বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও তহসিলে নানা অনিয়ম দূর্নীতি জেঁকে বসেছে। সেটেলমেন্ট, তামিল ও রেকর্ড শাখা সহ আমলাখানার সহকারীদের অনভিজ্ঞতা এবং উমেদার ও দালাল নির্ভর কর্মকাণ্ডে সর্বত্র নৈরাজ্য বিরাজমান। ডিজিটাল ভূমি সেবার নামে দায়িত্বপ্রাপ্তরা প্রতিনিয়তই সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল দস্তাবেজ রক্ষাণাবেক্ষণে অবহেলা করছে। তাদের এমন গাঁছাড়া ভূমিকায় নথিপত্র গায়েব হচ্ছে। তামিল শাখায় উমেদারদের অত্যাধিক প্রতারণা এখন স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব প্রতারণা কান্ড নিয়ে প্রতিদিনই ভূমি অফিসে বাদানুবাদ পরিস্থিতি দৃশ্যমান। উমেদারদের পাশাপাশি দালালরুপি বাইরের লোকজনও রেকর্ড পত্রে হাত দিচ্ছে, মোবাইলে দাগ খতিয়ানের স্থির চিত্র নিচ্ছে। তা দেখেও না দেখার ভনিতা দেখাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
উমেদার ও দালালদের প্রশ্রয় দেওয়ায় এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এ শাখায় উমেদারদের কেউ কেউ খতিয়ানে মারাত্মক গোঁজামিলের সাথেও সংশ্লিষ্ট। তারা অবৈধ টাকা পেলেই নামজারি খতিয়ানে ওভার রাইটিং সহ ঘষামাজায় জমির প্রকৃতচিত্রও বদলান।নাল কে টিলা -টিলাকে খিলা বানিয়ে অসাধু ভূমিগ্রাসীদের সহযোগিতা দেন।রেকর্ডপত্রে অনধিকার হাত দিচ্ছেন দালালরা। এরা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্তাদের আস্হাভাজন হওয়ায় অধস্থনরাও বাঁধা দেন না।গত কয়েকদিন পূর্বে আবদু রহিম নামের এক মুন্সিকে রেকর্ডপত্রে হাতড়াতে দেখা গেছে।দালালদের মধ্যে ঈদগাঁওর মনছুর ও তার এক সহযোগী, সামসুল ইসলাম ওরফে হোন্ডা মলই সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে রেকর্ডপত্রে হাত দেয়া ও গুজামিলের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তহসিলে উমেদার নামধারী জয়নাল খোদ তহসিলদারের আসনে বসেই নানা অপকর্মে লিপ্ত।খসড়া খতিয়ান দেওয়া নিষিদ্ধ হলেও উমেদার জয়নাল টাকার বিনিময়ে এসব হস্তান্তর করছে দেদারসে। তহসিলদার ছৈয়দ নুর নিজেই উমেদার জয়নাল সহ তার এলাকার মনছুর ও হোন্ডা মলই সহ অন্য দালালদের সহযোগিতা দেন।গত ৩ মাস পূর্বে কানুনগো আশিষ তরু চাকমার শাখা থেকে গায়েব ঝিলংজা মৌজার বিএস খতিয়ান ২০০৩ এর মোট জমি থেকে সার্ভার বন্ধ রেখে রেকর্ড টেম্পারিং(সুক্ষ জালিয়াতি)র মাধ্যমে আরেকটি খতিয়ান প্রভাবশালীদের উপহার দিয়েছে এমন অভিযোগে তোলপাড় হয়েছিল । যদিও সেই হারানো খতিয়ান টি উদ্ধার হয়েছে বলে শাখা কর্তারা জানালেও তার সুনির্দিষ্ট কোন প্রমান মেলেনি।
এ শাখার উমেদার রহিম কানুনগোর কাছে খতিয়ানের ফাইল হস্তান্তরের আগে প্রতিটির জন্য ২শ টাকা করে সেবাপ্রার্থীদের দিতে বাধ্য করেন।
আমলাখানার সহকারীদের অনভিজ্ঞতায় ভূমি ব্যবস্হাপনায়ও লেজেগোবরে অবস্থা।তারা উমেদার নির্ভর হওয়ায় সরকারি বিধি নিষেধের চরম লঙ্ঘন ঘটছে সংশ্লিষ্টদের দপ্তরে। সায়রাত মহাল ক্রেডিট চেকিংও একই অবস্থা।দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা উমেদার ও দালালদের সহযোগিতা দেন অভিযোগ সেবাপ্রার্থীদের।
কয়েকজন সহকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। তাদের দুয়েকজনকে কর্মঘণ্টায় অফিসে পান না সেবাপ্রার্থীরা।
দালাল ও উমেদারদের আশ্রয় প্রশ্রয়ের ব্যাপারে সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছৈয়দ নুরের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি অফিসে গিয়ে দেখা করতে বলেন।
ভূমি অফিসে বিধি পরিপন্থী এসব কর্মকাণ্ড এবং উমেদার নামধারী দালালদের উৎপাত প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে সদর সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড)কে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এমনকি খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোন সাড়া মেলেনি।