advertisement
advertisement

কক্সবাজার ডিসি অফিসের এলএ শাখায় ফের সক্রিয় দালাল চক্র: জিম্মি সাধারণ ভূমিস্বত্বাধিকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ২৫, ২০২৬, ১১:৩২

কক্সবাজার ডিসি অফিসের এলএ শাখায় ফের সক্রিয় দালাল চক্র: জিম্মি সাধারণ ভূমিস্বত্বাধিকারী
ফাইল ছবি: জেলা প্রশাসক কার্যালয়, কক্সবাজার

কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দালাল চক্র। সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে এসে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 'দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত' প্রশাসনের শত প্রতিশ্রুতির পরও আড়ালে-আবডালে সক্রিয় এই সিন্ডিকেটের কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছেন প্রকৃত জমির মালিকরা।



অনুসন্ধানে জানা গেছে, এলএ শাখার কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে এই দালাল চক্রের। কোনো ফাইলের ক্ষতিপূরণের টাকা ছাড় করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাতে ত্রুটি বা 'খুঁত' বের করা হয়। এরপরই মূলত দৃশ্যপটে হাজির হয় দালালরা।


 ক্ষতিপূরণের চেকে স্বাক্ষর বা ফাইল অনুমোদনের জন্য মোট টাকার একটি নির্দিষ্ট অংশ (১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত) অগ্রিম বা চুক্তিভিত্তিক দাবি করা হয়। জমির খতিয়ান বা ওয়ারিশনামায় সামান্য ভুল থাকলেই ফাইল আটকে দেওয়া হয়। অথচ দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিলে সেই জটিলতা মুহূর্তেই 'গায়েব' হয়ে যায়। প্রকৃত মালিকদের হয়রানি করতে দালাল চক্র ভুয়া আপত্তি বা ভুয়া ওয়ারিশ খাড়া করে ফাইল লক করে দেয়, যাতে নিরুপায় হয়ে মালিকরা সমঝোতায় আসতে বাধ্য হন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, ডিসি অফিস চত্বর, পেছনের চায়ের দোকান এবং আশপাশের আইনজীবী সহকারী (মুহুরি) সমিতিকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি নিয়ন্ত্রিত হয়। এই চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্য এর আগে র্যা ব বা দুদকের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে এসে আবারও একই অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির চোখ ফাঁকি দিতে এখন তারা সরাসরি অফিসে না বসে হোয়াটসঅ্যাপ বা গোপন বৈঠকের মাধ্যমে লেনদেন সারছে।


মহেশখালীর এক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, *"আমার পৈতৃক জমির ক্ষতিপূরণের টাকা তুলতে প্রায় এক বছর ধরে ঘুরছি। সব কাগজ ঠিক থাকার পরও ফাইল নড়ছে না। অথচ একজন দালাল এসে বলল, ৩০% কমিশন দিলে এক সপ্তাহের মধ্যে চেক রেডি করে দেবে। আমরা নিজেদের টাকা তুলতেই এখন ফকির হওয়ার দশা।


সরকারের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যারা নিজেদের ভিটেমাটি দিয়েছেন, তারা এখন ডিসি অফিসে এসে দিনের পর দিন চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকেন। দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে সরকারের এই উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।


বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, এলএ শাখাকে শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দালালদের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল সিসিটিভি ক্যামেরা বা মৌখিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই চক্রকে থামানো যাবে না। এলএ শাখার ভেতরের কালো ভেড়াদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি ডিজিটাল এবং ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনতে হবে যাতে গ্রাহক ঘরে বসেই ফাইলের অগ্রগতি দেখতে পারেন।নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করতে হবে।


ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে এই চক্রের চিরতরে নির্মূল এবং এলএ শাখাকে প্রকৃত অর্থে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন।


google-news-feed
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে অজুফা বেগম

সাংবাদিককে ফাঁসাতে গিয়ে অবশেষে অস্ত্র মামলায় কারাগারে অজুফা বেগম

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় "ভুয়া ডিজিএফআই"পরিচয়কারী এক নারীক আটক!

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় "ভুয়া ডিজিএফআই"পরিচয়কারী এক নারীক আটক!

২১কোটি টাকার সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে বৃষ্টিতে চরম জনদূর্ভোগ

২১কোটি টাকার সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে বৃষ্টিতে চরম জনদূর্ভোগ

দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল হাশেম

দৈনিক কক্সবাজার একাত্তর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল হাশেম

রামুতে শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইউএনও জিল্লুর রহমান

রামুতে শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইউএনও জিল্লুর রহমান

টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং

টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং

সর্বশেষ সংবাদ