শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

সদরে পশুর হাটে দালালদের দৌরাত্ম্য: ক্রেতা-বিক্রেতারা বিপাকে

খোরশেদ আলমঃ

কক্সবাজার সদর উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কিন্তু হাটে দালালদের উৎপাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দালালেরা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন ইচ্ছেমতো টাকা। বর্তমানে দালাল ছাড়া পশু কেনাবেচা একরকম অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,কক্সবাজার জেলায় ৬৮টি পশুর হাট বসছে যার মধ্যে সদরে ১৪টি হাটবাজার আছে। এর মধ্যে কোরবানির পশু বেচাকেনা হচ্ছে খুরুস্শকুল রাস্তার মাথার পরিবর্তে বাসটার্মিনাল নারিকেল বাগান মাঠে ,খরুলিয়া বাজার,পি এম খালি জুমছড়ি চেরাংঘর বাজার ,এসব হাটে হাজারো গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়া বেচাকেনা হয়। কিন্তু হাটে গরু, মহিষ, ছাগল কিনতে ও বিক্রি করতে আসা লোকজন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। দালালেরা সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
কোরবানির হাটে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে এমন এক পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, গরু বা ছাগল ক্রয়-বিক্রয় করতে গেলে দালালদের শরণাপন্ন হতেই হবে। দালাল ছাড়া পশু কেনাবেচা অসম্ভব। কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা তাঁদের শরণাপন্ন না হলে তুলনামূলক কম দামে পশু বেচতে এবং বেশি দামে কিনতে হয়। পশু হাটে নিয়ে আসার আগেই মালিকদের সঙ্গে তাঁদের দাম রফা হয়। রফা হওয়া দামের বেশি যে টাকা বিক্রি হবে, সে টাকা ওই দালাল নিয়ে নেন। এ ছাড়া হাটে পশু নিয়ে আসার পরও দাম–দর ঠিক করা হয়। আবার তাৎক্ষণিক ক্রেতার উপস্থিতিতেও সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে তাঁরা কমিশন ঠিক করে নেন।
সদর খরুলিয়া হাট বাজার দিকে (০৩ জুলাই) কাল “রবিবার” গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাতলী গ্রামের ইসহাক। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি।ইসহাক আক্ষেপ করে বলেন, ‘ভাইজান আই নিজের গরু নিজে বিচিত ন পারির,সারা দিন বয় থাকি। দালাল ছাড় বিচিত ন পারিদ্দে।’
ইসহাকের পাশে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুহসনিয়া পাড়া গ্রামের আমানুল হক। তিনি বলেন,দালালের কাছোত ক্রেতা-বিক্রেতা জিম্মি হয়ে পড়েছে। পশু কেনাবেচার ক্ষেত্রে দালালই ভরসা। ওই জন্য এক দালালোক ধরি ৭৮ হাজার টাকা দিয়ে চুক্তি করি একটি গরু বিক্রি করি । গরু বিক্রি হয় ৮৬ হাজার আমাকে দিলে ৭৮ হাজার টাকা। বাকিটাক দালালে ভাগ করি নেয়।’
ওই হাটে কথা হয় ছাগল বিক্রি করতে আসা তেতৈয়া গ্রামের আলমের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘খালি গরু-ছাগল হাটোত নোয় মুরগির বাজারোত দালাল। দালালের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তবু প্রশাসনের লোক দালালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।’
কক্সবাজার আরও কয়েকটি  গরুর হাটে কথা হয় নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক গরুর কমিশন নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাবা, আমরা কিন্তু চুরি করি না। গরু বিক্রি সঠিক দাম ঠিক করি গরু বেচে দুই টাকা রোজগার করি। এতে দোষের কি? জোর করি তো কারও গরু নিয়া বেচাই না।’
কোরবানের বাজারে নিরাপত্তা বিষয়ে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো: হাসানুজ্জামান বলেন “কোরবানের পশুর হাটে প্রতিটি বাজারে ১টি করে পুলিশের টিম কাজ করবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও বিশেষ পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন থাকবে। উপজেলার সমন্বয় মিটিং এ সকল চেয়ারম্যানদের নিরাপত্তা বিষয়ে নানা ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দালালদের হাতে প্রতারিত হওয়ার কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *