শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন
সিন্ডিকেটের পকেটে প্রায় ৩ কোটি টাকা লোপাট
* রেকর্ডীয় মালিকদের অন্ধকারে রেখে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে টাকা তুলেছে সিন্ডিকেট
* অফিস সহকারী ও সার্ভেয়ারের রহস্যজনক আচরণ, ‘যা করার করে নিয়েছি’ মন্তব্য বাকেরুল্লাহর
*এলও কর্মকর্তার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবার
* ‘মামলা থাকলে টাকা দেওয়া যাবে না – এমন কোনো আইন নাই’ -এডিসি রাজস্ব
বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহণ (এলও) অফিসে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের এক নজিরবিহীন ঘটনা ফাঁস হয়েছে, যেখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, বিশেষ করে বিতর্কিত সার্ভেয়ার বাকেরুল্লাহর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৬ মে, ২০২৫ তারিখে এলও অফিসের ২ নং শাখা থেকে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের কালারমারছড়া মৌজার ৮৮৬ খতিয়ানের ২ একর ৭৭ শতক জায়গার ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে কক্সবাজার জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই ঘটনার এলও মামলা নং ৩/১৮-১৯।
★কোটি টাকা আত্মসাৎ এ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য!
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই জালিয়াতির মূল হোতা হিসেবে ভূমি অফিসের দালাল মামুনুর রশিদ ওরফে ‘চশমা মামুন’, এলও ২ শাখার অফিস সহকারী ফাওয়াজ মোহাম্মদ রিমন, এবং সার্ভেয়ার বাকীরুক ইসলামের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, দালাল মামুন একাই প্রায় ২৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন । স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আ’লীগের তারেক চেয়ারম্যান ও নোমান সিন্ডিকেটের অবৈধ কার্যক্রম আ’লীগ আমল থেকে এখনও এলও অফিসের দালালি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি, মামুনের বিরুদ্ধে কক্সবাজারের বিডিআর ক্যাম্পের চৌধুরী পাড়ায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি কিনে বাড়ি তৈরির অভিযোগও উঠেছে।
★ চলমান ৩ টি মামলার মধ্যেই ২.৭৪ কোটি টাকা উত্তোলন, সার্ভেয়ার-দালালচক্রের যোগসাজশ ফাঁসঃ
এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আরও গুরুতর কারণ, যে খতিয়ান (৮৮৬) ও রোয়েদাদ (৭/৮/৯/১০…) সংক্রান্ত ২.৫০০ একর জমির বিপরীতে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা নিয়ে মহেশখালী আদালতে অপর ৪৪৭/২০২২ এবং অপর ১২৪৫/২০২১, এছাড়া এডিসি রাজস্ব বরাবর ১৩১/২০২২ মামলা চলমান রয়েছে। বিস্ময়করভাবে, বিএস রেকর্ড অনুযায়ী টাকা উত্তোলনকারীদের নাম নেই। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া সত্ত্বেও এলও-২ ও এলও-৩ এর কর্মকর্তা এটিএম আরিফের স্ক্রল এডভাইস রিলিজের মাধ্যমে এই কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
ভূক্তভোগী রহমত আলীর ওয়ারিশগণের পক্ষে নূর বানু ২৫ মে, ২০২৫ তারিখে দুদক কক্সবাজার কার্যালয়, জেলা প্রশাসক ও ভূমি অফিস কার্যালয় বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাদের অভিযোগ, জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাদের প্রাপ্য টাকা মাওলানা শফিউল আলম, আব্দুল মোনায়েম, আবু বক্কর (ঝাপুয়ার আজিজুর রহমানের সন্তান) এবং ইলিয়াস, আবু তাহের, জকরিয়া ও গিয়াস উদ্দিনেরা (ফকিরজুমপাড়ার মনিরুজ্জামানের সন্তান) উত্তোলন করে নিয়েছেন। তারা মোট ৭টি চেকে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন। নূর বানু আরও জানান, মহেশখালী উপজেলা আ’লীগের সেক্রেটারি তারেক চেয়ারম্যানের বড় ভাই ভূমি অফিসের দালাল নোমানের সিন্ডিকেট প্রভাব খাটিয়ে এ টাকা উত্তোলন করা হয়।
★অভিযোগ সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য: ”দিনের আলোতে” জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি টাকা লোপাট!
