মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ন
কক্সবাজার ৭১ ডেস্ক:
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশের কক্সবাজারে। অন্যান্য দেশের সৈকতে বিদেশি পর্যটকের ভিড় থাকলেও কক্সবাজারে তা নেই বললেই চলে।
এ ঘাটতি পূরণে কক্সবাজারের পুরো পর্যটনচিত্রই পাল্টে ফেলা হচ্ছে। বিদেশি পর্যটক টানতে কক্সবাজার জেলায় থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুরের আদলে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্নিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের সাবরাং, নাফ ও সোনাদিয়া এলাকায় তিনটি বিশেষ (এক্সক্লুসিভ) পর্যটন পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। সাবরাংয়ে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল-মোটেল, রিসোর্টসহ বিভিন্ন পর্যটন সুবিধার কাজ আগামী জুনে শুরু হবে। নাফে শুরু হয়েছে সাড়ে ৯ কিলোমিটারের কেবল কার নেটওয়ার্কের কাজ। আর সোনাদিয়ার কাজ প্রক্রিয়াধীন।
বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পর্যটকের সংখ্যা ১০০ কোটির বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সাল নাগাদ এ সংখ্যা দাঁড়াবে ২০০ কোটি। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকদের প্রায় ৭৩ শতাংশ ভ্রমণ করবে এশিয়ার দেশগুলোতে। এ বিশাল বাজার ধরতে চাইলে বাংলাদেশে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। একটি সূত্র জানায়, সাবরাংয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৯টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১৫০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটন সুবিধার কাজ শুরু করতে ইতোমধ্যে তারা মাটিও পরীক্ষা করেছে। সিঙ্গাপুরের ইন্টার-এশিয়া গ্রুপ (পিটিই) লিমিটেড, নেদারল্যান্ডসের লিজার্ড স্পোর্টস বিভি, বাংলাদেশের হোয়াইট অরকিড গেস্ট হাউস, মুনলাইট ওভারসিজ, বিসমিল্লাহ, গ্রেট আউটডোরস অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার লিমিটেড, সানসিট বাই লিমিটেড ও গ্রিন অর্চার্ড হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড আগামী জুনে সাবরাংয়ে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের কাজ শুরু করবে। এসব প্রতিষ্ঠান এ খাতে কয়েকশ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এতে কর্মসংস্থান হবে কয়েক হাজার মানুষের।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মো. রাফিউজ্জামান সমকালকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করতে হলে বিদেশি বিনিয়োগকারী জরুরি। এ জন্য এক্সক্লুসিভ ট্যুরিজম পার্কের সুবিধাগুলো বিদেশিদের জানাতে হবে, যাতে তারা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হয়। আন্তর্জাতিক প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।
তিনি বলেন, বিদেশি পর্যটকদের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় তারা আমাদের দেশে ভ্রমণ করতে আসছে না। তারা চায় আনন্দ করতে, নাইট ক্লাবে থাকতে, নিরাপত্তার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে। এগুলো আমরা দিতে পারছিলাম না।