মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ন
চকরিয়া প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের চকরিয়া কোনাখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনদুপুরে কুপিয়ে আপন দুই ভাইকে জখম করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা।
এতে আহত হয়েছেন ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আম্মারডেরা এলাকার আবদুল গনির ছেলে আবু তাহের ও তার সহোদর ভাই ইউসুফ আলী।
১১ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আবদুল হক পাড়া এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা।
এ ঘটনায় ইউসুফ আলী বাদী হয়ে ঢেমুশিয়া আম্মার ডেরা এলাকার আলী আকবর, সজরুল ও কোনাখালী এলাকার হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি বাহাদুর আলমের নামে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
আহত ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের পৈতৃক জমি থেকে ভাইবোন সাতজনের অংশের ১ একর ৫শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থেকে চাষাবাদ করে আসছি। হঠাৎ সোমবার সকালে আলী আকবর আমার জমিতে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক ধান রোপণ করতেছে। খবর পেয়ে চাষাবাদে বাঁধা দিলে আলী আকবর ও তার ছেলে সজরুলের নেতৃত্বে স্থানীয় ভাড়াটে সন্ত্রাসী, হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি বাহাদুর আমাদের উপর হামলা শুরু করে। এতে আমার বড় ভাই আবু তাহের ও আমাকে ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক ভাবে জখম করে। স্থানীয় চৌকিদার মোজাম্মেল ও স্থানীয় লোকজন আমাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় এমইউপি সেকাব উদ্দিনকে সরেজমিনে তদন্ত করে বিচার মিমাংসার দায়িত্ব দেন।
কোনাখালী ইউপির ৮নং ওয়ার্ডের এমইউপি সেকাব উদ্দিন বলেন, দুই ভাইয়ের জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি মিমাংসার জন্য আজকে (সোমবার) বিকেলে বিচারের সময় নির্ধারণ ছিল। বিচারের পূর্বেই আলী আকবর জোরপূর্বক ধান চাষ করতে গেলে, স্থানীয় চৌকিদারকে দিয়ে চাষাবাদ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিই। ইউনিয়ন পরিষদের নির্দেশ অমান্য করে আলী আকবর এই মারামারি ঘটনা সংঘটিত করেছে।
কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনায় আহত দুই ভাই ইউসুফ ও আবু তাহের রক্তাক্ত অবস্থায় আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দিই।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, কেনাখালীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় এজাহার পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।