মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী. টেকনাফ:
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ পর্যটন উপঃ শহরে পুরোদমে শুরু হয়েছে জীবন বিধ্বংসি মরণনেশা ইয়াবা ও আইসের রমরমা ব্যবসা চলছে বেপরোয়াভাবে। তবে অতীতের চেয়ে পাচারের ধরন,পাচারকারী ও স্হান পরিবর্তন হয়েছে অনেক টা।সুত্রে জানায় ,অতীতে লোক মারফত ইয়াবা পাচার হলেও কিন্তু ইদানীং দুই-তৃতীয়াংশ পাচার হচ্ছে পরিবহন যোগে।এর পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ীতে।এর মধ্যে রয়েছে টেকনাফ থেকে দেশের অভ্যান্তরে যাওয়া পান,সুপারী,কাচা মাছ,শুটকি,কাচা আম,লবন,কাঠ,বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া পণ্যবাহী গাড়ী,ভাংঙ্গারী বুঝায় গাড়ী ইত্যাদি।এ ছাড়া টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী দুরপাল্লার গাড়ী।এর মধ্যে রয়েছে এস,এলাম,সৌদিয়া,রিলাক্স,শ্যামলী,সেন্টমার্ট ন পরিবহন, সেন্টমার্টিন হুন্ডাই,হানিফ,গ্রীন্ড সেন্টমার্টিন,লন্ডন এক্সপ্রেস,সেজুতিসহ ট্রাক,কভারভ্যান,এ্যামবুলেন্স,এনজিও এর গাড়ী,মেডিসিনের গাড়ী ইত্যাদি গাড়ীর যন্ত্রাংশের সাথে ইয়াবা ও আইস ফিট করে নিয়ে যাচ্ছে বলে স্হানীয় সুত্রে জানাযায়।
সুত্রে আরও জানা যায়,অনেক রোহিঙ্গা মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে যারা স্থানীয় মেয়েদের বিয়ে করে বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায় ও ভাড়া বাসায় থেকে এ পাচার কাজে জড়িয়ে রয়েছে।এদের মধ্যে অনেকে রয়েছে ইয়াবা ও আইস পাচারের নিত্য নতুন উপায়ে যোগান তৈরী করে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের লালু নামের এক রোহিঙ্গা জানায়,এক কারবারির সাথে সে দীর্ঘদিন এ যোগান তৈরির কাজে লিপ্ত ছিল,বিশেষ করে বিভিন্ন যানবাহনের গ্রীসের ডিব্বা,বালতি,টুল বাক্স’সহ নিত্য নতুন কৌশলে দীর্ঘদিন থেকে ইয়াবা আইস পাচার করছে সোলতান নামের এক বড় কারবারি।
এ কাজের সহায়তা কারীরা হচ্ছে গাড়ীর হেলপার,ড্রাইবার ও টিকেট কাউন্টারে থাকা লাইনম্যান হেলপার।ইয়াবা ডিলারগন গাড়ির ড্রাইভার,হেলপার ও টিকেট কাউন্টারে থাকা লোকজনদের সাথে অলিখিত চুক্তি করে নিয়ে যাচ্ছে কোটি,কোটি টাকার মাদক।ইয়াবা ডিলার গন দেশের অভ্যান্তরে থাকা তাদের লোক মারফত এই মাদক গ্রহন করে বিভিন্ন সেলসম্যানের নিকট সরবরাহ দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।টেকনাফ কক্সবাজার সড়ক সমুহের আইন শৃংখলার চেকপোস্টে যাত্রীদের যেভাবে চেক করা হয়।তেমনিভাবে যানবাহনগুলো চেকিং করা হলে লক্ষ লক্ষ পিসের ইয়াবার চালান আটক হবে বলে স্হানীয় সচেতন মহল জানান।স্হানীয় সুত্র জানায়,টেকনাফের কতিপয় ওয়ার্কসপ চম্বুক সিস্টেম বক্স তৈরি করে দেয় ইয়াবা কারবারিদের কে।এই বক্স ইয়াবা,আইস পুর্ণ করে টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া পরিবহনে ফিট করে দেয়।তা নিরাপদে পৌঁছে যায় নিদিষ্ট স্হানে।এভাবে নিয়ে যাচ্ছে মাদক।
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০২১ইং,৪ জানুয়ারি ২০২২ইং,৭ জানুয়ারি ২০২২ইং,৩ টি কাঠ ভর্তি ট্রাক টেকনাফ স্হল বন্দর হয়ে দেশের অভ্যান্তরে যাবার প্রাক্কালে টেকনাফ কক্সবাজার সড়কের মরিচ্যা বিজিবি চেকপোস্টে ইয়াবা সহ আটক হয়।গত ২২ জানুয়ারি টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি সুপারি ভর্তি ট্রাক বিপুল পরিমান ইয়াবা সহ আটক হয়েছে,বৃহসপতিবার ২৪ মার্চ ২০২২ইং ট্রাক যোগে মাছের চালানের সাথে নিয়ে যাওয়া ইয়াবা ঢাকায় আটক,গত ১০ মার্চ টেকনাফ থেকে ছেড়ে যাওয়া সেন্টমার্টিন পরিবহন প্রায় ১১ হাজার ইয়াবাসহ গাড়ির হেলপার হেলালকে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আটক করেন।এছাড়াও টেকনাফ উপজেলার প্রতিটি ইউপি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাওয়া প্রতিটি লবনবাহী ট্রাক ও কাভার্টভ্যানে করে পাচার হচ্ছে লক্ষ লক্ষ ইয়াবা,পাশাপাশি এ চোরাচালানে জড়িত রয়েছে শক্তিশালী ইয়াবাকারবারিদের নেটওয়ার্ক সেন্ডিকেট।এরা সবাই অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক মামলার পলাতক আসামি।
এভাবে প্রায় পরিবহনে মাদক আটক হচ্ছে।এ বিষয়ে টেকনাফে কর্মরত আইনশৃংখলা বাহিনী বিজিবি,কোস্ট গার্ড, ও থানার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান,সু-নির্দিস্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা প্রতিটি গাড়ি চেক করে আটক করছি।
ডিসি৭১/এমইউনয়ন