বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন শামীম আরা স্বপ্না ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল ২১২ টাকা দেশে মজুদ গ্যাস দিয়ে ১২ বছর চলবে : জ্বালানিমন্ত্রী রামু থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ৫ আসামিসহ ১৫ জন গ্রেফতার ঈদগাঁও – ঈদগড় সড়কের গহীন পাহাড়ে পুলিশের ৪ ঘণ্টার দুঃসাহসিক অভিযান উখিয়া -টেকনাফ সড়কের মরিচ্যা চেকপোস্টে বিজিবির অভিযান: ১৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ নারী-পুরুষ আটক কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের ২৪ ঘন্টার চিরুনী অভিযানে ডাকাত ও ছিনতাইকারীসহ গ্রেফতার ১৫ রামু থানা পুলিশের অভিযানে ১ লক্ষ ৪ হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার’র আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল সম্পন্ন নাইক্ষ্যংছড়িতে বিজিবির উপর হামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা !!

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী জাফরের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

টেকনাফ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ২৯ মে। এর আগেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে প্রচারণায় ব্যস্ত থাকা আলোচিত জাফর আহমদের (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুদক। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে করা দুদকের মামলায় দাখিল হওয়া এ চার্জশিটে বলা হয়, ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাফর আহমদসহ ১১ সদস্যের পরিবারের ১৭ বছরের পারিবারিক ব্যয় মাত্র ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যা অস্বাাভাবিক মনে হয়েছে।

আরো বলা হয়, জাফর আহমদ তার নামে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪১ হাজার ৯৯ টাকা ঋণ থাকার ঘোষণা দেন। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে, তার নামে ঋণ রয়েছে ৭৪ লাখ ১৮ হাজার ৪৯ টাকা। জাফর আহমদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে সম্প্রতি চট্টগ্রাম আদালতে থাকা দুদকের প্রসিকিউশন শাখায় জাফর আহমদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন এ চার্জশিট দাখিল করেন।

দুদক পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু আজাদীকে বলেন, জাফর আহমদের বিরুদ্ধে দাখিলকৃত চার্জশিট ইতিমধ্যে আদালত দেখেছেন। আগামী ধার্য তারিখে (২০ মে) এটির গ্রহণ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। চার্জশিট দাখিলকারী ও দুদক কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন (তিনি মামলার বাদীও) তার দাখিলকৃত চার্জশিটে উল্লেখ করেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও জাফর আহমদ ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ৪ কোটি ৮০ লাখ ৯৪ হাজার ৫৩১ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন এবং ভোগ দখলে রেখেছেন। জানা গেছে, আসন্ন টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাফর আহমদের পাশাপাশি তার ছেলে দিদার মিয়াও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন।

আদালতসূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১ এপ্রিল দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম–২ এর উপ–সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাফর আহমদকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি ২ কোটি ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৪ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য প্রদান করেন। কিন্তু যাচাই করলে দেখা যায়, তিনি ৬ কোটি ২৩ লাখ ৮ হাজার ৭৩৫ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। এক্ষেত্রে তিনি ৩ কোটি ৬১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭১ টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি নিজ নামে ৩৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের ঘোষণা দেন। যাচাই করলে দেখা যায়, তার নামে ৫১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এক্ষেত্রে তিনি ১৭ লাখ ১০ হাজার ৬৩৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। অর্থাৎ জাফর আহমদের ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬৪ টাকা। যাচাই করলে দেখা যায়, তার নামে প্রাপ্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ৩ কোটি ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ১০ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। সেই হিসাবে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাফর আহমদ ২০০১–০২ কর বছর থেকে ২০১৭–১৮ কর বছর পর্যন্ত বেতন ভাতা, গৃহ সম্পত্তির আয়, কৃষি আয়, আমদানী ব্যবসার আয়, দান, ঋণ গ্রহণ ও জমি বিক্রি বাবদ ২ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ টাকা বৈধভাবে আয় করেছেন। এছাড়া তার পারিবারিক ব্যয়, কর পরিশোধ, জমি ক্রয়, গ্রহণকৃত ঋণের সুদ পরিশোধ ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৫ টাকা খরচ করেছেন। অর্থাৎ তিনি ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৪ হাজার ৩৭৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন এবং ৬৬ লাখ ৪১ হাজার ৬৪৫ টাকা পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় করেছেন। তার ব্যয়সহ মোট অর্জিত সম্পদের পরিমান ৭ কোটি ৪০ লাখ ৭৬ হাজার ১৯ টাকা। উক্ত সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৫০ লাখ ৬ হাজার ৮৯৫ টাকা। এক্ষেত্রে তিনি ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৯ হাজার ১২৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জন করে ভোগ দখলে রেখেছেন। যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৭ (১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আদালতসূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১লা এপ্রিল জাফর আহমদের পাশাপাশি তার স্ত্রী আমিনা খাতুনের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করে দুদক। সুত্র: আজাদী


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *