
মহেশখালী শাপলাপুর ভূমি অফিস চলে বহিরাগত নয়নের নিয়ন্ত্রণে

নুরুল করিম, মহেশখালী প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কর্মচারী না হয়েও শেফায়ত ইসলাম নয়ন নামে এক ব্যক্তির দাপ্তরিক কাজে সম্পৃক্ততা, ভূমিসেবা প্রদান এবং সরকারি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নয়নকে ভূমি অফিসের কম্পিউটারে বসে ভূমিসংক্রান্ত কাজ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া নামজারি, দাখিলা ও পুরোনো খতিয়ান সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন এবং সরকারি নথিপত্রের আলমারির চাবি তাঁর কাছে থাকার বিষয়েও অভিযোগ রয়েছে। ভূমি অফিসের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পুকুরের ইজারার অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন।

শাপলাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ ও উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার। শামসুন্নাহার জানান, তিনি প্রায় আড়াই মাস আগে যোগদানের পর থেকেই নয়নকে অফিসে কাজ করতে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ফিরোজ তাঁকে ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন বলে তিনি জানেন।
অভিযোগের বিষয়ে শেফায়ত ইসলাম নয়নের বক্তব্য নেওয়ার জন্য আবার ভূমি অফিসে গেলে তাঁকে সেখানে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাড়িতে আছেন বলে জানান। এরপর তাঁর বাড়িতে গিয়ে সিসি ক্যামেরা ও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষসহ বাড়ির অবকাঠামো দেখা গেলেও নয়নের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি কিছুক্ষণ আগেই বাড়ি থেকে বের হয়েছেন। একাধিক নম্বর থেকে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ জানান, নয়ন শাপলাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অস্থায়ীভাবে কাজ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে এর দায়ভার ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ নেবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ভূমিসেবার নথি, সরকারি ফি আদায়ের হিসাব এবং পুকুরের ইজারার অর্থ জমার তথ্য যাচাই করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশন ভূমি রুবাইয়েত আহমেদ জানান নয়নের বিষয়ে আমি অবগত নয়, অফিসে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় না, তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
