মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !! খুরুশকুল ও রামুতে একাধিক অনুষ্ঠানে ব্যস্ত সময় পার করেছেন লুৎফুর রহমান কাজল এমপি কক্সবাজার প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত টেকনাফের বাহারছড়ায় মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য বন্দি থাকা ৩২ জন উদ্ধার

ভুমিদস্যু মারমেইডের পাশে কি প্রশাসন?

থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্টান, শব্দ ও আলোক দুষণের কবলে বালিয়াড়ীর জীববৈচিত্র

* নির্লিপ্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা,
* একজন ভুমিদস্যুকে কি অনুষ্টান আয়োজনের অনুমতি দিবে জেলা প্রশাসন?
* বিদেশী শিল্পীদের নাচে গানে দেশীয় সংস্কৃতির বারটা বাজাচ্ছে,
* অ-অনুমোদিত মাদকের হাট বসে প্রতিটি অনুষ্টানে!
* বার‘র অনুমোদন না থাকলেও মাদক থাকে দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য,
* জাতীয় পরিবেশ আইন-২০১৮ ও শব্দ দুষণ নীতিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক
রামু প্যাঁচারদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত মারমেইড ইকো-ট্যুরিজম লিমিটেড নাম দিয়ে শত একর ইসিএ এলাকা, প্রবাহমান খাল ও সৈকত দখল করে পরিবেশ বিধ্বংসী স্থাপনা নির্মান করে ব্যবস্য করে আসছে একটি ভুমিদস্যু সিন্ডিকেট। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের লোকদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে মারমেইড নিরাপদে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। মন্ত্রী আমলদের সাথে নিয়ে দীর্ঘদিন এ ব্যবসায় কেউ টু শব্দ করার সাহস পায়নি। এক সময়ে প্রতাপশালী কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রায় শত একর সরকারী ও ইসিএ এলাকাদখল করে নির্বিঘ্নে চালালেও ২৪ এর আন্দোলনের পর খোলস পাল্টিয়ে স্থানিয় কিছু বিএনপি-জামাতের লোকদের সুবিধা দিয়ে অবৈধ ব্যবসা নিরাপদ করার চেষ্টা করছে। এ কাজে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায় করে প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাও দেখেও না দেখার ভান করে আছে এমনটি জানান অনেকে। যার কারণে উচ্ছেদ অভিযান হয় লোক দেখানো টুনকো বারি আর মাসে মাসে অনুমতিহীন বিভিন্ন অনুষ্টান সহ বর্ষবরণ ও বিধায় অনুষ্টানের নামে মাদক ও দেশেী বিদেশী উলঙ্গ শিল্পীদের নাচ গান। কক্সবাজারের পর্যটনকে বিশ^ময় করার নামে বেহায়াপনর খেলা। যদিও মারমেইডের কোন বার‘র অনুমোদন নেই। এছাড়া সাগর কিনারায় ও ঝাউবাগানের মতো সেনসেটিভ জায়গায় রাতে আলোকসজ্জা আর গানবাজানা।এতে করে জাতীয় পরিবেশ নীতিমালা-২০১৮ ও শব্দ দুষণ নীতিমালা-২০২৫ এর চরম লঙ্গন করে সাগর পাড়ের জীব বৈচিত্র ধ্বংস করছে অবলিলায়। এটি নিয়ে কারো যেন মাথা ব্যথা নেই এমনটি অভিযোগ সচেতন মহলের। পরিবেশ দেখার দায়িত্ব যার হাতে তারা ও দায়সারা ভাব নিয়ে টুপাইস কামিয়ে নিচ্ছে বলেন পরিবেশবাদীরা। আর এতেই নির্লিপ্ত পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করে মারমেইডের মতো শত একর সরকারী জমি ও ইসিএ এলাকা আর বালিয়াড়ী দখলকারী একজন ভুমিদস্যুকে কি অনুষ্টান আয়োজনের অনুমতি দিবে জেলা প্রশাসন? তাহলে কি জেলা প্রশাসনও জড়িত মারমেইডের সাথে?
