শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

চৌফলদন্ডী থেকে ইয়াবাসহ আটকের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ!

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে গত ২৬মে মাহাবুব নামে এক ইযাবা কারবারিকে বিপুল পরিমাণ ইযাবাসহ আটক করে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার এরশাদুল। সূত্রে জানাযায় ৭নং ওয়ার্ডের উত্তর পাড়া এলাকার ইমাম হোছনের ছেলে চিহ্নিত ইয়াবাকারবারি ইয়াবাসহ আটকের একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়।
২৬মে রাত ৭টার দিকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাহাবুব ও তার সহযোগী একই এলাকার আব্দুল মোনাফের ছেলে নুরুল ইসলামকে আটক করে।
ঘটনার বিষয়টি প্রশাসনকে না জানিয়ে চৌকিদার এরশাদুল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রাত ১০ টার দিকে ইয়াবাগুলো রেখে মাহাবুবু ও সহযোগীকে ছেড়ে দেন চৌকিদার এরশাদুল।
ঘটনার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্যোশ্যে ভিন্নভাবে নাটকীয়তা প্রবাহিত করেন চৌকিদার এরশাদুল। ইয়াবাসহ আটক হওয়া মাহাবুবুকে তার বাবার কাছে তুলে দেন নিরাপদে। ঘটনার বিষয়ে খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে শুরু হয় চুর পুলিশ খেলা। আটককৃত ব্যক্তি পালিয়ে যায় মিথ্যা বলে পুলিশকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন নেক্ক্যারজনক ঘটনা রহস্যজনক মনে করেন স্থানীয় প্রবীণ মুরুব্বি সমাজ। প্রশাসনের কর্মকর্তা বিষয়টি জোরালো তদন্ত না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ছিনিয়ে নেওয়া ইয়াবাগুলো ৮নং ওয়ার্ড নতুন মহাল বোয়ালিয়া পাড়া এলাকার আরেক ইয়াবা কারবারি জাহাঙ্গীরকে বিক্রি করেন। পরদিন পুলিশ এসে জানতে চাইলে মাত্র ২৪ পিছ ইয়াবা এবং কয়েকটা ভাঙা টুকরো দায়িত্বরত পুলিশের কর্মকর্তা এসআই মোশাররফকে বুঝিয়ে দেন চৌকিদার এরশাদুল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশাল অংকের ইয়াবা চলান নিজের জিম্মায় রেখেছে চৌকিদার এরশাদুল।
এভাবে তার বিশাল ইয়াবা সিন্ডিকেটের রাজত্বে নির্ভয়ে ইয়াবা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে ৭নং ওয়ার্ডের ডেইল পাড়া এলাকার নজির আহাম্মদের ছেলে ইয়াবা সম্রাট আমানুল হক, আব্দুল মোনাফের ছেলে নুরুল ইসলাম, কালু ফকির এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে সোহেল, ৮নং ওয়ার্ডের বজরুল জামানের ছেলে জাহাঙ্গীর, একই ওয়ার্ডের শামসুল আলমের ছেলে তৌহিদুল্লাহসহ রয়েছে তার বিশাল সিন্ডিকেট। চৌকিদার এরশাদুল প্রশাসনের লোকদের ম্যানেজ করে তার কথার বাহিরে কেউ গেলে মাদকের মামলায়সহ অনন্য মামলায়র ফঁসিয়ে দেওয়া হুমকি দেয়। চৌকিদার এরশাদুরের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস করলে তাকে মামলা মোকাদ্দমা, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে স্থানীয়রা জানান। এমন রহস্যজনক ঘটনা তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে চৌফলদন্ডীতে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই মোশাররফ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৫ গ্রাম পরিমান ভাঙা ইয়াবা স্থানীয় লোকদের সামনে উদ্ধার করি এবং কাউকে আটক করতে পারিনি কারন চৌকিদার এরশাদুল ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তবে পুলিশের দাবি, মামলা দেয়ার মতো উপকরণ পাওয়া যায়নি। ২৬মে রাত ৮টা সময় ডেইল পাড়া এলাকায় ইয়াবা সম্রাট আমানুল হক এর বাড়ি রাস্তার পাশে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কিছু লোভী জনপ্রতিনিধিদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবাকারবার।
ইয়াবাসহ আটকের পরও ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে চৌকিদার এরশাদুল এর ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বিষয়টি অস্বীকার করে ফোন কেটে দেন।
শহর থেকে গ্রামের সর্বত্র মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে মাদক। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ভেতর মাদক পাচারের পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়েছে ব্যাপক হারে বেড়েছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। দেশের সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে মাদকাসক্ত রয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের মধ্যে ইয়াবায় আসক্ত বেশি। আর অভিজাত শ্রেণীর মানুষ আইস, এলএসডি ও ডিওবি মাদকাসক্ত। শহর-গ্রামগঞ্জ, হাট-বাজার, মুদির দোকান, পথে, ঘাটে, মাঠে, অলি-গলিতে প্রকাশ্যে চলছে মাদক বেঁচাকেনা। সড়ক পথে মাছের ট্রাক, বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বহনকারী পরিবহন, বিলাসবহুল গাড়ি, বাস কভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে মাদক পাচার হচ্ছে। আমানুলের বিশাল সিন্ডিকেট রয়েছে নিজস্ব পরিবহন, একাধিক ইয়াবা মামলার আসামী আমানুল ও তার স্ত্রী। সম্প্রতি সময়ে ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে আটক হয় ইয়াবা সুন্দরী আমানুলের স্ত্রী।
সড়ক পথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট বেশি থাকায় এখন নৌপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশি যাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। এছাড়াও অভ্যন্তরীণ বিমান যোগেও মাদক পাচার হচ্ছে। বিমানের যোগেও পাচার করে যাচ্ছে এ সিন্ডিকেট এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত অর্থাৎ এমন কোন জায়গা নেই চৌফলদন্ডী তার হাতের ছোঁয়া ছাড়া যেখানে মাদক পাওয়া যাবে না। আগামী পর্ব দেখতে চোখ রাখুন দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকার পাতায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *