মোঃ আরাফাত সানি, টেকনাফ প্রতিনিধি:
মিয়ানমার থেকে টেকনাফে করিডোরের মাধ্যমে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ায় আসন্ন কোরবানে পশুর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।মিয়ানমার থেকে গত এক বছর টেকনাফের সাবরাং শাহ্পরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় এমনিতেই মাংসের সংকট,মুল্য বৃদ্ধি ও আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় পশুর সংকট দেখা দিয়েছে।গত বছর পবিত্র ঈদুল আজহার একদিন আগে কোন ঘোষনা ছাড়াই মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হয়ে যায়।যা এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে।ফলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় গবাদিপশুর তীব্র সংকট দেখা দিবে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত।
সুত্রে জানায়,চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে কোন গবাদিপশুর খামার না থাকায় টেকনাফ স্থলবন্দরের কাষ্টম বিগত ২০০৭ সালে মিয়ানমার থেকে করিডোরের মাধ্যমে গবাদিপশু আনার অনুমতি প্রদান করেন। ফলে শত শত গবাদিপশু মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।এতে যেমনি অত্র এলাকার মাংসের সংকট দুর হয় তেমনি সরকার এ খাতে প্রচুর রাজস্ব পেয়েছিল।
এ ব্যবসা চলাকালীন সময়ে অনেক নিম্ন বিত্ত পরিবার গবাদিপশু আনা – নেওয়ায় তাদের সংসার সুন্দর ভাবে চলে আসছিল।এখন করিডোর বন্ধ থাকায় ঐ নিম্ন বিত্ত পরিবারের লোকজন কোন কাজ কর্ম না পাওয়ায় অর্ধহারে অনাহারে দিন যাপন করছে বলে করিডোরে কাজ করা কয়েক জন শ্রমিক জানান।এদিকে টেকনাফের গবাদিপশু ব্যবসায়ী আলমগীর, শহিদুল ইসলাম,আবু ছৈয়দ সাবেক মেম্বার, মোহাম্মদ শরিফ মেম্বার জানান,আমরা দীর্ঘদিন পর্যন্ত সরকার কে রাজস্ব দিয়ে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু এনে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলে সাপ্লায় দিয়ে আসছিলাম।ফলে মিয়ানমারের গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের অনেক লেনদেন হয়েছে।আমাদের অনেক টাকা মিয়ানমারের গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের নিকট রয়ে গেছে।করিডোর বন্ধ থাকায় আমাদের বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা রয়ে গেছে।
করিডোর না খুললে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার যেমনি পশুর সংকট দেখা দিবে, তেমনি বাংলাদেশী গবাদিপশু ব্যবসায়ীদের শতকোটি টাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে জানান তারা। টেকনাফের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শরিফ মেম্বার জানান,শাহ্পরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে পশু আসলে আমার প্রায় শতাধিক শ্রমিক এ কাজে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে,অন্যদিকে যাতায়াতে কাজে শতশত ট্রাক ভাড়া পায় এবং সরকারও রাজস্ব পেয়ে লাভবান হয়,এখন আমরা গত এক বছর বেকার জীবন যাপন করছি।
এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ শাহিন আকতারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, খামারিদের বার-বার অভিযোগের কারণে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পূর্বেই মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি সম্ভাবনা নেই। তবে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত অপেক্ষায় আছি।
ডিসি৭১/এমইউনয়ন