বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০২:২৫ অপরাহ্ন
কক্সবাজার ৭১ ডেস্ক:
মহেশখালীতে পেট্রোবাংলার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) খালাসকারী সামিট গ্রæপের ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান টার্মিনাল ও পুনরায় গ্যাসে রূপান্তরকরণ ইউনিট ফের চালু হয়েছে। প্রায় চার মাস আগে টার্মিনালটির মুরিং বিচ্ছিন্ন হয়ে অপারেশন বন্ধ থাকার পর ১ মার্চ থেকে ফের চালু হয়েছে। ৪ মার্চ (শুক্রবার) দুই কোম্পানির টার্মিনাল মিলে ৭৮১ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে আরপিজিসিএল। আগামী ৬ মার্চ এলএনজি নিয়ে নতুন আরেকটি ভ্যাসেল আসার কথা রয়েছে।
দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে এলএনজি আমদানি ও সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে বঙ্গোপসাগরে দুটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ করে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট। এর মধ্যে পৌনে তিন বছর ধরে কার্যক্রম চালাচ্ছে সামিট। গত ১৮ নভেম্বর সামিটের টার্মিনালের স্পেশাল রোপ ছিড়ে মুরিং বিচ্ছিন্ন হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে এলএনজি সরবরাহে বিঘœ ঘটে। সারাদেশে তৈরি হয় গ্যাসের সংকট।
পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, ৪ মার্চ ৩ হাজার ৮২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে পেট্রোবাংলা। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানিকৃত এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মাঝে চট্টগ্রামের জন্য ‘কর্ণফুলী’কে দেওয়া হয়েছে ২৭৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) বলছে, বর্তমানে সারাদেশে ৪ হাজার ২শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। গ্যাস সেক্টর মাস্টারপ্ল্যান খসড়া-২০১৭ অনুযায়ী ২০২২ সালে চাহিদা অনুযায়ী গড়ে ১৮শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকার কথা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের জন্য সরকারের ফার্স্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্প এবং আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লি. (জিটিসিএল)। এরপর ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট থেকে এক্সিলারেট এনার্জির ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করে আরপিজিসিএল।
দ্বিতীয় পর্যায়ে মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস প্যারালাল আরেকটি পাইপলাইন নির্মাণ করে জিটিসিএল। পরের বছরে ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার সামিট এনার্জির এফএসআরইউ যুক্ত হয় আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ কাজে। দুই এফএসআরইউ দিয়ে সর্বোচ্চ সাড়ে ৯শ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর সামিটের এফএসআরইউতে জটিলতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, সাগরের তলদেশে স্থাপিত মুরিংয়ের একটি স্পেশাল রোপ ছিঁড়ে যায় এফএসআরইউ থেকে। এরপর সামিট এলএনজির অপারেশন বন্ধ রেখে শুধুমাত্র এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করে আসছে আরপিজিসিএল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সামিটের এফএসআরইউটি চারটি পিলারের সাথে ৮টি স্পেশাল রোপ (বিশেষ তার) দিয়ে বাঁধা। একটি পিলারের একটি রোপ ছিড়ে যাওয়ায় গত ১৮ নভেম্বর থেকে টার্মিনালটির অপারেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর চীন থেকে ওই রোপ আনার পর মেরামত সম্পন্ন করে ১ মার্চ থেকে টার্মিনালটির অপারেশন শুরু হয়।’
তিনি বলেন, ‘স্পেশাল রোপগুলো অর্ডার দিয়ে তৈরি করতে হয়। চীন থেকে এই রোপ আনা হয়। এতে কিছুটা সময় লেগেছে।’
আরপিজিসিএলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সামিট টার্মিনাল ১ মার্চ থেকে পুরোদমে চালু করা হয়েছে। শুক্রবার ৫৭০-৫৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করেছে। আগামী ৬ মার্চ সামিট টার্মিনালে এলএনজি নিয়ে একটি ভ্যাসেল আসার শিডিউল রয়েছে। যে কারণে দ্রæত স্টোরেজ খালি করার জন্য বেশি করে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য এক্সিলারেট থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’