শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন স্থানীয় এক আইনজীবি।
২ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ (সোমবার) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মো.জুলকারনাইন জিল্লু ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে এ লিগ্যাল নোটিশ দেন।
এডভোকেট জুলকারনাইন জিল্লু বলেন, শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশিদুল জান্নাতের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৭ ও ২৮ আগস্ট থেকে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ১ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক খুরশিদুল জান্নাতকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত থাকার আদেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু এর জের ধরে সোমবার (০২ সেপ্টেম্বর) সকালে সদ্য সাবেক প্রধান শিক্ষক খুরশিদুল জান্নাতের ইন্ধনে বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানোর অভিযোগ করেছেন আহত শিক্ষার্থী,ভুক্তভোগী শিক্ষক ও অভিভাবক। উক্ত হামলায় রক্তাক্ত জখমসহ গুরুতর আহত হয় বিদ্যালয়ে আশা ৪/৫ জন সাধারণ শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মো.জুলকারনাইন জিল্লু ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে উপরোক্ত লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এ হামলার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। হামলার কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে মানসিক আঘাত বা পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
লিগ্যাল নোটিশ প্রাপককে তিন দিনের মধ্যে এই হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। অন্যথায়, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকগণ বিজ্ঞ আদালতের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বহিরাগত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সাধারণ জনগন।
উল্লেখ্য প্রায় ২কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ঈদগাহ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক খুরশিদুল জান্নাতের পদত্যাগের দাবীতে সপ্তাহ ব্যাপী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পরিপ্রক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের সভাপতি সুবল চকমা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার নোটিশ প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ঠ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন সচেতন মহল।