ভূক্তভোগী পরিবার ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এল.এ. মামলা নং-০৩/২০১৮-১৯ এবং রোয়েদাদ নং-৭,৮,৯,১০,১২,১৩,১৪,১৫,২০,২১,৩২ এর আওতাধীন কালারমারছড়া মৌজার বি.এস. খতিয়ান নং-৮৮৬, ২.৫ একর জমি নিয়ে এই জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে। এই জমির বি.এস. রেকর্ডীয় মালিক রহমত আলীর ওয়ারিশগণই প্রকৃত দাবীদার। রহমত আলীর মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র মোক্তার আহমদ, লেদু মিয়া ও তিন কন্যা সাহারা খাতুন, মহুদা বেগম, খালেদা বেগম এই সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ মার্চ, ২০২৫ তারিখে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে বি.এস.-৮৮৬ নং খতিয়ানের রোয়েদাদ সংক্রান্ত একটি শুনানিতে উভয় পক্ষকে তাদের স্বপক্ষীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল। রহমত আলীর ওয়ারিশগণ তাদের আপত্তিসহ যাবতীয় কাগজপত্র ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার কাছে জমাও দেন। কিন্তু, অভিযোগ অনুযায়ী, উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে কোনো আদেশ প্রচার করার কথা থাকলেও, প্রকৃতপক্ষে কোনো আদেশই জারি করা হয়নি। এমনকি, সার্ভেয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে কোনো চেক প্রদান করা হয়নি বা কোনো আদেশ হয়নি বলে জানিয়েছিলেন।
ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ২৪ মে, ২০২৫ তারিখে লোকমুখে খবর পেয়ে সার্ভেয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তখনও রোয়েদাদ বহিতে কোনো কারেকশন হয়নি বলে দেখান। কিন্তু সেদিনই দুপুরের দিকে সার্ভেয়ার বাকেরুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে অফিস ত্যাগ করেন এবং পরে তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর দেখা যায়, রোয়েদাদ বহিতে কারেকশন করা হয়েছে, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই কারেকশনে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, চেক গ্রহীতা বা সার্ভেয়ার কারো স্বাক্ষর নেই!
নুর বানু, রহমত আলীর ওয়ারিশগণের পক্ষে যিনি এই অভিযোগ দায়ের করেছেন, তিনি দাবি করেছেন যে, মিচ মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও এবং মহেশখালীর সহকারী জজ আদালতে দুটি (অপর-৪৪৭/২০২২ এবং অপর-১২৪৫/২০২১) এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (রাজস্ব) একটি (অপর-নামজারী আপীল-১৩১/২২) মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন “জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে রাতের আঁধারে” ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান করা হয়েছে।
এই জালিয়াতি চক্রে যারা জড়িত বলে অভিযোগে নাম এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন: মো. ইলিয়াছ (পিতা: মৃত মনিরুজ্জামান, সাং: ফকিরজুম পাড়া, কালারমারছড়া), শফিউল আলম (পিতা: আজিজুর রহমান, সাং: যাওয়া সাতঘর পড়, কালারমারছড়া), খোরশেদ (পিতা: অজ্ঞাত, সাং: মহেশখালী), সার্ভেয়ার বাকেরুল ইসলাম (এলও শাখা, কক্সবাজার) এবং অফিস সহকারী ফাউওয়াস মোহাম্মদ রিমন (এলও শাখা-০২, কক্সবাজার)।
★কে এই বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়ার বাকেরুল?
এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সার্ভেয়ার বাকেরুল্লাহ, যার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২৫ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশে তাকে ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হলেও, এখনও তিনি কক্সবাজার এলও অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এই সুযোগে তিনি কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ।
★আইন বহির্ভূত আপষনামা; ১ একরের আপোষনামায় ৩ একরের জায়গার ক্ষতিপূরণ প্রদানের অভিযোগঃ
বাকিরুলের বিরুদ্ধে একটি আপোষনামার মাধ্যমে ঝাপুয়া মৌজার ১৪১ খতিয়ানের ১ একরের জায়গায় ৩ একর জমির টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মতো ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে, যেখানে তিনি একটি ফটোকপিকে প্রায় ৫০টি ফাইলে সংযুক্ত করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদক সার্ভেয়ার বাকিরুল অফিসে গিয়ে দেখতে পান, তিনি অফিস টাইমে সাধারণত থাকেন না, বরং অফিস সময় শেষে ৫টার পর কাজ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং এলও কর্মকর্তা আরিফ ও এডিসি রাজস্বকে জিজ্ঞাসা করতে বলে দায় এড়িয়ে যান। এমনকি তিনি প্রতিবেদককে ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বলেন, “আমাকে প্রত্যাহার করে দিতে বলেন ডিসি বা ঊর্ধ্বতনকে এতে আমার মাথাব্যথা নেই। কারণ আমার যা করার ইতিমধ্যেই আমি করে নিয়েছি।”
★রোয়েদাদ কারেকশনেও মহা জালিয়াতিঃ
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ৬ মে, অর্থাৎ চেক বিতরণের দিন, রোয়েদাদ বইয়ে চেকের বিস্তারিত তথ্য বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এন্ট্রি সম্পন্ন করা হয়নি।
আশ্চর্যজনকভাবে, চেক বিতরণের ১৯ দিন পর, ২৫ মে, অফিসের অনিয়ম ঢাকতে অফিস সহকারী রিমন ও সার্ভেয়ার বাকেরুল ইসলাম উমেদার কামরুলকে দিয়ে রোয়েদাদ বইয়ের তথ্যে কাটছাঁট করান। তবে, এই তথাকথিত ‘কারেকশন’-এর পেছনে যে গুরুতর জালিয়াতি রয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রোয়েদাদ বইয়ে চেক গ্রহণকারী এবং স্বয়ং ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তার স্বাক্ষর না থাকার কারণে।
বিষয়টি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, এলও কর্মকর্তা এটিএম আরিফ নিজেই রোয়েদাদের সাদা কপি এবং কারেকশন করা অংশের ছবি তুলে রেখেছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, কেন চেক বিতরণের সময় নিয়ম মানা হলো না? দেরিতে ‘কারেকশন’ এবং তাতে স্বাক্ষর না থাকা কি প্রমাণ করে যে, এটি একটি পরিকল্পিত জালিয়াতির অংশ? আর এলও কর্মকর্তা কেন এসব অনিয়মের ছবি তুলে রাখলেন, তা কি দায় এড়ানোর প্রচেষ্টা, নাকি দুর্নীতির প্রমাণ ধরে রাখার কৌশল?
★চেক বিতরণের ১৯ দিন পর চেক রেজিস্টার্ড বইয়ে চেকের বিস্তারিত আপডেট নিয়ে রহস্যঃ
এলও শাখার চেক রেজিস্টার্ড বহি চেক করে দেখা যায়, ৩০৮০-৩০৮৪ এই ৫ টি সিরিয়ালে টাকা তুলার নথি হাতে আসে। এতে দেখা চেক রেজিস্ট্রার বহির ৩০৮০ সিরিয়ালের চেক নং ০৯৭৬২৩৬ এর বিপরীতে ১,১৯,৮০,৯২৭ টাকা তুলে মোঃ ইলিয়াস নামের এক গ্রহীতা। ৩০৮১ সিরিয়ালের চেক নং ০৯৭৬২৩৭ এর বিপরীতে ৩৯,৯৩,৬৪২ টাকার চেক গ্রহীতা শফিউল আলম, ৩০৮২ সিরিয়ালের চেক নং ০৯৭৬২৩৭ এর বিপরীতে ২৬,৬২,১২৪, টাকার চেক গ্রহীতা আবু বক্কর, ৩০৮৩-৮৪ সিরিয়ালের চেক নং যথাক্রমে ০৯৭৬২৩৮-০৯৭৬২৪০ এর বিপরীতে আরও দুজনের নামে চেক গ্রহণ করে।
এই নতুন তথ্য ভূমি অধিগ্রহণ অফিসের কর্মকর্তাদের যোগসাজশ এবং সরকারি অর্থ লোপাটে তাদের প্রত্যক্ষ ভূমিকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
★ দায় এড়ানোর চেষ্টা: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশ্নবিদ্ধ বক্তব্যঃ
অফিস সহকারী রিমন এই বিষয়ে তার হাত ধরে ফাইল জমা হয়েছে স্বীকার করলেও, বড় অনিয়মের সাথে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি স্থান ত্যাগ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।
এলও-২ ও এলও-৩ শাখার এলও কর্মকর্তা এটিএম আরিফ জানান, উক্ত বিষয়ে ‘ভুল করে চেক দেওয়া হয়ে গেছে’। তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনে টাকা ফেরত আনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং প্রতিবেদককে আপাতত নিউজ না করার জন্য অনুরোধ জানান, যা তার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ভূয়া জাল-জালিয়াতি নথি দিয়ে কোটি টাকা লোপাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এডিসি রাজস্বের উপর দায় চাপিয়ে দেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) নিজাম উদ্দিনের বক্তব্য আরও বিস্ময়কর। তিনি বলেন, “মামলা থাকলে যে টাকা দেওয়া যাবে না এটা কোনো আইনে নাই। কেউ যদি ভুল তথ্য ও জাল জালিয়াতি ডকুমেন্টস সাবমিট করে কেউ টাকা তুলে নিয়ে যায় তাহলে সেটি নিয়ে আমরা ভেবে দেখবো।” মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও টাকা উত্তোলনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, “মামলা থাকলে কি আদালত উক্ত টাকা না দিতে কোনো অর্ডার দিয়েছে?” তার এই বক্তব্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
আদালতের মামলা থাকাকালীন রাতারাতি অবৈধভাবে জাল-জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলনে বিষয়ে এডভোকেট সেজান এহেসান বলেন,
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে একসঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মরত ৩২ জন সার্ভেয়ারকে বদলি করা হয়েছিল, যার মধ্যে বাকেরুলও ছিলেন। এরপরও তিনি ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে আবারও কক্সবাজার এলও শাখায় দায়িত্ব পান বলে অভিযোগ। সর্বশেষ ২৫ এপ্রিল, ২০২৫ তারিখে বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক তাকে আবারও ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হলেও, এডিসি রাজস্ব সে বিষয়ে জানেন না বলে দায় এড়িয়ে গেছেন।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাস: তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর হুশিয়ারি
জেলা প্রশাসক মোঃ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি আরও বলেন, “যদি মামলা থাকাকালীন জায়গার টাকা অন্যায়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চেক দিয়ে থাকে তাহলে সেটির জবাবদিহিতা নেব। এছাড়া যেসব দালাল ও টাউট ব্যক্তিরা এসব জালিয়াতির পক্ষে কাজ করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জনগণের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে। প্রশাসন এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।