বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারের নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ইট ভাটা মৌসুমকে সামনে রেখে ফসলি জমির টপসয়েল লুটের মহোৎসব শুরু হয়েছে। এতে জড়িত রয়েছে এলাকা ভিত্তিক কয়েকটি শক্তিশালী মাটি লুন্ঠনকারী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে বিভিন্ন অপরাধ জগতের মাফিয়া ডনসহ বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামীরা। অনেকেই আবার রিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী পরিচয়ে বেপরোয়াভাবে মাটি লুটে নিচ্ছে সাধারন কৃষকদের ফসলি জমির টপ সয়েল।
অন্যদিকে মাটি লুন্ঠনকারীরা সাধারন কৃষকদের জিম্মি করে রাতের আধাঁরে তাদের ফসলি জমির মাটি লুটি নেয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এমনকি মাটি লুটেরা এলাকার চিহৃিত অপরাধী হওয়ায় অনেকটা ভয়-ভীতি দেখিয়েই কোন ধরনের ক্ষতি পুরণ ছাড়াই জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারন কৃষকদের।
বিশেষ করে ঈদগাঁও, জালালাবাদ, ইসলামাবদ ইউনিয়নে রাত নামলেই শুরু হয় ফসলি জমির মাটি লুটের মহোৎসব। আর এই মাটি লুন্ঠনে বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে লাইসেন্স বিহীন অবৈধ ডাম্পার। রাতভর এসব ডাম্পারের বেপরোয়া গতির শব্দদুষনে গ্রামের বাসিন্দাদের ঘুম হারাম হয়ে পড়েছে। ইটভাটায় সরবরাহের জন্য ফসলী জমি থেকে কেটে নেয়া টপ সয়েলবাহী দ্রুতগামী ডাম্পার ট্রাক রাতভর চলাচলের ফলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ অবস্থা চলে আসছে বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
প্রচন্ড শব্দের কারনে সারারাত ঘুমাতে না পারায় জনসাধারণ বিশেষ করে বয়োঃবৃদ্ধ, শিশু ও রোগীরা সীমাহীন দূর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছেন।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূক্তভোগীরা জানান, ঈদগাঁও ঝাইক্কাকাটা বিল হতে সাধারন কৃষকদের ফসলি জমির টপ সয়েল লুটে নিচ্ছে মাইজপাড়ার লম্বা হারুন ও লুলা হারুন সিন্ডিকেট। তারা অনেকটা জোর করেই জমির মাটি নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, মাটি কাটায় ব্যবহৃত ডাম্পারের কারনে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গ্রামীন সড়কগুলো।
বিশ্বস্ত সুত্রে প্রকাশ কালিরছড়ার কাইয়ুম ও জামিল খোদাইবাড়ীর দিদার কোম্পানি ইসলামপুরের আলোচিত শরিফ কোম্পানি সিন্ডিকেট সরাসরি ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ার কাজে জড়িত। ঈদগাঁও-ফরাজী পাড়া সড়কে প্রতিরাত ১০ টার পর থেকে শুরু হয় ফসলী জমির মাটিবাহী ডাম্পার চলাচল। বিভিন্ন বিল ও আবাদী জমি থেকে রাতের আঁধারে এক্সেভেটর দিয়ে এসব মাটি কেটে পূর্ব ফরাজী পাড়াস্থ টিকে ব্রিক ফিল্ডে পাচার করছে একটি সিন্ডিকেট।
প্রশাসনিক অভিযানের ভয়ে দিনের পরিবর্তে রাতে টপ সয়েল কাটছে তারা। এভাবে সারারাত চলছে মাটি বাহী ডাম্পারগুলো। আর দ্রুতগামী এসব গাড়ীর তুমুল শব্দে ঘুমাতে পারছেনা রাস্তার পার্শ্ববর্তী বাড়ীঘরের বাসিন্দারা।
স্হানীয়রা জানান, আইন কানুন ও নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ফসলী জমি ও লোকালয়ের মধ্যে গড়ে তোলা টিকে ব্রিক ফিল্ড আশপাশের আবাদী জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। এখন আবার নতুন যন্ত্রণা শুরু হয়েছে রাতে মাটিবাহী গাড়ি চলাচলে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় বলেন, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ ব্যাপারে ব্যবস্হা নেয়া হবে।