শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

ইরান, উ. কোরিয়ার মতো বিচ্ছিন্ন হতে পারে রাশিয়া

৭১ অনলাইন ডেস্ক:

রাশিয়া ইউক্রেনে অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত নিষেধাজ্ঞায় পড়ছে রাশিয়া। এ নিয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন রুশ সরকারের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের মহাপরিচালক আন্দ্রে কর্চুনফ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেহেদী হাসান

কালের কণ্ঠ : রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের আসল উদ্দেশ্য কী?

আন্দ্রে কর্চুনফ : ইউক্রেন ন্যাটোর কাছাকাছি চলে যাচ্ছিল। আর এটি ঠেকানো প্রেসিডেন্ট পুতিনের উদ্দেশ্য। ন্যাটো রাশিয়ার কাছাকাছি চলে আসুক, এটি পুতিন চান না। পুতিন বলেছেন, তিনি ‘নব্য নাৎসি গোষ্ঠী’ থেকে ইউক্রেনের জনগণকে মুক্ত করতে চান।

ওই গোষ্ঠী এখন ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে
প্রভাবশালী। পুতিনের সামরিক অভিযানের ব্যাখ্যা আপাতত এতটুকুই।কালের কণ্ঠ : রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর একের পর এক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কী হবে?

আন্দ্রে কর্চুনফ : নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়তে সময় লাগবে। রাতারাতি হবে না। বেশির ভাগ নিষেধাজ্ঞা মূলত প্রতীকী। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে দিন দিন বিচ্ছিন্ন হতে থাকবে। রাশিয়া তার বাজার হারাবে। বিশেষভাবে বলতে গেলে, জ্বালানি সম্পদ, তেল-গ্যাসসহ রাশিয়ার অন্যান্য বাজার নষ্ট হতে যাচ্ছে।

রাশিয়া ইরান, উত্তর কোরিয়ার মতো বিচ্ছিন্ন হতে পারে। নতুন নতুন প্রযুক্তি রাশিয়া পাবে না। রাশিয়ার জনগণের জীবনযাত্রার মানেও এর প্রভাব পড়বে। এর কারণ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বর্তমান সামরিক অভিযান।

কালের কণ্ঠ : রাশিয়ার সাধারণ মানুষ একে কিভাবে দেখছে বলে আপনি মনে করেন?

আন্দ্রে কর্চুনফ : পুতিনের এই অভিযান কত দিন ধরে চলে, ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়, তার ওপর রাশিয়ার জনগণের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে। কারণ রাশিয়ার বেশির ভাগ নাগরিক এখনো বিশ্বাস করে, এই অভিযান তুলনামূলক সহজ হবে। খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। তারা আরো বিশ্বাস করে, ইউক্রেনের জনগণ রাশিয়ার সেনাদের স্বাগত জানাবে।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি খুব সীমিত আকারে হবে। তাদের এই ধারণা ও বিশ্বাসগুলো ভুল প্রমাণ হলেই রাশিয়ার জনগণের মনোভাব বদলে যাবে। তখন রাশিয়ার বিরোধী পক্ষ এ বিষয়টি তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে যাবে।

কালের কণ্ঠ : প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে আসলে কী অর্জন করতে চান?

আন্দ্রে কর্চুনফ : প্রেসিডেন্ট পুতিন মনে করেন, ইউক্রেনে যে পরিবর্তন এবং ন্যাটোর সঙ্গে ইউক্রেনের সহযোগিতা রাশিয়ার জন্য হুমকি। ইউক্রেন-ন্যাটো সহযোগিতাকে রাশিয়া তার নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ও বড় ধরনের ঝুঁকি মনে করে। সাত বছর আগে মিনস্ক চুক্তির শর্তও ইউক্রেন মেনে চলতে ব্যর্থ হয়েছে বলে পুতিন মনে করেন। তিনি আরো দাবি করেছেন, ইউক্রেন সামরিক অভিযান চালিয়ে ড্যানবাস দখলের চেষ্টা করছিল।

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশে রাশিয়ার বড় বিনিয়োগ আছে। সে ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ আছে বলে মনে করেন?

আন্দ্রে কর্চুনফ : এটি নির্ভর করছে নিষেধাজ্ঞাগুলো কেমন, তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সমস্যা হলো মূল নিষেধাজ্ঞার বাইরে আরো নিষেধাজ্ঞা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কেবল সরাসরি হয় না। তারা নিষেধাজ্ঞার শিকার ব্যক্তির সংস্থা ও সংস্থার বন্ধুদেরও টার্গেট করে। তাই তারা কোন খাতে কী নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তার ওপরই মূলত প্রভাবটা নির্ভর করছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশ-রাশিয়া বিনিয়োগ-বাণিজ্য সম্পর্কে খুব একটা প্রভাব পড়বে না। তার পরও বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি বাংলাদেশকেই চিন্তা করতে হবে। বিশেষ করে, রাশিয়ার যে কম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা আছে তারা ইউরোপ, আমেরিকার বাজারে আছে কি না, থাকলে নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছে কি না, সে বিষয়টি বাংলাদেশকে বিবেচনায় নিতে হবে।

কালের কণ্ঠ : পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বড় কোনো যুদ্ধ বা রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা কি আপনি দেখছেন?

আন্দ্রে কর্চুনফ : ইউক্রেনকে অস্ত্রশস্ত্র দেওয়ায় ন্যাটোর সঙ্গে রাশিয়ার সরাসরি যুদ্ধ বাধার কারণ আমি এখনো দেখছি না। ন্যাটো ইউক্রেনে সৈন্য পাঠাবে—এমন সম্ভাবনা কম। এর পরও যদি ন্যাটো সৈন্য পাঠায়, তবে ন্যাটো-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হবে। সেটা হলে তা পারমাণবিক যুদ্ধেও গড়াতে পারে।

কালের কণ্ঠ : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আন্দ্রে কর্চুনফ : কালের কণ্ঠকেও ধন্যবাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *