাংশ সময় বিরুপ আবহাওয়া থাকায় ও করোনাকালীন উৎপাদন বন্ধ ছিলো। এখন আবার পুরোদমে শুরু হয়েছে শুটকি উৎপাদন। এ বছরও রূপচাদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্যা পোপা, টেকচাঁদা, হাঙ্গর, ফাইস্যা, নাইল্যামাছসহ ২০-২৫ প্রজাতির মাছ শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে।

বর্ষাকাল ছাড়া বছরের ৯ মাস এখানে শুঁটকি উৎপাদন চলে। তবে, সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলে উৎপাদনে একটু ভাটা পড়ে।
নাজিরারটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আতিক উল্লাহ জানান, প্রায় ১শ একর এলাকাজুড়ে গড়ে উঠা এ শুঁটকি মহালে রয়েছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক আড়ৎ। দেশের সবচেয়ে বড় শুঁটকি মহাল হলো এই নাজিরারটেক। এখানে ব্যবসায়ীও আছেন প্রায় দুই হাজার। এ মহাল থেকে সবমিলে প্রতিদিন প্রায় দুইশ টন বিভিন্ন জাতের শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রতি মৌসুমে উৎপাদন হয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন শুঁটকি। যার বাজারমূল্য প্রায় দুইশ কোটি টাকা।
জেলার ৬ টি স্থান মিলে প্রতি মৌসুমে শুটকি উৎপাদন হয় আড়াই লক্ষ মেট্রিক টন যার বাজার মূল্য দেড় হাজার কোটি টাকা। এসব শুঁটকি মহলে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত আছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক। জেলার শুটকি মহল গুলো থেকে দৈনিক ৩০ থেকে ৩৫ মেট্রিক টন শুটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে ব্যবসায়ীরা নিয়ে যায়।

তিনি বলেন, প্রতিবছর সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব দেয়া হলেও শুঁটকি মহালে সুযোগ-সুবিধা তেমন নেই বললেই চলে। বিশেষ করে অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে শুঁটকির উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

এ নিয়ে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকতা এসএম খালেকুজ্জামান বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে আহরণ করা বিশেষ করে ছোট আকৃতির মাছগুলো দিয়ে শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। কক্সবাজারে উৎপাদিত শুটকি দিয়ে সমগ্র দেশের মানুষের চাহিদা মিটানো হচ্ছে। এমনকি শুঁটকির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

কীটনাশক ব্যবহারের কথা স্বীকার করে এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, এ প্রবণতা শুটকি উৎপাদনে দিন দিন কমে আসছে। নিরাপদ শুঁটকি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে কয়েকটি এনজিও সংস্থার সহযোগিতায় আমরা ইতিমধ্যে জেলার শুটকি ব্যবসায়ী এবং উৎপাদনকারীদের নিয়ে আমরা উদ্বুদ্ধকরণ সভা করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে উৎপাদিত শুঁটকির একটি বড় অংশ উৎপাদন হয় পর্যটন শহর কক্সবাজারে। একসময় কক্সবাজারে বেশ কয়েকটি শুঁটকির গ্রাম ছিল। কিছু দরিদ্র মানুষ শুঁটকি তৈরি ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন শুঁটকি উৎপাদন হয় বাণিজ্যিকভাবে, বিশাল কলেবরে।

কক্সবাজারে শুঁটকি উৎপাদনের সবচেয়ে বড় মহাল নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল। কক্সবাজার শহরের পশ্চিম সাগরের তীরে এই নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লী। এটি নতুন চর এলাকা। বছরজুড়ে এখানে চলে শুঁটকি মাছের উৎপাদন। বিশাল এলাকাজুড়ে শত শত বাঁশের মাচায় নানা জাতের মাছ শুকানো হয়।

শেয়ার করতে পারেন খবরটি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো বিভিন্ন খবর দেখুন

Sidebar Ads

ডাঃ কবীর উদ্দিন আহমদ

© All rights reserved © 2015 Dainik Cox's Bazar Ekattor
Theme Customized By MonsuR