মো: শাহীন, নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ২৮০ নং আলিক্ষ্যং মৌজার (সাবেক) মৌজা হেডম্যান, ছালামং মার্মা (৫০) হতে সরকারি খাঁস ভূমির জাল রিপোর্ট তৈরীর কাজে ব্যবহারিত একটি অবৈধ জালশীল উদ্ধার কেরেছে উপজাতি নেতা মাস্টার নিলামং মার্মাসহ বাইশারী ভূমি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা।
গত ( ১০ জুন) মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে বাইশারী বাজারের দক্ষিণ পাশে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, সাহা: সিরাজুর রহমান ( সজল কোম্পানির) নিজ বাসায় অবৈধ রিপোর্টে স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার সময় বাইশারী ভূমি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা তাকে তল্লাশি করেন। এ সময় তার কাছ থেকে সরকারি খাঁস ভূমির জাল রিপোর্ট তৈরীর করার কাজে ব্যবহারিত একটি অবৈধ জালশীল উদ্ধার করা হয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে বাইশারী বাজার সাংবাদিক অফিস মিডিয়া সেন্টারে নিয়ে আসে। এসময় ছালামং মার্মা বলেন , সকাল ১০ টার সময় তাকে ১ লক্ষ টাকা ও ১ টি নতুন মোবাইল ফোন দিবে বলে সজল কোম্পানি বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। সেখানে তার কাছ থেকে ১২ টি রিপোর্টে ব্যাকডেট দিয়ে স্বাক্ষর ও নিয়েছিল তিনি । পরে তাকে মাত্র ২৫০ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিদায় করেন। আর বাকী টাকা পাঠিয়ে দিবেন বলেও জানান তিনি।
পরে স্থানীয় উপজাতি নেতা মাস্টার নিলামং মার্মা ও ভূমি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা তার কাছ থেকে একটি মোছলেখা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
এই বিষয়ে বাইশারী ভূমি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবু তৈয়ব জানান, বাইশারী আলিক্ষ্যং মৌজায় দীর্ঘদিন যাবত ভূমিদস্যদের নিকট হইতে মোটা অংকের বিনিময়ে তিনি এসব জাল রিপোর্ট তৈরি করে সরকারের অনেক রাজস্ব নষ্ট করেছে। আজ আমরা তাকে সজল কোম্পানির বাসা থেকে বের হওয়ার সময় অবৈধ শীলসহ হাতেনাতে ধরেছি। আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষে কামনা করছি।
এই ব্যাপারে বাইশারী আলিক্ষ্যং মৌজার বর্তমান মৌজা হেডম্যান ডাক্তার মং থোয়াইলা মার্মা জানান, ভূমিদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে জাল রিপোর্ট তৈরি করে তিনি অনেক অপকর্ম করেছেন। তাকে আর ছাড় দেওয়া হবে না আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেছি।