নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের চৌফলদন্ডী ব্রীজের উত্তর পশ্চিম পার্শ্বে সরকারী জায়গার উপর অবস্থিত কক্সবাজার জেলা পরিষদ যাত্রী ছাউনি।
সরেজমিনে পাওয়া তথ্য মতে,এ যাত্রী ছাউনি ঘিরে রয়েছে বৃহত্তর ঈদগাহ, পোকখালী,গোমাতলী,খুরুসকুল, কক্সবাজার গামী এিমুখি সি এন জি ও টমটম ষ্টেশন।প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী সহ আনুমানিক ২০,০০০ হাজার মানুষের যাতায়ত এই ত্রিমুখী ষ্টেশন দিয়ে।গুরুত্বপূর্ণ এই ষ্টেশনে নির্মিত সরকারী যাত্রী ছাউনিটি বেদখল হয়ে এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। যাত্রী ছাউনির ভিতরে চেয়ার ও টেবিল বসিয়ে চলছে চায়ের দোকানের কেনাবেচা। শুধু তাই নই এ যাত্রী ছাউনি সহ উত্তরে, পূর্বে ও পশ্চিমে ফাউন্ডেশন দিয়ে নির্মিত হচ্ছে বহুতল ভবন।
সরকারী জায়গায় কিভাবে নির্মিত হচ্ছে এরকম বহুতল ভবন এমন প্রশ্নের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ১ম পর্বে বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
সহকারী কমিশনার ভুমি অফিস কক্সবাজার সুত্র মতে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত খাস জায়গা থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার বিগত ৬/০৩/২০০৪ তারিখে ৩২৪/০৩-০৪ নামজারি ও জমা জমাখারিজ মামলা মুলে ২১৬৬ নং খতিয়ান সৃজন করে চৌফলদন্ডী মৌজার উক্ত জমি সহ মোট ১৭.৪৮ একর জমির মালিকানা প্রাপ্ত হয়।পানি উন্নয়ন বোর্ডের উক্ত খতিয়ানের ৬২৯৬ নং দাগের জমির উপর জেলা পরিষদ যাত্রী ছাউনিটি অবস্থিত।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান,বিষয়টি জানতে পারে আমরা সরেজমিনে তদন্ত করে এসেছি,খুব শীগ্রই আমরা এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নিব।
অন্যদিকে জেলা পরিষদ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান,চৌফলদন্ডীতে জেলা পরিষদ যাত্রী ছাউনির সাথে ২ টি দোকান গৃহ জেলা পরিষদ পূর্ব থেকে লিজ দিয়েছিল।পরবর্তীতে স্থানীয় মহিলা এম পি কানিজ ফাতেমা আহমেদ এর পি এস জনাব এসারুল করিমকে যাত্রী ছাউনির উপরে ছাদে একটি দোকান বিনা জামানতে লিজ দেওয়া হয়।এবং মাসিক দোকান ভাড়া ১০০০ টাকা নির্ধারন করা হয়।যাত্রী ছাউনির বাইরে পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর পাশের অংশে বর্ধিত নির্মানাধীন ভবন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যাত্রী ছাউনির দুইটি দোকান ও উপরে দোতলায় একটি দোকান ছাড়া অন্য কোন দোকান কিংবা ভবন নির্মাণ এর দায়ভার জেলা পরিষদ বহন করবে না। এগুলোর জন্য জেলা পরিষদ কোন অনুমতি দেয় নি।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ এর সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা হিল্লোল বিশ্বাস জানান,আমি ট্রান্সপার হয়ে আসার পূর্ব পর্যন্ত চৌফলদন্ডী যাত্রী ছাউনির ২য় তলার একটি দোকানের অনুমোদন এর জন্য আবেদন এসেছিল, অনুমোদন হয়েছে কিনা আমি জানিনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বা সড়ক জনপথের জায়গায় জেলা পরিষদের দোকান লিজ দেওয়া কতটুকু আইনসঙ্গত এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই কর্মকর্তা জানান,যাত্রী ছাউনি এর সাথে একটি দোকান বা দুইটি দোকান এগুলো জনস্বার্থে করা হয়।সড়ক জনপথ কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ড চাইলে জনস্বার্থে যে কোন মুহূর্তে এগুলি ভেঙ্গে দিতে পারে। এখানে জেলা পরিষদ এর বলার কিছু থাকেনা।
ভবন নির্মাণকারী ব্যক্তি এসারুল করিম মুটোফোনে জানান,জেলা পরিষদ থেকে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি নিয়ে ভবন নির্মাণ করছি।