প্যাঁচারদ্বীপ এলাকার প্রবীন শিক্ষক কবির আহমদ বলেন, প্রশাসন মারমেইড থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সরকারী সম্পদ দখল ও পরিবেশ ধ্বংস করে অবৈধ ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। ভুমিদস্যু মারমেইডের পাশে কি প্রশাসন? আমরা তীব্র নিন্দ জানাই জেলা প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে। জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানাবো, মারইেডের দখলদারিত্বকে উচ্ছেদ করে ইসিএ এলাকাকে মুক্ত করে পরিবেশ ও সাগরপাড়ের জীব বৈচিত্রকে রক্সা করুন। জুলাই আন্দোলনের পরও আওয়ামী দোসর মারমেইড কি ভাবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়?
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা‘র কক্সবাজার জেলা সাধারন সম্পাদক কলিম উল্লাহ কলিম বলেন, পরিবেশের বারটা বাজিয়ে মারমেইড যে ভুমিদস্যুতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে তা প্রমাসনের সহযোগিতা ছাড়া অসম্ভব। আশা করি জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমরা উচ্চআদালতের নির্দেষনা মোতাবেক জেলার ইসিএ এলাকাকে মুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করছি। নইলে সমস্ত ইসিএ এলাকা মুক্ত করতে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেব।
এ বিষয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা‘র কক্সবাজার জেলা সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, প্রায় ১০০ একর সরকারী জমি, প্রবাহমান রেজু খাল, ইসিএ এলাকা ও বালিয়াড়ী জবর দখল করেও জেলা প্রশাসক কি ভাবে মারমেইডকে থার্টিফাস্ট নাইটে ঝাঁকজমক ভাবে অনুষ্টান আয়োজনের অনুমতি দেয়? আমি জেলা প্রশাসকের নিকট দাবী করবো মারমেইডকে থার্টিফাস্ট নাইটের মতো অনুষ্টান আয়োজনের যেন কোন ধরনের অনুমতি দেয়া না হয়। দিলে মনে করবো মারমেইডের দখলে জেলা প্রশাসনও জড়িত আছে। আর ইসিএ এলাকা থেকে মারমেইডকে উচ্ছেদ করা হউক।
এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর কক্সবাজার এর উপ-পরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, মারমেইডে কোন ধরনের বার‘র অনুমোদন নেই। মাদকের বিষয়টি আমাদের কানে আসায় আমরা মারমেইডকে সতর্ক করেছি। এরপরও থার্টিফাস্ট নাইটে মরমেইডে নজরদারীতে রাখবো। কোন ধরনের আইনের ব্যত্যয় ঘঠলে সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিব। বিদেশী কোন পর্যটকের মদের লাইসেন্স থাকলেও তা ইনডোরে মাদক নেবে। জন সম্মুখে মাদক সেবনের কোন আইন নেই লাইসেন্স থাকলেও। তবুও আমরা মারমেইডের বিষয়টি মাথায় রাখছি।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডিএসবি অলক বিশ^াস বলেন, থার্টি ফাস্টনাইট কি ভাবে হবে তা দেখার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের। জেলা প্রশাসক কাউকে অনুষ্টানের অনুমতি দিলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে মাদক সহ আইন শৃংখলা বিষয়ে দেখভালের দায়িত্ব আমাদের। ঐদিন আইন শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে জেলা পুলিম বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আশা করি প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও পর্যটক সহ সর্বস্তরের মানুষ সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ি থার্টিফাস্ট নাইট উৎযাপন করতে পারবে। আর মারমেইডে মাদকের বিষয়ে কোন অনিয়ম দেখলে অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে পুলিশ।
মারমেইডে থার্টিফাস্ট নাইট বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মন্নান বলেন, মারমেইড থার্টিফাস্ট নাইটের অনুষ্টানের অনুমতির আবেদন করেছি কিনা আমার জানা নেই। যদি করে অবশ্যই তা দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *