শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আট কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ জন, নারীর সংখ্যা আট কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী ১২ হাজার ৬২৯ জন। বহুল প্রতীক্ষিত জনশুমারি ও গৃহগণনায় দেশের জনগোষ্ঠীর এ ফলাফল মিলেছে।
বুধবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এ ফলাফল জানানো হয়। সারাদেশে গত ১৫ জুন একযোগে শুরু হয় জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম। গত ২১ জুন জনশুমারি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলায় বন্যা শুরু হওয়ায় এসব জেলায় শুমারি কার্যক্রম ২৮ জুন পর্যন্ত চলে।
খোজ নিয়ে দেখা গেছে, কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ এলাকায় জনশুমারির ও গৃহগণনার দায়িত্বে থাকাদের কোন দেখাই পাওয়া যায়নি। কক্সবাজারের লিংকরোড বিসিক এলাকার প্রায় জায়গায় জনশুমারি করতে দেখেনি স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ এখানে এরকম কোন মানুষ আসতে দেখিনি। বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনেছি জনশুমারি হচ্ছে, পেপার পত্রিকায়ও দেখেছি কিন্তু আমাদের এখানে আসেনি। সরকারের কাছ থেকে বেতন নিয়ে ফাঁকিবাজি করেছে কর্মকর্তারা। এখানে যেহেতু আসেনি হয়তো এরকম অনেক জায়গায় এরকম হয়েছে। সরকারের হিসেবে হাজার হাজার মানুষ বাদ পড়েছে এবারের গণনায়।
বিসিক এলাকার নয়ন নামের একজন জানিয়েছেন, গৃহগণনা হচ্ছে জানি, আমরা অপেক্ষায় ছিলাম, এখনো পর্যন্ত কোন মানুষ আমাদের বাড়িতে আসেনি। আজ দেখলাম সরকারের জনসংখ্যার হিসেব প্রকাশ হয়ে গেছে। তাহলে আমরা কি সরকারের হিসেব থেকে বাদ পড়ে গেলাম? আমি মনে করি জনশুমারি ও গৃহগণনা পুনরায় সংশোধন করা দরকার। কারণ আমার মতো শত শত ঘরবাড়ি বাদ পড়ে গেছে। কেউ স্বপ্নেও দেখেনি জনশুমারির লোকদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানানা, আদমশুমারি করতে কেউ আমাদের বাড়িতে আসেনি, সরকারের দায়িত্ব অবহেলা করে তারা হয়তো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফিরে বাড়িতে চলে গেছে, এমনও হতে পারে আমাদের এলাকায় যে দায়িত্ব নিয়েছিল সে হয়তো বাড়ি থেকেই বের হয়নি। সরকারের খাতায় মনগড়া একটা হিসেব দিয়ে দিয়েছে। যদি এলাকায় এসে থাকে আমাদের এখানে অনেক বাড়ি ঘর আছে কেউ দেখেনি তাদের, আমরাতো দেখিইনি। কক্সবাজারের ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন জনশুমারি যারা করেছে তাদের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার অন্যথায় এই জনশুমারি থেকে বাদ পড়াদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করা প্রয়োজন বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।
বিবিএস প্রতিবেদনে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম শুমারিতে দেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ১৫ লাখ। এরপর ১৯৮১ সালে জনশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫ জনে। ১৯৯১ সালে দেশে মোট জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১০ কোটি ৬৩ লাখে।
২০০১ সালে চতুর্থ আদমশুমারি ও গৃহগণনা করা হয়, এসময় জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ২৪ লাখ। ২০১১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জনশুমারিতে দেখা যায়, দেশের জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ কোটি ৪০ লাখ। ষষ্ঠ ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এ বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন।