মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি লবণের

* বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় ১৮ মে লবণ মৌসুম সমাপ্ত

নিজস্ব সংবাদদাতা:
এ বছরও দেশের লবণ উৎপাদনে রেকর্ড করলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে লক্ষমাত্রা পুরণ করতে পারেনি। বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে দেশে গত ১৮ মে লবণ উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। চলতি মৌসুম শুরু হয় ২৪ নভেম্বর/২৪ ইং তারিখ এবং শেষ হয় ১৮ মে/২৫ তারিখ । আর এ চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার ফলে এ বছরে লবণ উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে লবণের দাম নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ও হতাশা ছিল কক্সবাজার উপকূলের লবণচাষিদের। দাম বৃদ্ধির দাবিতে চাষিরা আন্দোলন-সংগ্রাম,সভা-সমাবেশ ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেও দাম বাড়াতে পারেননি । যদিও মৌসুম শেষের দিকে দাম কিছুটা বাড়লেও তা প্রান্তিক চাষীদের তেমন কোন লাভ হয়নি। উৎপাদনের চেয়ে তা ছিল খুবই সামান্য। এর মধ্যে পহেলা বৈশাখ থেকে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারের সাত উপজেলা এবং চট্টগামের তিন উপজেলার লবণ উৎপাদনের আর সুযোগ পায়নি চাষিরা। ফলে চাষিরা আরও বেশি লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন- বিসিকের কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মৌসুম শেষে লবণ উৎপাদন হয়েছে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ মেঃ টন। এরপর আবহাওয়া পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চাষিরা মাঠে নামতে পারেননি। সরকারিভাবে এ বছর দেশে লবণের চাহিদা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছর উৎপাদন হয়েছে ২৪ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ মেট্রিক টন।
চাষিরা বলছেন, এ বছর উৎপাদনের শুরুতে লবণের দাম কম ছিল। মিল মালিকেরা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠে। শেষ সময়ে দাম একটু বাড়লেও তা উৎপাদন খরচের চেয়ে কম ছিল। চাষিরা জানান, চৈত্র মাসের শেষদিন থেকে প্রায় প্রতিদিনই বৃষ্টি হয়েছে।বৈশাখ মাসের প্রখর রোদ লবণ উৎপাদনের ভর মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ায় সে সুযোগ তারা এবার পাননি।
প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মৌসুম ধরা হয়। এ সময়ে সমুদ্র উপকূলের জমিতে সাগরের লোনা পানি আটকিয়ে পলিথিন বিছিয়ে রোদে শুকিয়ে লবণ উৎপাদন করা হয়। চকরিয়া উপজেলার রামুপুর এলাকার চাষি নজরুল ইসলাম ও শহীদুল্লাহ জানান,বৈশাখের পুরো মাস ও জ্যেষ্ঠ মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মোক্ষম সময়। এসময় প্রখর রোদে দ্বিগুণ লবণ উৎপাদন হয়। কিন্তু এ বছর আবহাওয়ার প্রতিকূল অবস্থার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি কক্সবাজারে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস লবণ চাষিদের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মৌসুমের শেষ পর্যায়েও লবণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানান চাষিরা। চাষিদের অভিযোগ, ফড়িয়া, লবণ মিলমালিক ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে রেখেছে।
কক্সবাজার লবণচাষি ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই লবণের দাম ছিল না। এ নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধর্ণা দিয়ে কোনো লাভ হয়নি। তার ওপর বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন চাষিরা।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও ও টেকনাফে ৫৯ হাজার ৯৯ একর এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী,আনোয়ারা ও পটিয়ায় ১০ হাজার ৮৯ একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে। গত ২৪ মে পর্যন্ত ৫ মাসে লবণ উৎপাদিত হয়েছে ২২ লাখ ৫১ হাজার ৬৫১ মেঃ টন ।
বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূইঁয়া বলেন, এক মাস ধরে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে লবণ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটেছে। ফলে আবহাওয়া অনুকূলে না আসায় উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যা প্রান্তিক চাষীদের জন্য ছিল হতাশার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *