খোরশেদ আল:
কক্সবাজারের কটেজ জোনে টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।সেখানে পর্যটকসহ স্থানীয়দের ধরে এনে জিম্মি করে মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায় করা হতো। না পেলেই চলতো অমানুষিক নির্যাতন।
রোববার (৭ আগস্ট) রাতে এই টর্চার সেলে অভিযান চালিয়ে আটকে রাখা ৪ জনকে উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। পাশাপাশি সংঘবদ্ধ চক্রের দালাল সদস্য ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে অপকর্মে ব্যবহৃত নানা উপকরণ।
উদ্ধার হওয়া ৪ জনের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককূল এলাকার ইফাজ উদ্দিন ইমন (১৭), একই এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৫) এবং টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ এলাকার দিল মোহাম্মদ (১৭) ও চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার মো. ইমরান (১৯) রয়েছে।
সংঘবদ্ধ চক্রের আটক সদস্যরা হলেন,
মো. আলমগীর (৪৫), মো. সেলিম (২০), আকাশ দাস (২৩), মো. জোবায়ের (২৮), মো. মামুন (২২), নাজির হোসেন (২৮), সেকান্দর আলী (২৮), মো. সোহেল (৩০), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৩), মো. জসিম (২৭) ও মো. পারভেজ (২৫)।
ট্যুরিষ্ট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া
দিল মোহাম্মদ ও ইমরান উখিয়া উপজেলার পালংখালী স্টেশনের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তারা রবিবার সকালে কক্সবাজার বেড়াতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য শিউলি নামের একটি আবাসিক কটেজে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া অপর দুইজন কক্সবাজার শহরে মায়ের চিকিৎসা করতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য ওই কটেজে উঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটনের আড়ালে কলাতলীর কটেজ জোন অপরাধের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে বেশ কয়েকটি টর্চার সেলে অপহরণ, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম জানান, ‘কথিত টর্চার সেলে কয়েকজন পর্যটককে দূর্বৃত্তরা জিম্মি রেখেছে খবরে ট্যুরিস্ট পুলিশের একটি দল রবিবার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের লাইটহাউজ এলাকা সংলগ্ন আবাসিক কটেজ জোন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।এতে সাইনবোর্ডবিহীন সন্দেহজনক শিউলি নামের কটেজ হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানে গেলে তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।’
ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা বিকল্প একটি পথে পালিয়ে গেছে। এসময় একটি কক্ষে জিন্মিদশা থেকে উদ্ধার করা হয় চার জনকে। একই সঙ্গে ওই কক্ষ থেকে নির্যাতন করার নানা উপকরণও জব্দ করা হয়।’
উদ্ধারকৃতদের তথ্য মতে, সেখানে ৫/৬ জন ছেলে ও ৩ জন নারী ছিল। দালালের মাধমে প্রলোভন দেখিয়ে পৃথকভাবে তাদের ওই কটেজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রবেশ করার পর সাথে থাকা নারীদের সাথে নানা আপত্তিকর ছবি তুলে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হয়। হাতিয়ে নেয়া হয় সব টাকা পয়সা। আরও টাকার জন্য পরিবারকে জানাতে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হয়।