বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা ২১ মিনিটে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া, ৬ জনের যাবজ্জীবন ও বাকিদের খালাস দিয়েছেন আদালত। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেনÍবাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
এ ছাড়াও, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে, বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত এপিবিএনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহকে।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
হত্যাকাণ্ডের ৪ দিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিতকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। আদালত কক্সবাজারের র?্যাব-১৫-কে মামলাটির তদন্তভার দেন।
৭ আগস্ট মামলার আসামি ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র?্যাব। এরপর ২৪ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে।
এ মামলায় ৪ মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীর নামের তালিকাসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র?্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৫ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায়ে কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ ও টেকনাফের বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার গতকাল সোমবার বিকেল ৪টা ২১ মিনিটে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন।
এজলাশ কক্ষের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রদীপ ও লিয়াকত। মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনে তারা এজলাশ কক্ষের কাঠগড়ায় বসে পড়েন। এ সময় তাদের খুব বিষণ্ণ দেখা গেছে।
এ ছাড়া মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ৬ আসামি কান্নাকাটি ও চিল্লাচিল্লি করতে থাকেন এবং চিৎকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
আদালতে রায় ঘোষণার পর খালাস পাওয়া ৭ আসামি উল্লাস প্রকাশ করেন। সে সময় তারা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করেন।
এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি (পিপি) ফরিদুল আলম রায় ঘোষণার পর বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা ছিল মোট ১৫ জন আসামিরই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে। কিন্তু আদালত সব কিছু বিবেচনায় প্রধান ও দ্বিতীয় আসামি লিয়াকত আলী ও প্রদীপকে কুমারকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। বাকি ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’
রায় ঘোষণার আগে গতকাল সকাল ৮টা থেকে ১৫ আসামির আত্মীয়-স্বজন আদালত প্রাঙ্গনে উপস্থিত হতে শুরু করেন। রায় ঘোষণার পর তাদের অনেকেই কান্নাকাটি করেন।
কয়েক হাজার মানুষ রায় ঘোষণার আগে আদালত প্রাঙ্গনে জড়ো হন। এ ছাড়া ওসি প্রদীপের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনগণের ব্যানারে মানববন্ধন ও স্লোগান দেওয়া হয়। রায়ের পর তাদের অনেকে উল্লাস প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া লিয়াকতের ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
হত্যাকাণ্ডের ৪ দিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। প্রদীপ কুমার দাশকে ২ নম্বর ও বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিতকে ৩ নম্বর আসামি করা হয়। আদালত কক্সবাজারের র?্যাব-১৫-কে মামলাটির তদন্তভার দেন।
৭ আগস্ট মামলার আসামি ৭ পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় ৩ বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে র?্যাব। এরপর ২৪ জুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আদালতে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে।
এ মামলায় ৪ মাসের বেশি সময় তদন্ত শেষে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ৮৩ জন সাক্ষীর নামের তালিকাসহ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র?্যাব-১৫ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৫ জনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগপত্রে সিনহা হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পরিকল্পিত ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিনহাকে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে: আদালত
মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
গতকাল সোমবার কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এই রায় দেন। হত্যাকাণ্ডের ১৮ মাসের মাথায় এ রায় দিলেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘ঠান্ডা মাথায়, ষড়যন্ত্রমূলক ও পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির ব্যাপারে আদালত বলেন, ‘আদালত বলেছেন, হত্যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, লাথি মারা, সহযোগিতায় হত্যা, মৃত্যু নিশ্চিত, আলামত নষ্ট, খুন ও মাদক মামলা করে অপরাধ করেছেন প্রদীপ। পাশাপাশি লিয়াকত গুলি করে হত্যা, নাটক সাজানো, হত্যার পরিকল্পনা করা, শাস্তিমূলক অপরাধ করেছেন।’
রায় শুনে আদালতের কাঠগড়ায় হট্টগোল শুরু হয়। তবে প্রদীপ ছিলেন নিশ্চুপ। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত রায় শুনেই হাউমাউ করে কান্না জুড়ে দেন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে সিনহা হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাঁকে গুলি করেন বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।
৫ লাখ টাকার লোভে মসজিদের মাইকে মিথ্যা ঘোষণা দেন ৩ সোর্স
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) চেকপোস্টে মেজর (অব.) সিনহাকে হত্যা করা হয়। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে এ ঘটনা ঘটে। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাঁকে গুলি করেন বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনহা তাঁর সঙ্গী সিফাতকে সঙ্গে নিয়ে মারিশবুনিয়ার টুইন্যার পাহাড়ে ‘টাইম ল্যাপস’ ভিডিও করতে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর পাহাড়ে আলো দেখে স্থানীয় কয়েকজন তাঁদের ডাকাত বলে সন্দেহ করেন।
মারিশবুনিয়ার মসজিদ থেকে যখন ‘ডাকাত’ বলে মাইকিং করা হচ্ছিল, তখন নিষেধ করেছিলেন ইমাম জহির আলম। তিনি বলেছিলেন, তাঁরা সেনাবাহিনীর লোক। পাহাড়ে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়েছিল।
গতকাল সোমবার রায় পড়ার সময় আদালত জানান, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামে ওই ঘটনার দিন সোর্সকে সিনহার বিষয়ে বিস্তারিত বলেছিলেন। মুখের কথায় রাজি না হওয়ায় তাঁদের ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার লোভ দেখান প্রদীপ।
টাকার লোভে পড়ে মসজিদের মাইক দিয়ে পাহাড়ে ‘ডাকাত’ পড়েছে বলে ঘোষণা দেন তাঁরা।
জেনেবুঝে হত্যা চেষ্টায় অংশগ্রহণ করায় ওই তিন সোর্স নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এ মামলায় গতকাল ঘোষিত রায়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন পরিদর্শক লিয়াকত আলি ও টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া ৬ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৭ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেনÍ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাগর দেব, রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দীন।
আর বেকসুর খালাস পেয়েছেনÍ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এসআই শাহজাহান আলী, কনস্টেবল মো. রাজীব, মো. আব্দুল্লাহ, পুলিশের কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, লিটন মিয়া ও পুলিশের কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন।
গতকাল কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে এই রায় দেন। হত্যাকাণ্ডের ১৮ মাসের মাথায় এ রায় দিলেন আদালত।
রায় ঘোষণার সময় আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘ঠান্ডা মাথায়, ষড়যন্ত্রমূলক ও পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।’
২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে সিনহা হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাঁকে গুলি করেন বলে মামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর ৫ আগস্ট সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে হত্যা মামলা করেন। মামলায় টেকনাফ থানার তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনকে আসামি করা হয়।
ফাঁসি কার্যকর হলে সন্তুষ্ট হব : সিনহার বোন
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেছেন, লিয়াকত ও প্রদীপের ফাঁসি কার্যকর হলেই কেবল তিনি সন্তুষ্ট হবেন।
২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলায় টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো. লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সোমবার বিকেলে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের পর আদালতের বাইরে শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, ‘আমার প্রত্যাশিত রায় হয়েছে। এই রায়ের জন্য প্রসিকিউশন এবং আদালতকে আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি সেদিনই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হব যেদিন লিয়াকত ও প্রদীপের ফাঁসি কার্যকর হবে। আমার আশা দ্রুত তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।
এই মামলায়, প্রদীপ ও লিয়াকতের ফাঁসির পাশাপাশি ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাকি সাত আসামি খালাস পেয়েছেন। যাবজ্জীবন সাজা প্রাপ্ত আসামিরা হলেনÍবাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বরখাস্ত উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, বরখাস্ত কনস্টেবল সাগর দেব, দেহরক্ষী রুবেল শর্মা, পুলিশের সোর্স শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।
এ ছাড়াও, পুলিশের সোর্স নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
খালাস দেওয়া হয়েছে, বরখাস্ত কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, বরখাস্ত এপিবিএনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহজাহান, বরখাস্ত কনস্টেবল মো. রাজীব ও মো. আবদুল্লাহকে।
অপরাধ করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে : প্রদীপের সৎ ভাই
অপরাধ করলে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। রায়ে কি ঘোষণা আসছে তাঁর জন্য টেলিভিশনে খবর দেখছেন তিনি।
সোমবার রায় ঘোষণার আগে দুপুর দেড়টার দিকে এসব কথা বলেন সাবেক ওসি প্রদীপের সৎ ভাই রণজিত দাশ।
বাড়ির অদূরে রণজিত দাশের চায়ের দোকান। তিনি দোকানে টেলিভিশনের খবর দেখছেন বারবার। আবার কাস্টমারদের কাছে পণ্যও বিক্রি করছেন। ৫ ভাই ও ৭ বোনের মধ্যে রণজিত দাশ সবার বড়। ওসি প্রদীপ দাশের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর সারোয়াতলী গ্রামে। মৃত হরেন্দ্র দাশের ৫ ছেলের মধ্যে ওসি প্রদীপ হলেন চতুর্থ সন্তান। হরেন্দ্র দাশ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চাকরিজীবী ছিলেন।
টিভিতে রণজিত দাশ আলোচিত সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যা মামলার রায়ের অপেক্ষায় আছেন তিনি।
রণজিত দাশ জানান, ওসি প্রদীপের পড়াশোনা এবং বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। গ্রামেও আসতেন। প্রদীপের স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। বাড়িতে অন্যান্য ভাইয়েরা পাকা বাড়ি রয়েছে। তবে ওসি প্রদীপের অংশের বাড়িটি এখনো টিন ও বেড়া দিয়ে জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
ওসি প্রদীপের কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী খুব একটা তাঁদের ভালো চোখে দেখছেন না জানিয়ে রণজিত দাশ বলেন, ‘কারও একার অপরাধের দায় তো সবাই নিতে পারে না। তবুও আত্মীয়স্বজন সবার কাছে হেয়প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে আমাদের।’
এদিকে বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া একটি মন্দিরের উৎসব হবে আজ। সে উপলক্ষে প্রদীপদের বাড়ির উঠানে করা হয়েছে প্যান্ডেল। কিন্তু গতকাল রায়ে দিনে সুনসান নীরবতা আর থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করতে দেখা গেছে প্রদীপের গ্রামের বাড়ি ঘুরে।