মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

দালাল সার্ভেয়ারে বন্দি এলএ অফিস

*২ জুন/২৫ ইং তারিখের ‘দৈনিক কক্সবাজার ৭১’ পত্রিকা বাজার থেকে উধাও, কেন?

*দুর্নীতির বরপুত্র সদর পিআইও’র সহকারী আবছার মিয়ার আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড়,
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
গতকাল ২ জুন/২৫ ইং তারিখের প্রকাশিত ‘দৈনিক কক্সবাজার ৭১’ পত্রিকা সকাল ১০টার আগেই হাওয়া হয়ে যায়। সকাল ১০ টা থেকে বিভিন্ন এলকা থেকে পাঠকদের ফোন আসতে থাকে পত্রিকা আধো প্রকাশ হয়েছে কিনা। রাতে পত্রিকার ‘দৈনিক কক্সবাজার ৭১’ ফেইসবুক পেইজে রাত ১২ টায় পত্রিকার ই পেপার আপলোড দেয়া হয়। আর সকালে পত্রিকা হকারদের হাতে যায়। কিন্তু সকাল ১০ টার পর থেকে বিভিন্ন লোক ফোন আসায় বাজারের হকার ও এজেন্টদের কাছ থেকে খবর নিয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয় সব পত্রিকা বাজার থেকে গায়েব হয়ে গেছে। তবে একাধিক হকার বলেছেন, এলএ শাখার কিছু চিহ্নিত দালল ও সদর উপজেলার পিআইও‘র সহকারী আবছারের পাঠানো এক লোক নেতৃত্বশীল একজন হকারের মাধ্যমে সব জায়গা থেকে পত্রিকা এনে কিনে নিয়েছেন।
কি ছিল গতকালকের পত্রিকায় ?
গতকাল দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকায় কক্সবাজার এলএ শাখার অনিয়ম ও দুর্নীতির তিনটি গুরুত্বপুর্ণ সংবাদ ছাপা হয়। তা হলো- ১/“সিন্ডিকেটের পকেটে প্রায় ৩ কোটি টাকা লোপাট,ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে ভয়াবহ জালিয়াতি”, ২/“এলএ শাখার উমেদার বিধান রুদ্রই যেন সব” ও ৩/“দুর্নীতির আলোচনায় পিআইও’র সহকারী আবছার মিয়া,আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড়”। পাঠকদের সুবিধার্থে সংবাদ তিনটির শিরোনাম ভিত্তিতে সার সংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।
ক্স “সিন্ডিকেটের পকেটে প্রায় ৩ কোটি টাকা লোপাট,ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে ভয়াবহ জালিয়াতি” শিরোনামের সংবাদে কক্সবাজার এলএ শাখার সার্ভেয়ার মোঃ বাকীরুল ইসলামের নেতৃত্বে কিছু দালাল সম্মিলত ভাবে কাগজ জালিয়াত করে ৩ কোটি টাকা লোপাট করে। জালিয়াতের মধ্যে নিম্নরূপ ছিল-
বাকিরুলের বিরুদ্ধে একটি আপোষনামার মাধ্যমে ঝাপুয়া মৌজার ১৪১ খতিয়ানের ১ একরের জায়গায় ৩ একর জমির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে, যেখানে তিনি একটি ফটোকপিকে প্রায় ৫০টি ফাইলে সংযুক্ত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদক সার্ভেয়ার বাকিরুল অফিসে গিয়ে দেখতে পান, তিনি অফিস টাইমে সাধারণত থাকেন না, বরং অফিস সময় শেষে ৫টার পর কাজ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং এলও কর্মকর্তা আরিফ ও এডিসি রাজস্বকে জিজ্ঞাসা করতে বলে দায় এড়িয়ে যান। এমনকি তিনি প্রতিবেদককে ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বলেন, “আমাকে প্রত্যাহার করে দিতে বলেন ডিসি বা ঊর্ধ্বতনকে এতে আমার মাথাব্যথা নেই। কারণ আমার যা করার ইতিমধ্যেই আমি করে নিয়েছি।”
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৬ মে, অর্থাৎ চেক বিতরণের দিন, রোয়েদাদ বইয়ে চেকের বিস্তারিত তথ্য বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এন্ট্রি সম্পন্ন করা হয়নি।
আশ্চর্যজনকভাবে, চেক বিতরণের ১৯ দিন পর, ২৫ মে, অফিসের অনিয়ম ঢাকতে অফিস সহকারী রিমন ও সার্ভেয়ার বাকেরুল ইসলাম উমেদার কামরুলকে দিয়ে রোয়েদাদ বইয়ের তথ্যে কাটছাঁট করান। তবে, এই তথাকথিত ‘কারেকশন’-এর পেছনে যে গুরুতর জালিয়াতি রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রোয়েদাদ বইয়ে চেক গ্রহণকারী এবং স্বয়ং ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকার কারণে।
বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, এলও কর্মকর্তা এটিএম আরিফ নিজেই রোয়েদাদের সাদা কপি এবং কারেকশন করা অংশের ছবি তুলে রেখেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, কেন চেক বিতরণের সময় নিয়ম মানা হলো না? দেরিতে ‘কারেকশন’ এবং তাতে স্বাক্ষর না থাকা কি প্রমাণ করে যে, এটি একটি পরিকল্পিত জালিয়াতির অংশ? আর এলও কর্মকর্তা কেন এসব অনিয়মের ছবি তুলে রাখলেন, তা কি দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা, নাকি দুর্নীতির প্রমাণ ধরে রাখার কৌশল?
এদিকে এলও শাখার চেক রেজিস্টার্ড বহি চেক করে দেখা যায়, ৩০৮০-৩০৮৪ এই ৫ টি সিরিয়ালে টাকা তুলার নথি হাতে আসে। এতে দেখা চেক রেজিস্ট্রার বহির ৩০৮০ সিরিয়ালের চেক নং ০৯৭৬২৩৬ এর বিপরীতে ১,১৯,৮০,৯২৭ টাকা তুলে মোঃ ইলিয়াস নামের এক গ্রহীতা। ৩০৮১ সিরিয়ালের চেক নং ০৯৭৬২৩৭ এর বিপরীতে ৩৯,৯৩,৬৪২ টাকার চেক গ্রহীতা শফিউল আলম, ৩০৮২ সিরিয়ালের চেক নং ০৯৭৬২৩৭ এর বিপরীতে ২৬,৬২,১২৪, টাকার চেক গ্রহীতা আবু বক্কর, ৩০৮৩-৮৪ সিরিয়ালের চেক নং যথাক্রমে ০৯৭৬২৩৮-০৯৭৬২৪০ এর বিপরীতে আরও দুজনের নামে চেক গ্রহণ করে।
অফিস সহকারী রিমন এই বিষয়ে তার হাত ধরে ফাইল জমা হয়েছে স্বীকার করলেও, বড় অনিয়মের সাথে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্থান ত্যাগ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
এলও-২ ও এলও-৩ শাখার এলও কর্মকর্তা এটিএম আরিফ জানান, উক্ত বিষয়ে ‘ভুল করে চেক দেওয়া হয়ে গেছে’। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনে টাকা ফেরত আনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রতিবেদককে আপাতত নিউজ না করার জন্য অনুরোধ জানান, যা তার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভূয়া জাল-জালিয়াতি নথি দিয়ে কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এডিসি রাজস্বের উপর দায় চাপিয়ে দেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) নিজাম উদ্দিনের বক্তব্য আরও বিস্ময়কর। তিনি বলেন, “মামলা থাকলে যে টাকা দেওয়া যাবে না এটা কোনো আইনে নাই। কেউ যদি ভুল তথ্য ও জাল জালিয়াতি ডকুমেন্টস সাবমিট করে কেউ টাকা তুলে নিয়ে যায় তাহলে সেটি নিয়ে আমরা ভেবে দেখবো।” মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও টাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, “মামলা থাকলে কি আদালত উক্ত টাকা না দিতে কোনো অর্ডার দিয়েছে?” তার এই বক্তব্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
জালিয়াতের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ নাজিম উদ্দিন ও জড়িত বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ।
ক্স “এলএ শাখার উমেদার বিধান রুদ্রই যেন সব” এই শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে যা ছিল-
কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ শাখা বড় কর্তা থেকে উমেদার, সবার নজরে কখন পাস হবে জমি অধিগ্রহণের চেক। তার আগেই নিয়ে যাবেন গোপনীয় চেক বইয়ের এডবাইজার জমির মালিকের বাড়ি। তারপর হাতিয়ে নেন কমিশনের লাখ লাখ টাকা।
প্রতিবেদকের হাতে একটি ভিডিও এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়-কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা-১ (অনিয়োগপ্রাপ্ত) উমেদার বিধান রুদ্র ও তার সহযোগীরা এলএ শাখার একটি সরকারি চেক, নথিসহ কমিশনের টাকার জন্য বৈঠক করতে দেখা যায়। যেখানে সরকারি নথি পর্যালোচনা করতেও দেখা যায়। যা থেকে প্রতিয়মান হয় যে তিনি কমিশনের টাকার জন্য গোপনে এ কাজ করেছেন।
সম্প্রতি ভিডিওতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ভুক্তভোগীরা তাকে উদ্দেশ্যে নানা রকম অভিযোগ তোলেন।
নাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা তাকার শর্তেও বিধান ও সার্ভেয়ার শওকত চাকমাসহ মিলে গত ৩ মার্চ অবৈধ ভাবে চেক দিয়ে দেন। তিনি আরো বলেন নুর নাহারের চেক বাসায় নিয়ে গোপনীয় চেক এডভাইজারসহ দেখাচ্ছে কমিশনের টাকায় জন্য বিধান, অফিসের এত গোপনীয় চেক এডভাইজার বই একজন উমমেদার কিভাবে পাবলিকের বাসায় নিয়ে যায়। বিধান ছেলেটা অফিসের কথা বলে ৩৪ লাখ টাকা নিয়েছে।
ইলিয়াসমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মোস্তাক জানান-রেলের জমি অধিগ্রহণ বাবদ চেক পাস করে দিবে বলে ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন বিধান। নেয়ার সময় বলেছিলেন এটা বড় কর্তাদের দিতে হবে। অন্য অজুহাত দেখিয়ে একটি টেইলার্স থেকে আরও ২১ লাখ টাকা নেন। যে মামলায় আপত্তি ছিল।
১৯০০ খতিয়ানের রোয়েদাদ নং-৬৭,৬৮,৭৯,৭০,৭১,৭৯,৮১,৮৩,৮৪,৮৫ এবং ৮৬ এর মোট ১৮কোটি টাকার চেকের কমিশন বাবদ ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন বিধানের নেতৃত্বে একটি চক্র। এলও মামলা নং-৪১৬১৭ এ মামলার ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ১৮ লাখ কমিশন নেন। বিমানবন্দর অধিগ্রহণের ৫৮নং রোয়েদার ভুক্তভোগীদের থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়েছেন। সব মামলায় আপত্তি ছিল।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘুষকাণ্ডে জড়িত এ উমেদার বিধান রুদ্র এলএ শাখারকৃত দুর্নীতি অপরাধ কর্মের দায় এড়াতে এবং অপরাধ ঢাকতে আইনজীবী সহকারী সমিতির কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ওই সমিতিরির একজন নিয়মিত সদস্য হিসেবে কার্ড সংগ্রহ করেছে বলেও জানাগেছে৷
অতচ, এলএ শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানাগেছে দীর্ঘ বছর ধরে এলএ শাখায় কর্মকালীন সময়ে একদিনের জন্য ও আইনজীবী সহকারী সমিতির অধীনে কিংবা কোন আইনজীবির অধীনে আইন সংশ্লিষ্ট কোন মামলা মোকাদ্দামায় কারো মোয়াক্কেলের বিষয়ের কার্যধারায় তার কোন ধরনের সংশ্লিষ্টটার অস্তিত্ব ছিলনা বলে দাবী করেন৷
উমেদার বিধানের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নামে বেনামে ৪থেকে ৫টির মত নতুন টি আর এক্স নোহা গাড়ি রয়েছে, শহরের মেইন রোডের আলগণি হোটেলের পশ্চিম পার্শে অবস্থি ফ্রোটের দোকান, শহরের বাইপাস সড়কের বিকাশ বিল্ডিং এলাকায় বিপুল অংকের টাকায় ক্রয়কৃত জমি রয়েছে৷ এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে জমিখরিদ করেছে মর্মে জানতে পেরেছি৷
ভূমি অর্ধিগ্রহণ শাখার ক্যাশিয়ার আলোচিত এ উমেদার বিধান রুদ্রকে বাঁচানোর জন্য সার্ভেয়ারগণ এবং চিহ্নিত দালাল চক্রের সক্রিয় সদস্যরা মরিয়া হয়ে কাজ করে যাচ্ছে৷ এবং তাদের লেলিয়ে দেয়া সহযোগীরা সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদেরকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে৷
ক্স “দুর্নীতির আলোচনায় পিআইও’র সহকারী আবছার মিয়া,আয়বহির্ভূত সম্পদের পাহাড়” শিরোনামে সংবাদে যা ছিল-
কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের সহকারী হিসেবে কর্মরত আবছার মিয়ার জীবনযাপন ও সম্পদের বিবরণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর চিত্র। সীমিত বেতনের এই সরকারি কর্মচারী গড়ে তুলেছেন ডুপ্লেক্স ভবন, ইটভাটা, স্কেভেটর, প্রাইভেট কারসহ একাধিক সম্পত্তির বিশাল সমাহার, যা তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
