advertisement

টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ২২, ২০২৬, ০৮:৫৬

টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং
নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে মাইকিং

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে গত দুই-তিন দিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাসকারী হাজারো মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো বড় ধরনের প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করে মাইকিং করা হয়েছে।


ঝুঁকিতে হাজারো পরিবার: পানিবন্দি নিম্নাঞ্চল স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানিয়েছে, ২১ জুন রোববার রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রবল বর্ষণ ২২ জুন সোমবার বিকেল পর্যন্ত অবিরামভাবে অব্যাহত থাকে। অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ, বাহারছড়া ও সদর ইউনিয়নের উত্তর লেঙ্গুরবিল, মিঠাপানির ছড়া পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারী শত শত পরিবার চরম ঝুঁকির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এদিকে শুধু পাহাড়ধসের আশঙ্কাই নয়, টানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা ও সদর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গ্রামীণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। 

featured banner


টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদ আহমেদ জানান, পাহাড়ের ঢালে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে বনকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সোমবার সকালে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিমের একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লারা অক্ষত ও নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান নিশ্চিত করেছেন। 


 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী জানান, “টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের বড় ঝুঁকি রয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে মাইকিং করছি। পাশাপাশি পানিবন্দি মানুষেরও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


”উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে মর্মান্তিক প্রাণহানির নজির রয়েছে। তাই এবার জানমালের ক্ষয়ক্ষতি শূন্যে নামিয়ে আনতে স্থানীয় প্রশাসন শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।


google-news-feed আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সম্পর্কিত খবর
এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেও ১০ বছর ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন

এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেও ১০ বছর ধরে কক্সবাজার পৌরসভার ৯ ও ১০ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার সালাহ উদ্দিন

উখিয়ায় নিখোঁজের দুই ঘণ্টার মধ্যে ৭ বছরের শিশুকে উদ্ধার

উখিয়ায় নিখোঁজের দুই ঘণ্টার মধ্যে ৭ বছরের শিশুকে উদ্ধার

উখিয়ায় মানসিক রোগী তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

উখিয়ায় মানসিক রোগী তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার

সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না

সিটি কর্পোরেশন হলে কক্সবাজার সদর উপজেলা থাকবে না

টেকনাফে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫

টেকনাফে ৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন রূপান্তর নিয়ে কিছু কথা

কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন রূপান্তর নিয়ে কিছু কথা

সর্বশেষ সংবাদ