advertisement
advertisement

রাজস্বে জমা দেয়া টাকার অংক নিয়ে গড়মিল! মিয়ানমারের চোরাই পথে আসা চিংড়ি,কাঁকড়ার অঘোষিত বন্দর হোয়াইকং

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ২২, ২০২৬, ০৫:২৮

রাজস্বে জমা দেয়া টাকার অংক নিয়ে গড়মিল! মিয়ানমারের চোরাই পথে আসা চিংড়ি,কাঁকড়ার অঘোষিত বন্দর হোয়াইকং

টেকনাফ উপজেলার হোয়াইকং ইউনিয়নের লম্বাবিল, হোয়াইক্যং কুনাপাড়া, উনছিপ্রাং, ঝিমংখালী সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে প্রতিদিন শত শত টন চিংড়ি, কাঁকড়া প্রবেশ করছে। মিয়ানমারের চোরাই পথে আসা চিংড়ি,কাঁকড়ার অঘোষিত বন্দরে পরিনত হয়েছে হোয়াইকং। চিংড়ির আড়ালে আসছে মরণনেশা ইয়াবা ও আইস। 


জানাযায়,মাছের ইঞ্জিন চালিত নৌকা বিজিবি চেক পয়েন্টে আসার আগে মাদকের বস্তা হাত বদলে চলে যায় অন্য পথে। অনেক সময় মাছের ড্রামের নীচে ইয়া এনে থাকে। বিজিবি সম্প্রতি উনছিপ্রাং পয়েন্ট দিয়ে মোটা অংকের চালান ও জব্দ করার নজির রয়েছে। এ মাছ কাঁকড়ার আড়ালে মাদা আসছে।

সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বিজিবি ও কাস্টমস মিয়ানমারের কাঁকড়া ও চিংড়ির পিছনে শুল্ক আদায় করে থাকে কেজি হিসাবে। 

মাছ কাঁকড়া চেকিং শেষে কেজি হারে শুল্ক আদায় করা হয়।


স্থানিয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি হেড লেচ ৪০০,মাথা ওয়ালা ৩০০, লইল্যা ১২০,১৫০,ইলিশ ৭০০,

কাকড়া ১৫০ করে প্রতি কেজিতে শুল্ক আদায় করা হয়। তবে আপত্তিকর বিষয় হচ্ছে যারা ৫ লাখ,৭ লাখ,১০ লাখ টাকা শুল্ক বা টেক্স দিচ্ছে তাদের কে কোন প্রকার রশিদ দেয়া হয়না। ব্যবসায়ীরা ব্যবসার স্বার্থে টাকা জমা দেয়ার রশিদ বা রিসিভ কপি নিয়ে কোন প্রশ্ন তুলেনা।


অনেক সময় সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে একটি দালাল চক্র ৫ শ কেজির মাছ ২ শ বলে চালিয়ে দেয়। সরকারের রাজস্বে যেন এক শুভঙ্করের ফাঁকি। 

সূত্রটি আরো জানায়, প্রতিদিন চিংড়ি, কাঁকড়া থেকে শুল্ক আদায় করা হয় ৭০-৮০ লাখ। সময়ে অসময়ে কমবেশি হয়। তবে একদিনে এত বড় অংকের শুল্ক আদায় হলে এক মাসে কত হয়? তা খতিয়ে দেখার কেউ নেই। নেই কোন জবাবদিহিতা। 

জানা যায়, হোয়াইক্যং সীমান্তের যে পয়েন্ট দিয়ে,যে খাল দিয়ে মাছ,কাঁকড়া অনুপ্রবেশ করবে বাবুল মুস্তাফিজ চক্র মোটা দাগে একটি কমিশন নেয়। প্রতিটি নিলাম বা অকশনে তারা কাঁদা মাটি ভেদ করে হাজির হয় জায়গা মত। তাদের গ্রীন সিগনাল ছড়া মাছ কাঁকড়া নাকি আনতে পারেনা।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লম্বাবিলের চিংড়ি ব্যবসায়ী জানান, যাদের উচিলায় মাছ-কাঁকড়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে তারা একটা অংশ ভাগ তো পাবে।

তিনি আরো জানান, মাছ-কাঁকড়া মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আগে মাছে তিন ভাগের দুইভাগ টাকা মিয়ানমারের পার্টিকে জমা দিতে হয়। উক্ত টাকা বাবুল-মুস্তাফিজের মাধ্যম হয়ে মিয়ানমারে যায়। সে খানে বাবুল গং মোটাদাগে হাতিয়ে নেয় টাকা। এ ভাবে ঠান্ডা মাথায় কোটি কোটি টাকার পাহাড় গড়েছে বাবুল।


স্থানিয় ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা সরকার কে টেক্স দিয়ে মিয়ানমার থেকে চিংড়ি এনে থাকি। সুতরাং এখানে অবৈধ বলার কোন সুযোগ নেই। 


হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, বিনা রশিদে যেই টাকা আদায় করা হয়, সেই টাকা সরকারের কোষাগার কি পরিমাণ জমা হয় তা জবাবদিহি তা নেই। পুরো অসচ্ছ উপায়ে চিংড়ি ও কাঁকড়া আনা হচ্ছে। 


বালুখালী কস্টমসের ইনস্পেকটর মাসুদ আল হেলাল জানান,মাছ ও কাঁকড়া থেকে গেল ৪ মাসে এক কোটি প্লাস রাজস্ব পেয়েছে।

স্থানিয়দের দেয়া তথ্য মতে এদিনে ও পৌনে এক কোটি টাকা মত শুল্ক আদায় করা হয়। বাকি টাকা যায় কার পকেটে?


৬৪ বিজিবির অধিনায়ক জানান,মাছ পচনশীল হিসাবে আমরা কাস্টমসের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক নিলাম করে থাকি। তিনি সরকারের রাজস্বে দেড় কোটির চেয়ে বেশি টাকা জমা দিয়েছি বলে ও জানান।

google-news-feed
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রামুতে শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইউএনও জিল্লুর রহমান

রামুতে শিক্ষকদের মৌলিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ইউএনও জিল্লুর রহমান

টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং

টেকনাফে ভারী বর্ষণ: পাহাড়ধসের শঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরে যেতে মাইকিং

পেকুয়ায় বিভিন্ন যানবাহনে কাঠ পাচারের মহোৎসব,নীরব বনবিভাগ

পেকুয়ায় বিভিন্ন যানবাহনে কাঠ পাচারের মহোৎসব,নীরব বনবিভাগ

সর্বশেষ সংবাদ