জানা যায়, আবছার মিয়ার জন্ম কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল এলাকায়। তার পিতা আব্দু শুক্কুর ছিলেন স্থানীয় মগ্গুল হোটেলের মালিকের রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহকারী এক সাধারণ রিকশাচালক। মাত্র আট বছর আগেও পরিবারটি ছিল স্বল্পআয়ের সাধারণ পরিবার। অথচ আজ তার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নামে রয়েছে একাধিক জমি ও বিপুল সম্পদ, যার বৈধ উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি প্রকল্পের কাজ, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় তদবির, ঘুষ এবং ফাইল ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে আবছার মিয়া গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন। রামুতে তার নিজস্ব ডুপ্লেক্স বাড়ির সীমানা দেয়ালে বসানো হয়েছে উচ্চমূল্যের টাইলস, যা বিলাসবহুলতার একটি বড় প্রমাণ।
গোপন সূত্র ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, তার বা তার নিকট আত্মীয়দের নামে রয়েছে, রেলস্টেশন সংলগ্ন ২০ শতাংশ জমি, বাইপাস ব্র্যাক অফিসের পাশে ১৫ শতাংশ জমি, ব্র্যাক অফিসের পশ্চিমে ২০ শতাংশ জমি, নানার বাড়ি উখিয়ার ঘোনায় জমি, সাবেক রামু উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কাজল-এর কাছ থেকে কেনা জমি, বাইপাসে মোজাফফরের ছেলে ও পুত্রবধূর নিকট থেকে কেনা জমি, দর্পণ বড়ুয়ার নিকট থেকে কেনা জমি সহ কক্সবাজার শহরের অভ্যন্তরে একাধিক জমি। বেশিরভাগ জমির দলিল তার বাবা, ভাই, বোন ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে, যা সম্পদের প্রকৃত উৎস গোপনের একটি কৌশল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এছাড়াও বাণিজ্যিক সম্পদ ও যানবাহনের মধ্যে রয়েছে, নিজস্ব প্রাইভেট কার, স্কেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র), কলঘর নুরুল হকের থেকে কেনা সাগরের সাথে শেয়ারে এনএস ব্রিকফিল্ড (ইটভাটা) ও রামু উপজেলা গেইট সংলগ্ন কম্পিউটার দোকান।
আরো জানা যায়, বাইপাস এলাকায় জিন্নুরাইন জামে মসজিদের পাশে কবরস্থান নির্মাণের অজুহাতে জমি কম মূল্যে কিনে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যত জমি দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। বাস্তবে সেখানে কোনো কবরস্থান নির্মাণ শুরু হয়নি।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত আবছার মিয়ার বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি চাকরির নির্ধারিত বেতনের পরিধি অনুযায়ী এত বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, বিগত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামিলীগের ছত্রছায়ায় থেকে আবছার মিয়া দীর্ঘদিন ধরে পিআইও অফিসের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে আসলেও বর্তমান সরকার আমলেও তা অব্যাহত আছে। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।
সকালে ফোনে এড. রফিক বলেন, এলএ শাখা এখন দালাল আর সার্ভেয়ার্দের হাতে বন্দি। হয়তো এদের কেউ পত্রিকা গায়েব করেছে। রাতে ফেইজে দেখে পত্রিকার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ১০ টায় হকার বললো দৈনিক কক্সবাজার ৭১ পত্রিকা সব বিক্রি হয়ে গেছে।
বাজার ঘোটার ব্যবসায়ী ছৈয়দুল হক ফোনে বলেন, রাতে ফেইজে পত্রিকা দেখে সকালে হকার থেকে না পেয়ে এজেন্টদের নিকট যাই , সেখানেও পত্রিকা না পেয়ে হকার যাকে দেখি পথে পত্রিকার কথা বললেই তারা বলেন বিক্রি হয়ে গেছে। অফিসে থাকলে আমাকে একটি পত্রিকা দেন।
এ ভাবে অর্ধশতাধিক পাঠক ফোনে পত্রিকার বিষয়ে জানতে ফোন করে। এদের অধিকাংশই এলএ অফিসের দুর্নীতি ও অনিয়মের কথা বলেন। বিশেষ করে সার্ভেয়ার ও কিছু চিহ্নিত দালাল এলএ অফিসকে গিলে ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *