পেকুয়ায় বিভিন্ন যানবাহনে কাঠ পাচারের মহোৎসব,নীরব বনবিভাগ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টৈটং ইউনিয়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কেটে বিভিন্ন গাড়ী যোগে পাচার করা হচ্ছে।এতে নীরব সংশ্লিষ্ট বনবিভাগ।
কাঠ বোঝাই ট্রলি করে পাচারের সময় পাহারাদারেরা গাড়ীটি জব্দ করেন।পরে ওই গাড়ীটি উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এঘটনায় এলাকাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান,গত রবিবার টৈটং ইউনিয়নের কেরুণ ছড়ি এলাকা থেকে বনজ গাছ কেটে অবৈধভাবে পাচারের সময় কাঠ ভর্তি একটি ট্রলি গাড়ি জব্দ করা হয়।
অভিযোগ, হাসানের জুম এলাকার আবদুল হকের ছেলে আমির হোছাইনের ছেলে মনু ও সরকার মোরার কালু এসব গাছ পাচার করছিলেন। টলি গাড়িটি চালাচ্ছিলেন লাল মিয়া।
বন পাহারাদার সর্দার ফিরোজ হাসানের জুম ব্রিজের ওপর গাড়িটি আটক করে বিষয়টি টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মোমিনকে জানান। পরে বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি বিট অফিসে নেওয়ার কথা বললেও পরে সেটি জব্দ না করে ছেড়ে দেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়,বনাঞ্চলের ভিতরে সদ্য কেটে ফেলা বড়-ছোট বনজ গাছের মোতা দেখা যায়।এখনো কাটা গাছের মোতা,ছোট ডালপাল রয়েছে।বাকী অংশটুকু সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় সম্প্রতি এসব গাছ কাটা হয়েছে। অপরদিকে একটি টলি গাড়িতে মোটা মোটা গাছের গুঁড়ি বহন করতে দেখা যাচ্ছে।স্থানীয় একটি গাছ পাচার সিন্ডিকেট ও কিছু অসাধু গাছ ব্যবসায়ী এসব অপরাধ কর্মে জড়িত বলে জানান স্হানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি,দিনে-রাতে টমটম, ট্রলি ও সিএনজিচালিত যানবাহনে করে কাঠ পাচার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টৈটং এলাকার অলী আহমদ ও কাশেম নামে দুই ব্যক্তিকে বিট কর্মকর্তা নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছেন।তাদের মাধ্যমে পাহাড়ে নতুন বসতি স্থাপন, বনজ গাছ কাটা, বালু উত্তোলন এবং পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়,কাঠ বহনকৃত প্রতিটি টমটম থেকে ২০০ টাকা এবং টলি থেকে ৪০০ টাকা করে মাসোহারা আদায় করা হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত মাসোহারার কারণেই টমটম, ট্রলি ও সিএনজিতে করে কাঠ পাচারের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এছাড়া টৈটং গর্জনিয়া পাড়ায় মো. করিম নামে এক ব্যক্তি সংরক্ষিত বনভূমিতে পাকা ভবন নির্মাণ করলেও বিট কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও নতুন বসতি গড়ে উঠছে, পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, বনজ গাছ উজাড় করা হচ্ছে। অথচ প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বিপরীতে অসহায় মানুষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় এলাকায় বিট কর্মকর্তাকে নিয়ে 'শক্তের ভক্ত, নরমের যম' এমন মন্তব্যও শোনা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় টৈটংয়ের পাহাড়জুড়ে সেগুন, গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছের ঘন বন ছিল। বর্তমানে অধিকাংশ পাহাড়ে শুধু কাটা গাছের গোড়া দেখা যায়, গাছ নেই। কোথাও কোথাও গাছ কাটার পর প্রমাণ নষ্ট করতে মোতা উপড়ে ফেলা বা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বন পাহারাদার সর্দার ফিরোজ জানান,আমি একটি গাছবোঝাই ট্রলি গাড়ি আটক করে বিট কর্মকর্তাকে খবর দিই। তিনি ঘটনাস্থলে এসে গাড়িটি বিট অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসানের জুম ব্রিজ থেকে নিয়ে যান। তখন তার সঙ্গে কাশেম নামে একজন ছিলেন। পরে জানতে পারি গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে টৈটং বিট কর্মকর্তা মোতালেব আল মোমিন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।কাঠ ভর্তি ট্রলি আটক করেনি,তাই ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা।আমি কাউকে দিয়ে মাসোয়ারা নেয়নি,ঘরবাড়ী তৈরীতে অভিযান করে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এদিকে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম করা বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্হা গ্রহণের দাবী জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।