শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী ঃ
ঘাট, পুকুর, যাত্রিী ছাউনি, দোকান, ডাকবাংলো সহ এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে অনিয়ম দুর্ণীতির ছুঁয়া লাগেনি। দিনের পর দিন কক্সবাজার জেলা পরিষদ দুর্নীতির আখঁড়ায় পরিনত হয়েছে। জেলা পরিষদের দুর্নীতির বরপুত্র অফিস সহায়ক সাবেক জেলা পরিষদের ক্যাশিয়ার খ্যাত রেজাউল করিম থেকে শুরু করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ পর্যন্ত কেউ বাদ নেই অনিয়মের ভাগ বাটোয়ারার টাকা পায়না। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ সেই রেজাউল করিমের সাথে আরো দুজন কর্মকর্তার একটি সিন্ডিকেট বর্তমানে সক্রিয় ভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে পাশ ও খাস কালেকশনের নামে লুটপাটের প্রকল্প গ্রহণ করে চলেছেন। শাহপরীর দ্বীপ জেটি, সেন্টমার্টিন জেটি, চৌফলদন্ডী ঘাট খাস কালেকশন, বিভিন্ন উপজেলার ডাকবাংলো সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার দোকান ও যাত্রী ছাউনি সহ বেশ কিছু পুকুর ইজারা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড। তসলিম নামের এক অফিস সহায়কের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে টিকাদরদের কাছ থেকে প্রধান নির্বাহীর কথা বলে নেয়া হচ্ছে ১০% কমিশন। অডিট আপত্তির কথা বলে ২% আদায় করে। তাছাড়া জুন ফাইনাল বলেও বিভিন্ন টিকাদার ইজরিদিার হতে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। বিভিন্ন যাত্রি ছাউনি এখন অবৈধ দখলে গিয়ে এখন আর যাত্রী ছাউনি নেই । মার্কেট আর দোকানে পরিনত হয়েছে। চৌফলদন্ডী এলাকার নুরুল আমিন বলেন, চৌফলদন্ডী বাজারের যাত্রী ছাউনি এখন মার্কেটে পরিনত হয়েছে। চকরিয়া ইলিশিয়া বাজারের যাত্রী ছাউনি ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের হাজারো ছাত্র ছাত্রী রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে একাকর হলেও যাত্রী ছাউনি এখন কুলিং কর্ণার ব্যবসায় মত্ত। এভাবে বিভিন্ন এলাকার যাত্রি ছাউনি দোকান টাকার মাধ্যমে চলছে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে।
ইতিমধ্যে কক্সবাজার জেলা পরিষদে পুকুর ইজারায় দুর্নীতি ও জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে আরও অধিকতর তদন্তের জন্য ১৪ জুলাই সকাল ১১টায় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কার্যালয়ে শুনানীতে স্ব-স্ব কাগজপত্রাদি সহ উপস্থিত থাকার জন্য উভয় পক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজার স্থানীয় শাখার সহকারী কমিশনার মো: ইরফানুল হাসান। এর আগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখা থেকে সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্ট্রেট) সুব্রত বিশ^াস দাশ পুকুর ইজারায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়ে কক্সবাজার জেলা পরিষদে পত্র ইস্যু করেন। গত ৫ মে তারিখে স্থানীয় ইফতেখার উদ্দিন কুতুবদিয়াতে পুকুর ইজারয় দুর্নীতি ও জালিয়াতি করা হয়েছে মর্মে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইজারা বাতিলের জন্য লিখিত আবেদন করেন।
এ বিষয়ে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ বলেন, ১৫/১৬ বছরের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারের রাজস্ব আয়ের জন্য ইজারার দেয়ার ব্যবস্থা করার কারনে অবৈধ দখলদারদের এই ভিত্তিহীন অভিযোগ। তাছাড়া ইফকোর উদ্দিনের জামাই পুকুর থেকে মাছ চুরি করে ধরা পড়ায় এসব অভিযোগ করাচ্ছে।
উল্লেখ্য সম্প্রতি কক্সবাজার জেলা পরিষদে অবৈধ ঘুষ গ্রহণ করার সময় কক্সবাজার দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ঘুষের টাকাসহ একজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেন। অপর কর্মচারী নিম্নমান সহকারী রেজাউল পালিয়ে যান। কক্সবাজার সদর থানায় দুইজনের নামে মামলা দায়ের করেন দুদক। সূত্র আরও জানায়, কক্সবাজার জেলার বহুল আলোচিত কক্সবাজার জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর পিএস জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা, দায়িত্বের অবহেলা ও পরিষদের কর্মচারী হত্যাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই। সাবেক জেলা পরিষদের সংরক্ষিত ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য রেহেনা খানম রাহু ভুক্তভোগিদের পক্ষে কক্সবাজার সেনা ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। সরকারি আদেশমতে দুই বছর পর পর বদলির আদেশ থাকলেও দুর্নীতিবাজ দুদকের দায়েরকৃত মামলার ১নং আসামি রেজাউল করিম আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাক আহমদের দোহাই দিয়ে একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, উখিয়া জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে ১৪টি দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘ ৯ বছর পর্যন্ত জেলা পরিষদের কোষাগারে পে-অর্ডার জমা করেননি। ওই আওয়ামী লীগ নেতাসহ রেজাউল ১৮ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন’র মাশুক আহমদ পুত্র বেলাল উদ্দিন ভুট্টোকে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল জেলা পরিষদ যাত্রী ছাউনি এবং হারবাং বাজারস্থ পরিষদের জমি লিজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন রেজাউল। যাত্রী ছাইনি না পওয়ায় ওই টাকা ফেরত পেতে তৎকালীন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহিনুল হক বরাবরে অভিযোগ দাখিল করেন বেলাল উদ্দিন ভুট্টো।
কক্সবাজার জেলা পরিষদের বিভিন্ন উপজেলার যাত্রী ছাউনির অনেক দোকান সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী টেন্ডার ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া শুধুমাত্র আবেদনের ভিত্তিতে বরাদ্দ প্রদান করেন রেজাউল। উল্লেখ্য সদর ডাকবাংলো সংলগ্ন মার্কেটের ২টি দোকানসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০টি দোকান আবদুল মান্নান সিন্ডিকেট করে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি করে ব্যক্তিগত ফায়দা গ্রহণ করেছে। রেজাউল করিম সিন্ডিকেট বিরুদ্ধে প্রতিবছর জাতীয় দিবসের আলোকসজ্জার ও নামে বেনামে আর্থিক সাহায্যের ভূয়া বিল, ভাউচার বানিয়ে সরকারের টাকা আত্মসাত করেছেন। ওই সিন্ডিকেট কলাতলী লাবণী পয়েন্টে ডমিনেস পিজার বকেয়া টাকা আদায় না করে পূর্বের তারিখ দেখিয়ে নথিতে স্বাক্ষরিত ব্যক্তিদ্বয় ইজারা নবায়নের নামে নগদ ১০ লক্ষ টাকা অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করেন, জেলা পরিষদকে দুর্নীতি অনিয়ম দুর করতে রেজাউলকে বহিস্কার করতে হবে।
এসব বিষয়ে, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল মারুফ দৈনিক কক্সবাজার ৭১ কে বলেন, আমি যোগদান করেছি ১ বছর হচ্ছে মাত্র। ইতিপুর্বে কোন অনিয়ম হলে দায় আমি কেন নিব? আর জেলা পরিষদের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন টিকাদার থেকে অনৈতিক কোন সুবিধা আদায় করে থাকলে আমাকে জানালে আমি কঠোর ব্যবস্থা নেব। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে , তদন্তের আগে কাউকে দোষি বলা যথাযত নয়। আমার দায়িত্বপালন কালে কারো কোন অনিয়ম আমি কঠোর হাতে দমন করবো। এবং আপনার দেওয়া তথ্য আমি নিজ দায়িত্বে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।